ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কোলেস্টেরল কমাতে রসুনের ভূমিকা কতটুকু?


কোলেস্টেরল কমাতে রসুনের ভূমিকা কতটুকু?

রসুন বহু বছর ধরেই রান্নার একটি পরিচিত উপাদান এবং ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে, রসুন কোলেস্টেরল কমাতে পারে—এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। তবে এই দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর প্রভাব খুব বেশি নয়। তাই এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ অথবা প্রমাণভিত্তিক জীবনধারার বিকল্প নয়।

রসুনে থাকা অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। তাজা রসুন থেঁতো বা কুচি করলে অ্যালিসিন তৈরি হয়। এসব উপাদান রক্তনালিকে সুরক্ষা দিতে এবং শরীরে কোলেস্টেরল উৎপাদন ও বিপাকের প্রক্রিয়ায় কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল প্রকল্প ডিসেম্বরে চালুর পথে, ২২ জেলার যান চলাচল উন্নত হবে

প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব সমস্যা কমাতে সহায়ক খাবার হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খেলে মোট কোলেস্টেরল এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে এই পরিবর্তন সাধারণত সীমিত। তাই কেবল রসুনের ওপর নির্ভর করে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রসুনের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় যখন এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মতো অভ্যাসের সঙ্গে রসুন খাওয়া হলে তা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বেশি সহায়ক হতে পারে।

কতটা রসুন খাওয়া যেতে পারে? কোলেস্টেরল কমানোর জন্য প্রতিদিন ঠিক কতটা রসুন খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নেই। বিভিন্ন গবেষণায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রসুন কিংবা রসুনের নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, টানা দুই মাস প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম রসুন গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে কিছু উপকার মিলতে পারে।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর চিৎকারে ‘জুব্বা ও পায়জামা হাতে’ দৌড় দিলেন মাদরাসাশিক্ষক

তবে বেশি রসুন খেলেই যে বেশি উপকার হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিদিনের রান্নায় এক থেকে দুই কোয়া রসুন যোগ করাই যথেষ্ট। সর্বোপরি, রসুনকে একক সমাধান হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই শ্রেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুপুরের খাবারের পরে মাথাব্যথার কারণ জানুন এবং সমাধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৫ এম


দুপুরের খাবারের পরে মাথাব্যথার কারণ জানুন এবং সমাধান

দুপুরের খাবার শেষে অনেকের চোখে ঘুম নেমে আসে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, এ সময় শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের গতি বিঘ্নিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাঞ্চের পর রক্তে শর্করার স্তরের দ্রুত ওঠানামা, বদহজম, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় খালি থাকার মতো কিছু কারণ মাথাব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।

অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার স্তর দ্রুত বাড়ে এবং পরে হ্রাস পায়, যা ক্লান্তি ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পাশাপাশি পনির, চকোলেট, এমএসজি-যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উপসর্গগুলোকে উসকে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুর ১টার পরে খাবার খেলে, তার আগে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। বিকেলে হালকা স্ন্যাকস খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং যদি প্রয়োজন হয়, নুন-চিনি মিশ্রিত শরবত পান করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সময় স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া এবং তীব্র রোদ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাথাব্যথা কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পরিবর্তে নিয়মিত অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাও উপকারী।

তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া, কপালে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, হালকা গরম সেঁক দেওয়া অথবা আদা চা খাওয়াও কার্যকর হতে পারে। তবে যদি মাথাব্যথা বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা বমি, ঝাপসা দেখা কিংবা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে লাঞ্চের পরবর্তী মাথাব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছ খেলে কি সত্যিই বাড়ে গ্যাস-অ্যাসিডিটি? জেনে নিন বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


মাছ খেলে কি সত্যিই বাড়ে গ্যাস-অ্যাসিডিটি? জেনে নিন বাস্তবতা

মাছ আমাদের খাদ্য তালিকায় গুরুত্ব বহন করে। বাঙালিরা ছোট-বড় সবাই নিয়মিতভাবে মাছের তরকারি খান। অনেকেই দিনে একাধিকবার মাছ দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করেন। তবে কিছু মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে, মাছ খেলে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। কিন্তু এই বিশ্বাস কতটা সত্যি?

কলকাতার পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখার্জির মতে, মাছ সাধারণত সহজপাচ্য খাবার। তাই অধিকাংশ মানুষের জন্য মাছ খাওয়ার ফলে গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বরং মাছ শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাছের পুষ্টিগুণ

মাছকে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ধরা হয়। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, যেমন জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিয়মিত পরিমিত মাছ খেলে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়।

গ্যাস-অ্যাসিডিটি থাকলে কীভাবে মাছ খাবেন

যাদের গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের বেশি তেল ও মসলা দিয়ে রান্না করা মাছ থেকে নিঃসন্দেহে দূরে থাকা উচিত। সেক্ষত্রে কম মসলা দিয়ে রান্না করা হালকা মাছের ঝোল গ্রহণ করা যেতে পারে। সঠিকভাবে রান্না করা এবং পরিমিত পরিমাণে মাছ খেলে সাধারণত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

অ্যালার্জির বিষয়ে সতর্কতা

তবে সবার শরীর মাছের উপর একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কিছু বিশেষ মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাছ, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ খেলে অ্যালার্জির সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে পেটের সমস্যা, বমি, ডায়রিয়া বা অন্যান্য অস্বস্তির অনুভূতি দেখা দিতে পারে। তাই যে মাছ খেলে সমস্যা হয়, তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

ইলিশ, বোয়াল, ট্যাংরার মতো কিছু মাছে তুলনামূলক বেশি চর্বি থাকে। এই ধরনের চর্বি অনেকের হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের ফ্যাটযুক্ত মাছ খাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

প্রতিদিন মাছ খাওয়া কি ক্ষতিকর?

অনেকে মনে করেন যে, প্রতিদিন মাছ খাওয়া উচিত নয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন মাছ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং এটি উপকারী হতে পারে। তবে ব্যক্তি বিশেষের শারীরিক অবস্থা ও তাদের সহনশীলতার ভিত্তিতে মাছের ধরন ও রান্নার পদ্ধতি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে মেস থেকে ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২৮ এম


বরিশালে মেস থেকে ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস কর্মকারের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি মেসের কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেসের ওই কক্ষটি কয়েকদিন ধরে ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ‘লাশের সার্বিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। আত্মহত্যা কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুরুষত্বের পেছনে শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ এম


পুরুষত্বের পেছনে শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

পুরুষদের শক্তি, আগ্রাসন এবং শক্তিমত্তার পেছনে মূল একটি উপাদান হিসেবে প্রায়শই টেস্টোস্টেরন হরমোনকে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণভাবে বলা হয়, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা যত বেশি, একজন পুরুষ তত বেশি শক্তিশালী ও লড়াইয়ে সক্ষম।

তবে, পুরুষত্ব নিয়ে গবেষণারত মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধারণাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল।

টেস্টোস্টেরনের আসল কাজ কী? সাধারণভাবে টেস্টোস্টেরনকে ‘পুরুষ হরমোন’ হিসেবে মনে করা হলেও, সকল লিঙ্গের শরীরে নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি তৈরি হয়। বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের শরীরে টেস্টোস্টেরন বেড়ে যায়, যা মাংসপেশি গঠন, চুল গজানো এবং শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে।

৩০ বছর বয়সের পর, এটি প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। যখন রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে চরম ক্লান্তি, কামবাসনা হ্রাস বা দ্রুত মাংসপেশি ক্ষয়ের মতো উপসর্গ তীব্রভাবে অনুভূত হয়, তখন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ‘টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ প্রয়োজন হয়।

স্বাস্থ্যসেবায় একজন সুস্থ পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা ধরা হয় প্রতি ডেসিলিটারে ৩০০ থেকে ১,০০০ ন্যানোগ্রাম। একজন পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৭০০ হলেও, তিনি ৩০০ মাত্রা থাকা পুরুষের চেয়ে বেশি ‘পুরুষালী’ বা শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

শরীরে মাংসপেশি গঠনে হরমোনের ভূমিকা থাকলেও, শারীরিক শক্তির আসল চাবিকাঠি হলো উপযুক্ত অনুশীলন, ঘুম এবং খাদ্যাভ্যাস।

অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন সেবনের ঝুঁকি। সুস্থ মানুষের শরীরে বাইরে থেকে অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন প্রয়োগের বিষয়টি বেশ বিপজ্জনক। বাইরে থেকে এই হরমোন গ্রহণ করলে শরীরের নিজস্ব টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে অণ্ডকোষ সংকুচিত হওয়া এবং শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পরবর্তীতে, অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন তৈলাক্ত গ্রন্থি এবং চুলের ফলিকেলগুলোকে উত্তেজিত করে এবং শরীরে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত হয়। এর ফলস্বরূপ দেখা দিতে পারে ব্রণ, চুল পড়া এবং পুরুষদের স্তনের টিস্যু বৃদ্ধির (গাইনেকোমাস্টিয়া) মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা।

মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা ও মিথ। দীর্ঘ চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রক্তে উচ্চমাত্রার টেস্টোস্টেরন থাকলেই একজন মানুষ হিংস্র বা প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন—এমন কথার জোরালো প্রমাণ নেই। ২০০১ সালে ১০,০০০ মানুষের ওপর পরিচালিত ৪৫টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, টেস্টোস্টেরন এবং আগ্রাসী আচরণের মধ্যে সম্পর্ক অনেকটাই সামান্য।

প্রকৃতপক্ষে, হরমোন মানুষকে নির্দেশ করে না, বরং মানুষের আচরণ ও পরিবেশ হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। এক গবেষণায় দেখা যায়, কাঠের বোর্ড গেম স্পর্শ করার চেয়ে ১৫ মিনিট হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ধরার ফলে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে।

অন্যদিকে, নতুন বাবা হওয়া পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা সন্তানকে যত বেশি লালন-পালন ও স্পর্শ করেন, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা তত কমে আসে। গবেষকদের মতে, পুরুষদের আগ্রাসী আচরণের মূল অনুঘটক হচ্ছে সামাজিক চাপ। পুরুষত্ব যখন হুমকির মুখে পড়ে অথবা তারা সমাজে ‘আদর্শ পুরুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাহ্যিক চাপ অনুভব করেন, তখন বেশিরভাগ পুরুষ আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখান।

সামরিক জীবন ও টেস্টোস্টেরন হ্রাস। একটিমাত্র অমূলক ধারণার বিপরীতে, সামরিক জীবনের কঠোর পরিশ্রম পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে এটি কমিয়ে দেয়। ২০২০ সালে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রশিক্ষণকালীন চরম ঘুমহীনতা ও তীব্র স্ট্রেসের কারণে পুরুষদের হরমোন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমে যায়। একে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘অপারেটর সিন্ড্রোম’ বলা হয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব এবং ঘুমহীনতার ফলে অনেক ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়সি সৈনিকের শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৮০ বছরের প্রবীণ মানুষের সমপর্যায়ে নেমে যায়।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য অতিরিক্ত হরমোন ইনজেকশন দেওয়া ক্ষতিকারক হতে পারে; বরং উপযুক্ত বিশ্রাম ও স্ট্রেস কমানোই হলো একমাত্র সঠিক উপায়। সবশেষে, যুদ্ধ কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে কোনো পুরুষের প্রকৃত সহনশীলতা ও দক্ষতা একটি হরমোনের ওপর নির্ভর করে না। টেস্টোস্টেরন মানবদেহের একটি দরকারি জৈবিক উপাদান হতে পারে, তবে এটি একজন মানুষের সামর্থ্য বা আদর্শ পুরুষত্বের মাপকাঠি নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%