বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৮ এম
যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নির্বাচনী প্রার্থী জ্যাক রসের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ভাড়াটে খুনি দিয়ে হামলা ও হত্যা করার বিষয়ে আলোচনা এবং এ কাজে উগ্রডানপন্থি এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলজাজিরার গোপন অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে রসের কথোপকথন প্রকাশিত হওয়ার পর দলটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্কটল্যান্ডের পুলিশও প্রামাণ্যচিত্রটি পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে রস অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ছদ্মবেশী সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর কথাগুলো গুরুত্ব সহকারে বলা হয়নি।
আলজাজিরার অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘কন্ট্রাক্ট কিলারস অ্যান্ড দ্য ফার রাইট’। ২০২১ সালে এই অনুসন্ধান শুরু হয়। ওই সময় সংবাদমাধ্যমটির এক ছদ্মবেশী সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর (টিপিইউএসএ) স্বতন্ত্র সহযোগী সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউকে (টিপিইউকে)-তে যোগ দেন। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক রস ২০২৩ সালে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আলজাজিরার অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়, রস ওই ছদ্মবেশী সাংবাদিকের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর বাসিন্দা অ্যালান নেসবিটের পরিচয় করিয়ে দেন। নেসবিটের বিরুদ্ধে একাধিক সহিংস অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিষিদ্ধ আধাসামরিক সংগঠন আলস্টার ভলান্টিয়ার ফোর্সের (ইউভিএফ) সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে এসেছে।
গোপনে ধারণ করা কথোপকথনে রস বলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নেসবিট ও তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, ছুরিকাঘাত, গুলি এমনকি হত্যার ব্যবস্থা করতে পারেন। ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাল্পনিক ব্যবসায়িক বিরোধের কথা শুনে রস তাঁকে নেসবিটের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে নিজের সংশ্লিষ্টতা গোপন রাখার বিষয়েও তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।
আলজাজিরার অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, জিম্বাবুয়ের ওপর থেকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে জনসমর্থন দেখাতে একটি সাজানো রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের জন্য নেসবিটকে কয়েক হাজার পাউন্ড দেওয়ার বিষয়ে রসের আলোচনা হয়। এ ঘটনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও সামনে এসেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের উগ্রডানপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে আধাসামরিক সংগঠনের যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক জাতীয় অপরাধ সংস্থার উপপরিচালক রয় ম্যাককম্বের মতে, অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে উগ্রডানপন্থি আন্দোলনের যোগাযোগ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্যাক রসের সদস্যপদ অবিলম্বে স্থগিত থাকবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে দলটি আর মন্তব্য করতে চায়নি।
স্কটল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, আলজাজিরার প্রামাণ্যচিত্রটি পর্যালোচনা করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধে রসের দোষ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
টার্নিং পয়েন্ট ইউকের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং রিফর্ম ইউকের নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে আলজাজিরার অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী কর্মসূচিতেও সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলির আঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক কষ্টে ভোগ করছিলেন চট্টগ্রামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তানভীরুল ইসলাম। তিনি বিষপান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, কারণ তীব্র ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বিষপান করেছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।
তানভীরুল ইসলাম এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বায়েজিদ থানা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. আবু ইউসুফ এবং মা তাসলিমা বেগম। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার ভাড়া বাসায় বিষপানের পর তানভীরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুধবার রাতে জানাজানি হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, তানভীরুল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তার কোমরের এক পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। গুলির ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ায় তাকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হতো।
আরিফ মইনুদ্দিন আরও বলেন, তীব্র ব্যথার কারণে তানভীরুল প্রায়ই খুঁড়িয়ে হাঁটতেন এবং কষ্টে কান্নাকাটি করতেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা তার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল বলে তিনি মনে করেন।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে খাবার ডেলিভারি রোবটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রাহকদের মুখ ও হাতের জৈবিক তথ্য অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় দুই গ্রাহক দুটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তবে উক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত ৯ অক্টোবর কুক কাউন্টির আদালতে কোকো রোবোটিকস ও সার্ভ রোবোটিকসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি দলগত মামলা করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, রোবটের ক্যামেরা ও লেজারভিত্তিক পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে খাবার নিতে আসা গ্রাহকদের মুখ ও হাতের গঠনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা জানান, এই বিষয়ে তাদের পূর্বে জানানো হয়নি এবং নেওয়া হয়নি লিখিত সম্মতিও।
মামলার নথি অনুযায়ী, মিচেল ব্রাইডিঙ্গার নামের এক গ্রাহক ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন। তিনি রোবটের মাধ্যমে পণ্য নিতে চাননি, কিন্তু তার অর্ডার পৌঁছে দেওয়া হয় কোকোর একটি রোবটের মাধ্যমে। পণ্য নিতে গিয়ে সংকেত নম্বর দিতে হলে তার মুখ, মাথা ও হাতের ছবি এবং গঠনসংক্রান্ত তথ্য ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় দূর থেকে একজন কর্মী সরাসরি ভিডিও দেখছিলেন বলেও দাবি করেন।
অন্য মামলাকারী ব্যারি শেইন অভিযোগ করেছেন, সার্ভ রোবোটিকসের রোবটের মাধ্যমে তিনি তিনবার পণ্য পেয়েছেন। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর খাবারের অর্ডার তার পছন্দ ছাড়াই রোবটের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও ও যন্ত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ করে। কোকোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সংগৃহীত তথ্য ওপেনএআইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। মামলাকারীরা দাবি করেছেন, এসব তথ্য গ্রাহকদের নাম ও ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের জৈবিক তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের আগে গ্রাহককে লিখিতভাবে জানানো, সম্মতি নেওয়া এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ধ্বংসের নীতি থাকা প্রয়োজন। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাকারীরা প্রতি অবহেলাজনিত লঙ্ঘনের জন্য এক হাজার ডলার এবং ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া লঙ্ঘনের জন্য পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
কিন্তু কোকো ও সার্ভ—দুই প্রতিষ্ঠানই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোকোর দাবি, তারা শিকাগোতে গ্রাহকদের জৈবিক তথ্য সংগ্রহ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা যে তথ্য ভাগ করে, তা মূলত ফুটপাতের নিরাপত্তা ও চলাচলের পথ নির্ধারণে কাজে লাগে। সার্ভ জানিয়েছে, তাদের ক্যামেরা ও সেন্সর নিরাপদে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়; ব্যক্তিকে শনাক্ত করা বা তার জৈবিক পরিচিতির নথি তৈরির জন্য নয়।
শিকাগোতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এসব রোবটের ব্যবহার নিয়ে আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোবটগুলো ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের জায়গা আটকে দেয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং মানুষের ওপর নজরদারির ঝুঁকি তৈরি করে। চলতি বছরের মার্চে সার্ভের একটি রোবট বাসের অপেক্ষাগারের কাচ ভেঙে ফেলে। কয়েক দিন পর কোকোর আরেকটি রোবটও একটি বাসের অপেক্ষাগারের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
২০২২ সালে শিকাগোতে পরীক্ষামূলকভাবে রোবট চলাচল কর্মসূচি চালু হয়েছিল। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মে মাসে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। শহরের অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তা ও চলাচলের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের বাইরে ভ্রমণের নতুন আকর্ষণ হিসেবে তুলুজ, হো চি মিন সিটি, ওয়ারশ, মেডেলিন ও আবুধাবি উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, খাদ্য ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে শহরগুলো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন শহরগুলোর বাইরে নতুন গন্তব্য খুঁজছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তাদের জন্য ফ্রান্সের তুলুজ, ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, পোল্যান্ডের ওয়ারশ, কলম্বিয়ার মেডেলিন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং খাবারের বৈচিত্র্যে শহরগুলোর পরিচিতি বদলে যাচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের পরিচিত শহরগুলোর পাশাপাশি নজর দেওয়ার মতো ২৮টি শহর চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখান থেকে পাঁচটি শহর বেছে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শহরগুলোর পরিবর্তন ও পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।
তুলুজ, ফ্রান্স
ফ্রান্সের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর একটি হলো তুলুজ। আগামী চার বছরে শহরটির জনসংখ্যা ৫৭ হাজার বাড়তে পারে। স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় ও উন্নত জীবনমানের কারণে তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে শহরটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
লন্ডনে ১০ বছর থাকার পর তুলুজে ফেরা এলোদি পারামেলের মতে, বড় শহরের প্রাণচাঞ্চল্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি এখানে শান্ত জীবন উপভোগের সুযোগ রয়েছে। ক্যাফে, ককটেল বার ও ভালো খাবারের জায়গার সংখ্যা বাড়ছে।
প্যারিসে সাত বছর কাটিয়ে তুলুজে ফেরা মেলোদি টাইলার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটি অনেক বদলেছে। হাঁটা ও সাইকেল চালানোর পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হচ্ছে।
মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত তুলুজ। এখানে এয়ারবাসের বৈশ্বিক সদর দপ্তরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পর্যটকেরা সিতে দ্য লেসপাস মহাকাশ জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন। আর উড়োজাহাজের ইতিহাস জানতে যেতে পারেন অ্যারোস্কোপিয়া জাদুঘরে।
হো চি মিন সিটি, ভিয়েতনাম
ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় শহর হো চি মিন সিটি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে শহরটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ৫০টি শহরের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে এর অর্থনীতি জার্মানির বার্লিনের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
শহরটির পরিবর্তনের অন্যতম নিদর্শন প্রথম মেট্রোরেল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে চালু হওয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ শহরের কেন্দ্রের বেন থান বাজার থেকে সুয়ি তিয়েন থিম পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত।
আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপনা ও স্থানীয় সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঘুরে দেখা যায় সেন্ট্রাল পোস্ট অফিস, অপেরা হাউস ও ওয়ার রেমন্টস জাদুঘর।
খাবারের বৈচিত্র্য উপভোগ করাও ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। পর্যটকেরা চেখে দেখতে পারেন ভিয়েতনামি ব্যাগেট স্যান্ডউইচ বান মি, ভাঙা চাল দিয়ে তৈরি কোম তাম ও মুচমুচে প্যানকেক বান সেও।
কেন্দ্রীয় জেলা-১-এর বাইরেও রয়েছে ঘোরার মতো জায়গা। ঐতিহাসিক চায়নাটাউন চো লোনের বাজার, মন্দির ও ওষুধের দোকান যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি থাও দিয়েন এলাকায় রয়েছে বুটিক, গ্যালারি ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের দোকান।
ওয়ারশ, পোল্যান্ড
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শহরটি ১০০টির বেশি ধাপ এগিয়ে ৬১তম অবস্থানে উঠেছে। জীবনমানের সূচকে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও টোকিওর চেয়েও এগিয়ে রয়েছে শহরটি।
পোলিশ-অস্ট্রেলীয় কনরাড ওয়ারজেচার মতে, গত দুই দশকে ওয়ারশের পরিবর্তন অসাধারণ। নতুন রাস্তা, মহাসড়ক ও আকাশচুম্বী ভবন শহরের চেহারা বদলে দিয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তারও উন্নতি হয়েছে।
প্রথমবার ওয়ারশ গেলে প্যালেস অব কালচার অ্যান্ড সায়েন্স থেকে ঘোরাঘুরি শুরু করা যেতে পারে। সেখান থেকে নোভি শভিয়ান্ত সড়ক ধরে পৌঁছানো যায় ঐতিহাসিক পুরোনো শহরে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
শহর ঘুরতে ঘুরতে খেয়ে দেখতে পারেন পোলিশ ডোনাট পঁচকি। স্থানীয় বার মিলেচনি বা সাধারণ খাবারের দোকানেও মিলবে ঘরোয়া স্বাদের খাবার। পানীয়সহ তিন পদের খাবারের জন্য খরচ হতে পারে প্রায় ১৩ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই হাজার ১০০ টাকা।
মেডেলিন, কলম্বিয়া
একসময় বিপজ্জনক শহর হিসেবে পরিচিত মেডেলিন এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ব্যবসাকেন্দ্র হয়ে উঠছে। গত ২০ বছরে শহরটির ব্যবসা ও আর্থিক সেবাখাতে কর্মসংস্থান দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪০-এর দশকে মেডেলিনের গড় আয় বুয়েনস এইরেস ও সাও পাওলোর চেয়ে বেশি হতে পারে।
গত ১০ বছর ধরে শহরটিতে বসবাস করা প্যাট্রিক কুইন বলেন, একসময় মূলত দুঃসাহসী পর্যটকেরা মেডেলিনে আসতেন। এখন শহরটি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের জন্য রয়েছে মেট্রোকেবল। খাবার, শিল্প ও নকশার জগতেও বাড়ছে শহরটির পরিচিতি।
শহরের স্থানীয় সংস্কৃতি জানতে পর্যটকেরা যেতে পারেন পেরপেতুও সোকোরো এলাকায়। সেখানে রয়েছে নকশার দোকান, গ্যালারি ও কফির দোকান।
একসময় বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে পরিচিত কোমুনা ১৩ এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় গাইডের সঙ্গে এলাকাটি ঘুরে দেখলে দেয়ালচিত্র, চলন্ত সিঁড়ি ও সংগীতের পেছনের ইতিহাস জানা যায়। এ ছাড়া পবলাদো ও লরেলেস এলাকাও ঘুরে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত
একসময় তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আবুধাবি এখন প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আবাসন ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে কর্মীদের দক্ষতা ও শিক্ষার দিক থেকে শহরটির অবস্থান ষষ্ঠ। তেলবহির্ভূত অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও শহরটি আরও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবুধাবি ও শারজায় বসবাস করা মার্কিন নাগরিক মুনা আবু-হিজলেহের মতে, দুবাই বা শারজার তুলনায় আবুধাবি বেশি শান্ত ও খোলামেলা। এখান থেকে সহজেই সমুদ্রসৈকত, ম্যানগ্রোভ বন ও নিরিবিলি আবাসিক এলাকায় যাওয়া যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা জেরেমি সাভরির মতে, দুবাইয়ের জাঁকজমকের পাশাপাশি আবুধাবি তুলনামূলক স্থিতিশীল জীবনযাপনের বিকল্প। শহরটিতে সাংস্কৃতিক আয়োজনও বাড়ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবুধাবির সাদিয়াত দ্বীপে ২০২৫ সালে চালু হয়েছে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আবুধাবি ও জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম। স্থপতি ফ্র্যাঙ্ক গেরির নকশায় নির্মিত গুগেনহাইম আবুধাবি ২০২৬ সালের ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
শহরটিকে বুঝতে পর্যটকদের অন্তত এক দিন ধীরেসুস্থে কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন আবু-হিজলেহ। স্থানীয় ক্যাফেতে নাশতা করা কিংবা শপিং মলে ঘোরার মধ্য দিয়েও এখানকার জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়া সম্ভব।
বাইরে থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অত্যাধুনিক মনে হলেও আকাশচুম্বী ভবন ও বিলাসবহুল হোটেলের আড়ালে মানুষের দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সাধারণ। আবুধাবির এই বৈচিত্র্যও পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা হতে পারে।
নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে
আধুনিক অবকাঠামো, ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্থানীয় খাবার ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য সব মিলিয়ে এই পাঁচ শহর ভ্রমণপিপাসুদের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চাইলে শহরগুলো ভ্রমণের তালিকায় রাখার মতো গন্তব্য হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে একই দলে খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন এবং রনি তালুকদার। ভ্যাঙ্কুভার গার্ডিয়ান্সে তাদের সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বেশ কিছু পরিচিত ক্রিকেটার।
ভ্যাঙ্কুভার নাইটসের নতুন নাম ভ্যাঙ্কুভার গার্ডিয়ান্স। এই দলের হয়ে খেলার কথা রয়েছে স্কটল্যান্ডের জর্জ মানসি, দক্ষিণ আফ্রিকার কলিন ইনগ্রাম, আফগানিস্তানের হজরতউল্লাহ জাজাই এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেনার লুইসের। এছাড়া শ্রীলঙ্কার মালিন্দা পুষ্পকুমারা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহিদ আলীও এই দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তবে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ একই সময়ে তার নেপাল প্রিমিয়ার লিগে খেলার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, নাসির ও রনিকে নিয়মিতভাবে কানাডার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে দেখা যেতে পারে। নাসির ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে গেছেন।
এবারের গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগের ম্যাচগুলো কানাডার পরিবর্তে অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনে। টুর্নামেন্টটি চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ