০৬:৪৪ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষ এবং জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়।
গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সাথে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর জিও টিভির।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরিবর্তনশীল বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজেদের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষই অর্থনীতিতে এই বৈশ্বিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং জ্বালানির নির্বিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার কৌশল তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরোধিতার মধ্যেই পঞ্চমবার নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
বৈঠকে পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং সংকটের ধাক্কা সামলাতে সরকারের বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি ভতুর্কির বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট জাতীয় জ্বালানি নীতি নির্ধারণে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’কে সবচেয়ে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। বৈশ্বিক যেকোনো ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির উৎস এবং সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার ওপর তিনি জোর দেন।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন বাংলাদেশের উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্থায়িত্বের জন্য যুদ্ধ প্রশমন অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই সংকট বৈশ্বিক বাজারকে বিপর্যস্ত করছে। পাশাপাশি, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো সুরক্ষিত রাখতে পাকিস্তানের সফল প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
পাকিস্তান মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয় সামলাতে পূর্বপ্রস্তুতি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় পাকিস্তানকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাথে ভাগাভাগি করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়া আবদুল এল-সায়েদ কে?
ভবিষ্যতের যেকোনো বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে এবং যৌথ জ্বালানি চ্যালেঞ্জগুলো সামাল দিতে উভয় দেশই পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন