ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুপুরের খাবারের পরে মাথাব্যথার কারণ জানুন এবং সমাধান


দুপুরের খাবারের পরে মাথাব্যথার কারণ জানুন এবং সমাধান

দুপুরের খাবার শেষে অনেকের চোখে ঘুম নেমে আসে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, এ সময় শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের গতি বিঘ্নিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাঞ্চের পর রক্তে শর্করার স্তরের দ্রুত ওঠানামা, বদহজম, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় খালি থাকার মতো কিছু কারণ মাথাব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।

অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার স্তর দ্রুত বাড়ে এবং পরে হ্রাস পায়, যা ক্লান্তি ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পাশাপাশি পনির, চকোলেট, এমএসজি-যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উপসর্গগুলোকে উসকে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুর ১টার পরে খাবার খেলে, তার আগে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। বিকেলে হালকা স্ন্যাকস খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং যদি প্রয়োজন হয়, নুন-চিনি মিশ্রিত শরবত পান করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সময় স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া এবং তীব্র রোদ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশ স্বাধীন করতে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একত্রে যুদ্ধের কথা বললেন নুরুল আমিন এমপি

মাথাব্যথা কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পরিবর্তে নিয়মিত অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাও উপকারী।

তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া, কপালে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, হালকা গরম সেঁক দেওয়া অথবা আদা চা খাওয়াও কার্যকর হতে পারে। তবে যদি মাথাব্যথা বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা বমি, ঝাপসা দেখা কিংবা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে লাঞ্চের পরবর্তী মাথাব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছ খেলে কি সত্যিই বাড়ে গ্যাস-অ্যাসিডিটি? জেনে নিন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


মাছ খেলে কি সত্যিই বাড়ে গ্যাস-অ্যাসিডিটি? জেনে নিন বাস্তবতা

মাছ আমাদের খাদ্য তালিকায় গুরুত্ব বহন করে। বাঙালিরা ছোট-বড় সবাই নিয়মিতভাবে মাছের তরকারি খান। অনেকেই দিনে একাধিকবার মাছ দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করেন। তবে কিছু মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে, মাছ খেলে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। কিন্তু এই বিশ্বাস কতটা সত্যি?

কলকাতার পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখার্জির মতে, মাছ সাধারণত সহজপাচ্য খাবার। তাই অধিকাংশ মানুষের জন্য মাছ খাওয়ার ফলে গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বরং মাছ শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাছের পুষ্টিগুণ

মাছকে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ধরা হয়। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, যেমন জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিয়মিত পরিমিত মাছ খেলে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়।

গ্যাস-অ্যাসিডিটি থাকলে কীভাবে মাছ খাবেন

যাদের গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের বেশি তেল ও মসলা দিয়ে রান্না করা মাছ থেকে নিঃসন্দেহে দূরে থাকা উচিত। সেক্ষত্রে কম মসলা দিয়ে রান্না করা হালকা মাছের ঝোল গ্রহণ করা যেতে পারে। সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে মাছ খেলে সাধারণত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

অ্যালার্জির বিষয়ে সতর্কতা

তবে সবার শরীর মাছের উপর একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কিছু বিশেষ মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাছ, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ খেলে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে পেটের সমস্যা, বমি, ডায়রিয়া বা অন্যান্য অস্বস্তির অনুভূতি দেখা দিতে পারে। তাই যে মাছ খেলে সমস্যা হয়, তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

ইলিশ, বোয়াল, ট্যাংরার মতো কিছু মাছে তুলনামূলক বেশি চর্বি থাকে। এই ধরনের চর্বি অনেকের হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের ফ্যাটযুক্ত মাছ খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

প্রতিদিন মাছ খাওয়া কি ক্ষতিকর?

অনেকে মনে করেন যে, প্রতিদিন মাছ খাওয়া উচিত নয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন মাছ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং এটি উপকারী হতে পারে। তবে ব্যক্তি বিশেষের শারীরিক অবস্থা ও তাদের সহনশীলতার ভিত্তিতে মাছের ধরন ও রান্নার পদ্ধতি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে মেস থেকে ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৮ এম


বরিশালে মেস থেকে ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসের ওই কক্ষটি কয়েকদিন ধরে ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘লাশের সার্বিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। আত্মহত্যা কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুরুষত্বের পেছনে শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ এম


পুরুষত্বের পেছনে শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

পুরুষদের শক্তি, আগ্রাসন এবং শক্তিমত্তার পেছনে মূল একটি উপাদান হিসেবে প্রায়শই টেস্টোস্টেরন হরমোনকে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণভাবে বলা হয়, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা যত বেশি, একজন পুরুষ তত বেশি শক্তিশালী ও লড়াইয়ে সক্ষম।

তবে, পুরুষত্ব নিয়ে গবেষণারত মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধারণাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল।

টেস্টোস্টেরনের আসল কাজ কী? সাধারণভাবে টেস্টোস্টেরনকে ‘পুরুষ হরমোন’ হিসেবে মনে করা হলেও, সকল লিঙ্গের শরীরে নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি তৈরি হয়। বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের শরীরে টেস্টোস্টেরন বেড়ে যায়, যা মাংসপেশি গঠন, চুল গজানো এবং শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে।

৩০ বছর বয়সের পর, এটি প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। যখন রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে চরম ক্লান্তি, কামবাসনা হ্রাস বা দ্রুত মাংসপেশি ক্ষয়ের মতো উপসর্গ তীব্রভাবে অনুভূত হয়, তখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ‘টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ প্রয়োজন হয়।

স্বাস্থ্যসেবায় একজন সুস্থ পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা ধরা হয় প্রতি ডেসিলিটারে ৩০০ থেকে ১,০০০ ন্যানোগ্রাম। একজন পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৭০০ হলেও, তিনি ৩০০ মাত্রা থাকা পুরুষের চেয়ে বেশি ‘পুরুষালী’ বা শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

শরীরে মাংসপেশি গঠনে হরমোনের ভূমিকা থাকলেও, শারীরিক শক্তির আসল চাবিকাঠি হলো উপযুক্ত অনুশীলন, ঘুম এবং খাদ্যাভ্যাস।

অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন সেবনের ঝুঁকি। সুস্থ মানুষের শরীরে বাইরে থেকে অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন প্রয়োগের বিষয়টি বেশ বিপজ্জনক। বাইরে থেকে এই হরমোন গ্রহণ করলে শরীরের নিজস্ব টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে অণ্ডকোষ সংকুচিত হওয়া এবং শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পরবর্তীতে, অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন তৈলাক্ত গ্রন্থি এবং চুলের ফলিকেলগুলোকে উত্তেজিত করে এবং শরীরে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত হয়। এর ফলস্বরূপ দেখা দিতে পারে ব্রণ, চুল পড়া এবং পুরুষদের স্তনের টিস্যু বৃদ্ধির (গাইনেকোমাস্টিয়া) মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা।

মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা ও মিথ। দীর্ঘ চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রক্তে উচ্চমাত্রার টেস্টোস্টেরন থাকলেই একজন মানুষ হিংস্র বা প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন—এমন কথার জোরালো প্রমাণ নেই। ২০০১ সালে ১০,০০০ মানুষের ওপর পরিচালিত ৪৫টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, টেস্টোস্টেরন এবং আগ্রাসী আচরণের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটাই সামান্য।

প্রকৃতপক্ষে, হরমোন মানুষকে নির্দেশ করে না, বরং মানুষের আচরণ ও পরিবেশ হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। এক গবেষণায় দেখা যায়, কাঠের বোর্ড গেম স্পর্শ করার চেয়ে ১৫ মিনিট হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ধরার ফলে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে।

অন্যদিকে, নতুন বাবা হওয়া পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা সন্তানকে যত বেশি লালন-পালন ও স্পর্শ করেন, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা তত কমে আসে। গবেষকদের মতে, পুরুষদের আগ্রাসী আচরণের মূল অনুঘটক হচ্ছে সামাজিক চাপ। পুরুষত্ব যখন হুমকির মুখে পড়ে অথবা তারা সমাজে ‘আদর্শ পুরুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাহ্যিক চাপ অনুভব করেন, তখন বেশিরভাগ পুরুষ আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখান।

সামরিক জীবন ও টেস্টোস্টেরন হ্রাস। একটিমাত্র অমূলক ধারণার বিপরীতে, সামরিক জীবনের কঠোর পরিশ্রম পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে এটি কমিয়ে দেয়। ২০২০ সালে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রশিক্ষণকালীন চরম ঘুমহীনতা ও তীব্র স্ট্রেসের কারণে পুরুষদের হরমোন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমে যায়। একে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘অপারেটর সিন্ড্রোম’ বলা হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব এবং ঘুমহীনতার ফলে অনেক ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়সি সৈনিকের শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৮০ বছরের প্রবীণ মানুষের সমপর্যায়ে নেমে যায়।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য অতিরিক্ত হরমোন ইনজেকশন দেওয়া ক্ষতিকারক হতে পারে; বরং উপযুক্ত বিশ্রাম ও স্ট্রেস কমানোই হলো একমাত্র সঠিক উপায়। সবশেষে, যুদ্ধ কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে কোনো পুরুষের প্রকৃত সহনশীলতা ও দক্ষতা একটি হরমোনের ওপর নির্ভর করে না। টেস্টোস্টেরন মানবদেহের একটি দরকারি জৈবিক উপাদান হতে পারে, তবে এটি একজন মানুষের সামর্থ্য বা আদর্শ পুরুষত্বের মাপকাঠি নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিত্যক্ত লাইফবোট থেকেই কোটি টাকার ব্যবসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ এম


পরিত্যক্ত লাইফবোট থেকেই কোটি টাকার ব্যবসা

জাহাজের স্ক্র্যাপ থেকে বের হয়ে আসা এসব লাইফবোট এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ছবির মধ্যে দেখা যাচ্ছে: আমার দেশ পত্রিকা। জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডে একসময় যেসব লাইফবোট পরিত্যক্ত সামগ্রী হিসেবে পড়ে থাকত, এখন সেগুলোই কোটি টাকার বাণিজ্যের উপকরণ হয়ে উঠেছে। সমুদ্রগামী জাহাজের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত লাইফবোটগুলো সংগ্রহ, সংস্কার এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। জাহাজের স্ক্র্যাপ থেকে বের হয়ে আসা এসব বোট বর্তমানে দেশের সমুদ্র, নদী, হাওর এবং পর্যটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মাছ ধরার, যাত্রী পরিবহনের, পর্যটন ব্যবসা থেকে শুরু করে বন্যা ও দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এসব জলযান।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী, মাদাম বিবিরহাট, মদনহাট, কদমরসুল, শীতলপুর এবং সোনাইছড়ি এলাকায় লাইফবোটের একটি জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এবং বিভিন্ন খালের মধ্যে সারি সারি ফাইবার লাইফবোট ও স্পিডবোট এখন এ এলাকার নতুন পরিচিতি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা, জেলে, পর্যটন উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ক্রেতারা এসে এসব বোট কিনছেন।

এ সম্পর্কিত সূত্র জানাচ্ছে, ফৌজদারহাট থেকে ছোট কুমিরা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় ৩০ থেকে ৪০টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড রয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা বড় জাহাজগুলো ভাঙার সময় উদ্ধার হয় লাইফবোটগুলো। পরে ব্যবসায়ীরা এসব বোট সংগ্রহ করেন টেন্ডারের মাধ্যমে। পুরোনো কাঠামো পরীক্ষা করে দক্ষ কারিগররা এগুলো মেরামত করেন, ফাইবারের কাজ, রং করাসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে সেগুলোকে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন।

এসএল শিপ ইয়ার্ডের মালিক লোকমান হাকিম জানান, জাহাজ ভাঙা কারখানায় আসা বড় জাহাজ থেকে প্রতিবছর শত শত ছোট, মাঝারি এবং বড় স্পিডবোট উদ্ধার করা হয়। ব্যবসায়ীরা টেন্ডারের মাধ্যমে এসব বোট সংগ্রহ করে নতুনভাবে প্রস্তুত এবং বিক্রি করেন। জাহাজ গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়লে নাবিকদের জীবন রক্ষার জন্য এসব লাইফবোট রাখা হয়ে থাকে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় জেলেরা গাছের তৈরি বড় নৌকা ব্যবহার করতেন। এখন সেই জায়গা দখল করেছে ফাইবার লাইফবোট ও স্পিডবোট। শক্তিশালী ইঞ্জিন বসিয়ে এসব বোট দিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছেন। কাঠের নৌকার তুলনায় এগুলো অধিক নিরাপদ, দ্রুতগতি সম্পন্ন এবং দীর্ঘস্থায়ী।

সীতাকুণ্ডের বাজারে আকার ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন দামের বোট পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ ফাইবার বোটের দাম ৫০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। ইঞ্জিনসহ মাঝারি আকারের লাইফবোট বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। আর উচ্চগতির রেসকিউ স্পিডবোটের দাম ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের নৌকার তুলনায় ফাইবার লাইফবোটের স্থায়িত্ব বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম। কাঠ পচে যাওয়া, নিয়মিত আলকাতরা দেওয়ার বা ঘন ঘন মেরামতের প্রয়োজন হয় না। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, পর্যটন উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব বোটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

বোট ব্যবসায়ী শওকত হোসেন বলেন, সীতাকুণ্ডের বোটের বাজার এখন চট্টগ্রাম অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এখানে বোট কিনতে আসছে। নোয়াখালী, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা এসব বোট নিয়ে যাচ্ছেন।

বাঁশবাড়িয়ার জেলে পাড়ার নিরঞ্জন ও উপেন্দ্র জলদাস বলেছেন, এ বোটে প্রয়োজন অনুযায়ী ইঞ্জিন বসিয়ে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা যায়। কাঠের নৌকার তুলনায় এটি অনেক বেশি নিরাপদ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব। মৎস্য আহরণের পাশাপাশি পর্যটন খাতে এসব লাইফবোটের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। দেশের বিভিন্ন লেক, হ্রদ এবং পর্যটন এলাকায় ছাদযুক্ত স্পিডবোট বর্তমানে পর্যটকদের চলাচলের এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। সিলেটের জাফলং থেকে আসা পর্যটন উদ্যোক্তা নুরে আলম জানান, তিনি পর্যটন এলাকায় ব্যবহারের জন্য ভালো মানের ও সাশ্রয়ী বোটের খোঁজে সীতাকুণ্ডে এসেছেন। এখন অনেক উদ্যোক্তা এখান থেকেই বোট সংগ্রহ করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের জাহাজে ব্যবহৃত লাইফবোটে বিশেষ ভাসমান ব্যবস্থা থাকায় এগুলো সহজে ডুবে যায় না। এ কারণে হাওর, নদী ও উপকূলীয় এলাকায় এগুলোকে নিরাপদ জলযান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে সীতাকুণ্ড থেকে ট্রাক ও ট্রেইলারের মাধ্যমে এসব বোট যাচ্ছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল, কাপ্তাই হ্রদ, রাঙামাটি, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

দুর্যোগকালেও এসব বোটের গুরুত্ব বাড়ছে। গত বছর ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার সময় সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্প এলাকার এসব স্পিডবোট ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, জাহাজ ভাঙা শিল্পের ফেলে দেওয়া সম্পদকে পুনর্ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এই বাজার এখন সীতাকুণ্ডের নতুন অর্থনৈতিক পরিচয় তৈরি করেছে। একদিকে যেমন তৈরি হচ্ছে নতুন ব্যবসার সুযোগ, অন্যদিকে দেশের নৌ অর্থনীতি, মৎস্য খাত এবং পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, সহজ অর্থায়ন, দক্ষ জনবল এবং পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত হলে সীতাকুণ্ডের লাইফবোটের এই বাজার ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পুনর্ব্যবহৃত নৌযান সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%