মোঃ উজ্জ্বল মিয়া ,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল আউয়াল ওরফে রবিনকে (২৪) ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে র্যাব-১-এর সহযোগিতায় বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জন্মগতভাবে বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। প্রায় আট মাস আগে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর চার বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি খলিশাউড় ইউনিয়নের পাবই (মাইজপাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী রবিন ওই নারীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের এলাকায় গেলে রবিন ইশারায় ওই নারীকে ডেকে একটি তালাবদ্ধ ফাঁকা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় এক নারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলে রবিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগী নারী ইশারার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানান। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই রবিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিনের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে র্যাব-১-এর সহযোগিতায় ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে এবং অভিযোগের বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের অনুমতি চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা আরও বাড়ানো হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "সংকট সমাধান ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।"
তিনি বিভিন্ন খাতে, যেমন তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিতে আরও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরো এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের ও বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এ সকল সফর ও বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।"
তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "এই সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।"
রাষ্ট্রপতি এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চান। রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করে বলেন, "বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।"
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে। তিনি ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাবকেও স্বাগত জানিয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে তুরস্কের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন দেশটির দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলিউর্ট এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইসলাম গুরে।
বৈঠকে আলোচনা হয় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিমান চলাচল, পর্যটন, বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে।
বর্তমানে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
এ রুটে আরও তিনটি ফ্লাইট পরিচালনায় তুরস্কের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ আরও বাড়বে।
মন্ত্রী চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক যাতায়াতের চাহিদা রয়েছে। এসব বিমানবন্দর থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডা থেকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, আরো ১ হাজার ৩শ ৬৮ জন বাংলাদেশি দেশত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে (রিমুভাল-ইন-প্রোগ্রেস) রয়েছেন। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সিবিএসএ-এর তথ্য অনুসারে, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত কানাডা বিশ্বব্যাপী মোট ১৪ হাজার ৮শ ৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নাগরিক সংখ্যা শীর্ষে রয়েছে, যা ৪,২২৭ জন, এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো, যার সংখ্যা ২,২৮২ জন।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন, এবং রোমানিয়া থেকে ৪৩৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের হিসাব অনুযায়ী, ২২৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর ফলে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছিল, যা আগস্ট শেষে ৩৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।
অপসারণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অভিবাসন আইন না মানার ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এই কারণে, আশ্রয়ের আবেদন করার পরও ১২ হাজার ৫ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সিবিএসএ।
আশ্রয়প্রার্থী নন এমন আরো ১ হাজার ৭৯৪ জনের ক্ষেত্রেও একই কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ৮৯৭ জন এবং ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জনের অপসারণ ঘটেছে।
বহিষ্করণ আদেশগুলোর মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭টি ছিল ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপারচার অর্ডার এবং ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার।
এদিকে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় মোট ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন ছিলেন। এর মধ্যে ভারতের নাগরিক সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৫ এবং মেক্সিকোর নাগরিক সংখ্যা ৬ হাজার ১০২। বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৬৮ জন নিয়ে এ তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে। বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘দীর্ঘায়ুর যুগ : দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা (দ্য এইজ অব লংজিভিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস)।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতির ফলে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে; একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক রয়েছে। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ জনগণের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগণের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এ শুভক্ষণে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাঁর সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ