প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রসুন বহু বছর ধরেই রান্নার একটি পরিচিত উপাদান এবং ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে, রসুন কোলেস্টেরল কমাতে পারে—এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। তবে এই দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর প্রভাব খুব বেশি নয়। তাই এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ অথবা প্রমাণভিত্তিক জীবনধারার বিকল্প নয়।
রসুনে থাকা অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। তাজা রসুন থেঁতো বা কুচি করলে অ্যালিসিন তৈরি হয়। এসব উপাদান রক্তনালিকে সুরক্ষা দিতে এবং শরীরে কোলেস্টেরল উৎপাদন ও বিপাকের প্রক্রিয়ায় কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব সমস্যা কমাতে সহায়ক খাবার হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খেলে মোট কোলেস্টেরল এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে এই পরিবর্তন সাধারণত সীমিত। তাই কেবল রসুনের ওপর নির্ভর করে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রসুনের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় যখন এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মতো অভ্যাসের সঙ্গে রসুন খাওয়া হলে তা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য বেশি সহায়ক হতে পারে।
কতটা রসুন খাওয়া যেতে পারে? কোলেস্টেরল কমানোর জন্য প্রতিদিন ঠিক কতটা রসুন খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নেই। বিভিন্ন গবেষণায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রসুন কিংবা রসুনের নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, টানা দুই মাস প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম রসুন গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে কিছু উপকার মিলতে পারে।
তবে বেশি রসুন খেলেই যে বেশি উপকার হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিদিনের রান্নায় এক থেকে দুই কোয়া রসুন যোগ করাই যথেষ্ট। সর্বোপরি, রসুনকে একক সমাধান হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই শ্রেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন