০৬:৩৮ পি.এম
চলমান ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নানা সমস্যায় পড়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে আসর শুরুর আগেই তারা চরম ভিসা জটিলতায় পড়ে। এ ছাড়া প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য নির্ধারিত টিকিট বিক্রির স্বত্বও পায়নি ইরান। বিশ্বকাপের মধ্যে আবার তাদের ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে ইরানের খেলোয়াড়রা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। আজ (২৭ জুন) গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইরান অধিনায়ক।
তারেমি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্বকাপে ইরানের সকল সমস্যার জন্য তিনি ফিফা ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ের অভিযোগও তোলেন। তারেমি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো পেশাদার টুর্নামেন্টে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়ার মতো নয়।”
তারেমির ক্ষোভ অবশ্য অযৌক্তিক নয়। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের ক্যাম্প করতে হয় মেক্সিকোতে। কথা ছিল, ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং ম্যাচের পরদিন মেক্সিকো ফিরে আসবে। পরে ফিফা জানায়, দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে ইরানকে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর ফিফা জানায়, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে তাদের আবার চলে যেতে হবে। অধিকাংশ ইরান দলের স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে তারেমির।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
তারেমি বলেন, “এটি জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটি তো কেবল শুরু...।’ অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী এবং আমরা তাদের পছন্দ করি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ইরানের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে দাবি করে তারেমি বলেন, “এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার মতো কোনো লজিস্টিক স্টাফ এখানে নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।”
ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেমি আরও বলেন, “আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। লোকে কী চায়, আমি জানি না। তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটাই পছন্দ করছে... তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে কেন?”
আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ মুখোমুখি হচ্ছে কে-কার
আজ মিশরের সঙ্গে ড্র করার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়েছে ইরান। নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট পেতে হলে এখন তাদের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন