ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্তমান সরকার জনগণের, জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী


বর্তমান সরকার জনগণের, জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

১৫ জুলাই ২০২৬, ২২:০০

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২২:০৯

বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি, আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করি। জনগণের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষা সরকারের পবিত্র আমানত বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।

রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে এমন বাংলা দেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে রাষ্ট্র এবং সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সর্বোপরি নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময়।’

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সদ্য পাস হওয়া বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব ও জনবান্ধব’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বাজেট পেশের পর বিভিন্ন স্বাধীন ও চুলচেরা বিশ্লেষণকারী সংস্থাও স্বীকার করেছে যে এই বাজেটটি অনেকটাই জনবান্ধব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের সুফল যদি দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হয়, তবে সরকারি প্রশাসন, বেসরকারি কর্তৃপক্ষসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণী-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি সংসদের সকল সদস্য এবং দেশের গণতন্ত্র-মনা জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ সবার প্রচেষ্টায় এই সংসদ আজ জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংসদে পরিণত হয়েছে।’

ছবি : পিএমও

বর্তমান সরকার কোনভাবেই কোন প্রকার চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেভাবে সরকারি দল এবং বিরোধী দল এই সংসদে কোন কোন বিষয় হয়ত দ্বিমত করেছি কিন্তু একই সাথে অনেক বিষয় আমরা একমতও পোষণ করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় দেবে না। আশা করি, এ ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাব ইনশাআল্লাহ।’

আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, ‘সমাজকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সমস্ত সেবা একটি মাত্র কার্ডের আওতায় নিয়ে এসে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ঋণ-নির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে একটি বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আগামী ৫ বছরে দেশের সরকারি ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করেছি।

আরও পড়ুন: নেজামে ইসলাম পার্টির পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি

আমি সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। আজকেই সবার সঙ্গে কথা বলে দুই লাখ চারা রোপণ করেছি। প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ করতে চাই। ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তোলা হবে, এতে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে, যার কারণে দেশের অর্থনীতি আজ সংকটে। বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি দমন করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর।’

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের সব রাজনৈতিক দল যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছিল এবং বিএনপির ঘোষিত যে ‘৩১ দফা’ রূপরেখা রয়েছে, সেটি এখন আর কোনো একক দলের নয়, বরং সেটি দেশের সাধারণ মানুষের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেফতার

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় এই অধিবেশন শুরু হয়। গত ৭ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। আইন প্রণয়ন কার্যালবলী শেষ করে আসরের নামাজের বিরতির পরে সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির রাষ্ট্রপতির আদেশ আসার কথা জানান ডেপুটি স্পিকার।

এরপরই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল-২০২৬ পাস, গঠিত হচ্ছে একক বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল-২০২৬ পাস, গঠিত হচ্ছে একক বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ

দেশের একক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপ  গঠনের উদ্দেশ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬ আজ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যখন বিলটি উত্থাপন করেন, তখন তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

নতুন আইনদ্বারা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বিলুপ্ত করার মাধ্যমে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ নামে একটি একক সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে।

বিলটি পাসের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সপ্তম জাতীয় সংসদ থেকেই এই বিল স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রচলন শুরু হয়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো আইন নয়।

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন আইনে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি সংস্থার কার্যক্রমে সময়ের সাথে ব্যাপক ওভারল্যাপ দেখা দিয়েছে। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করায় প্রকৃত অর্থে বিনিয়োগকারীরা 'ওয়ান-উইন্ডো' সেবা পাচ্ছিলেন না।

মন্ত্রী আরো বলেন, 'আমরা নতুন কোনো ধারণা চালু করছি না।' কারণ একই ধরনের দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও পুনরাবৃত্তি তৈরি হয়েছে। এজন্যই এসব সংস্থাকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার চাইলে বিলটি আরও আগে সংসদে আনতে পারতো, তবে এটি অধিবেশনের শেষ কার্যদিবসে আনা হয়।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'বিলে কোনো জটিল আইনি বিষয় থাকলে আমি এটিকে স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিতাম।' এবং বিরোধী দলের সদস্যদের বিলটির প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান।

মন্ত্রী জানান, কার্যপ্রণালি সংক্রান্ত বিধি শিথিল করা হয়েছে, তাই সদস্যরা মৌখিকভাবে সংশোধনী প্রস্তাব দিতে পারবেন। সংসদ সদস্যদের যৌক্তিক সংশোধনী ভবিষ্যতে বিবেচনা হবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী অধিবেশনে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই আইন মূলত বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে একীভূত করছে, নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রবর্তন করছে না। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে যৌক্তিক সংশোধনী গ্রহণেরও প্রকাশ্য অঙ্গীকার করেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সংসদের ফ্লোরে দেওয়া এই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা করেন।

পরে ডেপুটি স্পিকার ঘোষণা করেন যে, 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে। এর পর বিলটি তাৎক্ষণিক বিবেচনার জন্য গ্রহণ করে কণ্ঠভোটে পাশ করা হয়।

নতুন আইন অনুযায়ী, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দেশের একক বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়, বিনিয়োগ প্রণোদনা অনুমোদন, শিল্পাঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

এই আইনে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সব ধরনের অনুমোদন, লাইসেন্স ও পারমিটের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এতে অংশগ্রহণ সকল সরকারি সংস্থার জন্য বাধ্যতামূলক হবে। বিদ্যমান ওয়ান-স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্মগুলো ধাপে ধাপে নতুন প্ল্যাটফর্মে একীভূত করা হবে।

কর্তৃপক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের জন্য ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের সুপারিশ, বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা, শিল্প জমি বরাদ্দ তদারকি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প সম্পদের কৌশলগত ব্যবহার বা বিক্রির বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষমতাও অর্জন করবে।

নতুন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হবেন প্রধানমন্ত্রী অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি। অর্থ, জ্বালানি, পররাষ্ট্র, ভূমি, শিল্প, বাণিজ্য ও আইনবিষয়ক মন্ত্রীরা সদস্য থাকবেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এবং বেসরকারি খাতের চারজন প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে দুজন নারী পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

আইনটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০, বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ বাতিল হবে। বিলুপ্ত সংস্থাগুলোর সব সম্পদ, দায়, চুক্তি এবং জনবল নতুন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের রহস্যঘেরা ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ ধ্বংসের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ পি.এম


ইরানের রহস্যঘেরা ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ ধ্বংসের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝে এবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল কমপ্লেক্সটি মাটির গভীরে লুকানো রয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে খুব শিগগিরই মার্কিন সামরিক বাহিনী এই কমপ্লেক্সে হামলা চালাতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই স্থাপনাটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সুরক্ষিত সামরিক-পারমাণবিক কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শক্তিশালী বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও যাতে ক্ষতি করা না যায়, সেজন্য মাটির অনেক নিচে দুটি বিশাল সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে যা কয়েক শ মিটার গভীর।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ওয়াশিংটন সন্দেহ করছে যে, ইরান এই পাহাড়ের ভেতরে গোপনে উন্নত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। এটি মূলত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি ‘কৌশলগত ব্যাকআপ’ বা বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে ইরান সরকার ২০২০ সালে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকেই দাবি করে আসছে, এই স্থাপনাটি শুধুমাত্র উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও সাধারণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো গোপন পরিকল্পনা তাদের নেই।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিউ হিউইট শো’তে দিয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।" সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "আমরা এই এলাকা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে তেমন কোনো বড় কার্যক্রম এখন আমাদের চোখে পড়ছে না। তাদের পারমাণবিক অবস্থান খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই। যখনই আমরা কোনো সন্দেহজনক তথ্য বা তৎপরতার খবর পাই, আমরা তা ধ্বংস করে দিই। তাই তারা এ নিয়ে খুব একটা মুখ খুলতে চায় না। তবে খুব শিগগিরই আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বতে সরাসরি হামলা চালাতে পারি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করেন বিল্লাল, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করেন বিল্লাল, অতঃপর...

কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডসহ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ শুনানির পর আদালত দিয়েছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি শেষে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলাধীন পূর্ণমতি গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন জানান, ২০২৪ সালে বুড়িচং থানার মামলা নম্বর-৫ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-২৭১/২৬-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (২) ধারায় বিচার কার্যক্রম শেষে আসামি মো. বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিল আদালতের হাজতে উপস্থিত। রায় ঘোষণার পর আদালতের জারি করা মৃত্যুদণ্ড পরোয়ানার ভিত্তিতে বিল্লাল হোসেনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন আরও জানান, এই মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এই রায় দেন। এই ঘটনায় প্রথমে নিখোঁজের ডায়েরি হলেও পরবর্তীতে হত্যা মামলায় তদন্ত করে পুলিশ। তদন্তের সময় পুলিশ শিশুটিকে বলাৎকার করা হয়েছে বলে প্রমাণ পায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের চা দোকানদার আক্কাস মিয়ার নয় বছর বয়সী ইয়াসিন নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায় পরদিন অক্টোবরের ১ তারিখ বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজের ডায়রি করেন আক্কাস মিয়া।

এর চারদিন পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে শিশু ইয়াসিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ৬ অক্টোবর বিল্লাল হোসেন ও অজ্ঞাতদের আসামি করে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ইয়াসিন নিখোঁজের আগে প্রতিবেশীরা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে এক দোকানে নাস্তা করতে দেখে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ইয়াসিন নিজেও তার মা খোদেজা বেগমকে জানায় যে সে বিল্লাল হোসেনের সাথে নিমসার বাজারে যাবে। তারপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দুয়ায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ পি.এম


কেন্দুয়ায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

 

নেত্রকোনার প্রশাসন কেন্দুয়ায় বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪২টি অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। এ সময়ে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরের পর উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চিরাং বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনা করেন কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম উল ইসলাম চৌধুরী।

এ সময়ে কেন্দুয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. খাদিজা খাতুনসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানানো হয়, প্রতি সপ্তাহে বুধবার হাট বসে চিরাং বাজারে। এই হাটে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি করে আসছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরের পর উপজেলা সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে হাটে অভিযান চালিয়ে ২ জন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে ৪২টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৩৩৬ মিটার এবং আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। পরে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

আটক ২ জন ব্যবসায়ীকে দুইটি পৃথক মামলায় মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ জালের মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছ নিধন করা হচ্ছে, সেটা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর এ জালের ব্যবহার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা অভিযান শুরু করেছি। দেশীয় মাছ রক্ষায় আমাদের অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%