বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ পি.এম
নেইমারের অবসর এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দল গঠন শুরু করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। সেই প্রেক্ষাপটে ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার গুরুদায়িত্ব পান রানিফিয়া। বার্সেলোনার এই তারকা অনুপস্থিত থাকলে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে সবকিছু বদলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম পেনাল্টি নেওয়ার পর ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। ৮০ মিনিটে দ্বিতীয় পেনাল্টি গিমারায়েসের নেওয়ার কথা থাকলেও শট নিতে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচ শেষে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা তার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
বিশ্বকাপের পর থেকে ভিনিসিয়ুস নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই তাকে ফর্মে ফিরিয়ে আনতে গিমারায়েস ভিনির হাতে বল তুলে দেন। এ জন্য তিনি সতীর্থকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
ভিনিসিয়ুস বলেন, "রাফিনিয়া মাঠে না থাকলে, আমাদের পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব ব্রুনো গিমারায়েসের। আমি ভেবেছিলাম সে নিতে চাইবে, কিন্তু সে জানে যে বর্তমানে আমার কিছুটা আত্মবিশ্বাস দরকার। বিশ্বকাপে হেরে যাওয়া অনেক বড় ধাক্কা এবং সেটা মেনে নেওয়া কঠিন, আর ঘুরে দাঁড়ানোও সহজ নয়।"
পরে গিমারায়েসও তার পেনাল্টি না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার বলেন, "দলের সবার মধ্যে একতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এটাই কারণ ছিল (পেনাল্টিটা ভিনিকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে)। পেনাল্টির ঘটনার পর, অনেক কিছুই সামনে আসে। কিন্তু এখানে জাতীয় দলে, আমাদের মধ্যে কেউ ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবে না।"
আনচেলত্তি ভিনিকে পেনাল্টি নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। গিমারায়েস বলেন, "বিশ্বকাপে আনচেলত্তি আমাকে পেনাল্টি নিতে বলেছিলেন। আর আজ তিনি ভিনিকে নিতে বলেন। ভিনির একটা গোল করা খুব দরকার ছিল। সে খুব ভালোভাবেই সেটা করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের কারও মধ্যে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ভাবনা নেই। ব্রাজিলের জন্য কোনটা সেরা, সেটাই আমরা চাই। তার জন্য আমরা খুশি এবং এভাবে কাজ করে যাওয়াটাই আসল।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অনুষ্ঠিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর জমজমাট ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় লক্ষ্মীপুর একাদশ ও গোকর্ণ আব্দুল রহিম একাদশ। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পেয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা অর্জন করে গোকর্ণ আব্দুল রহিম একাদশ।
খেলা শুরুর আগে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন শ্যামল, সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহান এবং সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে নাসিরনগরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। মাঠের পাশাপাশি আশপাশের রাস্তা, টমটমের ছাদ, বিভিন্ন ভবনের ছাদ এমনকি গাছের ওপরও দর্শকদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত দর্শক ও স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি নাসিরনগরে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের ব্যবস্থা করার কথা জানান। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য মাঠের চারপাশে গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন, যাতে ভবিষ্যতে দর্শকরা আরও সুন্দর পরিবেশে খেলাধুলা উপভোগ করতে পারেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশ থেকে খেলোয়াড় এনে দলগুলোকে শক্তিশালী করা হয়েছে। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে গোকর্ণ আব্দুল রহিম একাদশের জয়ের মধ্য দিয়ে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর ফাইনালের পর্দা নামে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উনার জীবন, শিক্ষা, সাধনা ও দ্বীনি খেদমতের বিস্তারিত ইতিহাস
বাংলার ইসলামী অঙ্গনে যেসব মনীষী কুরআন-হাদিসের শিক্ষা, ইলমে কিরাআত, তাসাউফ, ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে দীর্ঘস্থায়ী অবদান রেখে গেছেন, তাঁদের মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জের ফুলতলী গ্রামের সন্তান শামসুল উলামা আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলা (রহ.) বিশেষভাবে স্মরণীয়। উনি একজন আলেম, মুহাদ্দিস, ক্বারি, লেখক, ওয়ায়েজ ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন।
জন্ম ও বংশপরিচয়
আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলা (রহ.) ১৯১৩ সালে তৎকালীন আসাম প্রদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ অঞ্চলের ফুলতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উনার পিতা ছিলেন বিশিষ্ট আলেম ও মুফতি মাওলানা মুফতি আব্দুল মজিদ চৌধুরী।
ছোটবেলা থেকেই উনি একটি ধর্মীয় ও জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। উনার পিতা ও পরিবারের আলেমদের কাছ থেকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি তৈরি হয়।
শৈশব ও প্রাথমিক শিজক্ষা
শৈশবেই উনার কুরআন শিক্ষা শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে উনি স্থানীয় আলেমদের কাছে কুরআন, তাজবিদ ও ইসলামী শিক্ষার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল আউয়াল ওরফে রবিনকে (২৪) ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে র্যাব-১-এর সহযোগিতায় বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। প্রায় আট মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর চার বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই (মাইজপাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী রবিন ওই নারীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের এলাকায় গেলে রবিন ইশারায় ওই নারীকে ডেকে একটি তালাবদ্ধ ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলে রবিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী নারী ইশারার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানান। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই রবিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিনের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে র্যাব-১-এর সহযোগিতায় ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে এবং অভিযোগের বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের অনুমতি চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ