ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু


হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে তিনটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৮৬ দিনে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৩৯ জনে পৌঁছেছে এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা ৯২ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনটি শিশু ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ছিল।

আরও পড়ুন: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক

বিজ্ঞপ্তিতে এও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮০ জন, যাদের মধ্যে ৯৩৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৫৪ জন। সব মিলিয়ে গত ৮৬ দিনে সন্দেহজনক হামের আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৮৪ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ১৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩৩ জন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ১ হাজার ১৪ জনসহ মোট ৬২ হাজার ২৯২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

আরও পড়ুন: সারাদেশে হাম উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪৬৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে পিএসদের ভূমিকা অপরিহার্য : চিফ হুইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


সংসদকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে পিএসদের ভূমিকা অপরিহার্য : চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সহকারীরাই (পিএস) তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করার কারিগর। সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে পিএসদের সচেতনতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আজ মঙ্গলবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) থ্রিডি হলে আয়োজিত সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সহকারীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, আপনারা এত সকালে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, তাতে প্রমাণিত হয়... আপনারা আইন কানুন ও বিধি-বিধান শিখতে চান, আপনারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে আপনাদেরই মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক এবং পার্লামেন্ট প্রাণবন্ত ও কার্যকর হোক, সেটি আপনারাও চান।

ব্যক্তিগত সহকারীদের তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের সফলতার পেছনে তার সহকারীর অনেক বড় ভূমিকা থাকে। কারণ একজন সংসদ_MEMBER তার ব্যক্তিগত সহকারীকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে থাকেন, তার পরামর্শও শুনেন। সংসদ সদস্যদের সঠিক পথে বা সিরাতুল মুস্তাকিমে রাখার দায়িত্ব কিন্তু আপনার। কেয়ামতের মাঠে কিন্তু জবাব আপনাকেও দিতে হবে। এমপিরা সৎ কাজ করলে যেমন তার সওয়াবের ভাগ পাবেন, অসৎ কাজ করলেও আপনি পাপের ভাগীদার হবেন।

মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বাজেট শুধু সংখ্যা নয়। এটি জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ভিক্ষুক থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষ সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে থাকে। সেই ট্যাক্সের টাকা সুষম বণ্টন করে কীভাবে জনগণের উন্নয়ন করা যায়, সেই বিষয়ে আপনারা স্টাডি করবেন। বাজেট বিশ্লেষণের সকল তথ্য আপনারা বোঝার চেষ্টা করবেন এবং সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিশ্বকাপ-৯৪

মাদক কেলেঙ্কারিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন ম্যারাডোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


মাদক কেলেঙ্কারিতে ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন ম্যারাডোনা

ডিয়েগো ম্যারাডোনা মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় মোটেও সুখকর ছিল না। এই একটি গল্প যেখানে জড়িত চারটি বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, এমন এক ফুটবল কিংবদন্তির আখ্যান যাকে একই মলাটে পূজা করা হয়েছে আবার ঘৃণাও করা হয়েছে।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আসল গল্পটি ছিল বেশ সংক্ষিপ্ত। পুরো টুর্নামেন্টে তার খেলার সময় ছিল মাত্র দুটি ম্যাচ, মাঠের হিসেবে ঠিক ১৭৩ মিনিট। তবে এই ১৭৩ মিনিটের আগের প্রস্তুতি এবং পরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ম্যারাডোনার চতুর্থ ও শেষ বিশ্বকাপের আসল ট্র্যাজেডি।

১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের ফুটবলে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল। ১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লিগের আগমন ফুটবলকে স্রেফ একটি খেলা থেকে রূপ দিয়ে দেয় ‘ভোগ্যপণ্যে’। ৯০-পরবর্তী সময়ে নেপলসে থাকাকালীন মাফিয়াদের সঙ্গে ম্যারাডোনার যোগাযোগ এবং মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্তির গুঞ্জন আগে থেকেই বাতাসে ভাসছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯৯১ সালের মার্চে ফাঁস হয়ে যায় ম্যারাডোনার মাদককাণ্ড।

সেরি-আ লিগের একটি ম্যাচের পর এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার ডোপ টেস্টে কোকেনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর ফলস্বরূপ ফিফা তাকে ১৫ মাসের জন্য সকল ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করে। কিছু সূত্র দাবি করেছিল যে বার্সেলোনায় থাকার সময় থেকেই ডিয়েগো মাদকের সঙ্গে লড়াই করছিলেন; এবার সেই সব গুঞ্জন একটি নির্মম সত্যে রূপ নেয়।

ব্রিটিশ মেইডিয়া, যারা ম্যারাডোনার নামের পাশে সব সময় ‘প্রতারক’ শব্দটি ব্যবহারে ভালোবাসত, তারা এবার পরম আনন্দে তার গায়ে ‘নেশাখোর’ তকমা দিয়ে দিল। এই খবরটি ভক্তদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল। অনেকের জীবনে ম্যারাডোনা ছিলেন একমাত্র ‘নেশা’, যা তাদের বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। তার অনুপস্থিতির তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছিল তাদের।

ম্যারাডোনাকে ছাড়াই পরবর্তী বিশ্বকাপে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, ডিয়েগো সিমিওনে এবং অভিজ্ঞ ক্লদিও ক্যানিজিয়াকে নিয়ে গড়া আর্জেন্টিনা সহজে কোয়ালিফাই করবে—এটাই ছিল স্বাভাবিক ধারণা। তবে তা হলো না। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে হলে খেলতে হবে বাছাই পর্ব। আর সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে না পারলে বিশ্বকাপ বাসায় বসে দেখতে হবে আলবেসিয়েস্তাদের।

কিন্তু যখন বিপর্যয় ঘনিয়ে এলো, তখন গোটা আর্জেন্টিনা এক সুরে তাদের ত্রাণকর্তাকে ডাকল। বাসিলের দল কোনোমতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্লে-অফ খেলার সুযোগ পেল। এই শেষ বাধা পার করতে হলে তাদের ‘এল ডিয়েগো’-কে প্রয়োজন ছিল।

ম্যারাডোনা ফিরলেন আকাশি-সাদা জার্সিতে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র করার পর, বুয়েনস আইরেসে দ্বিতীয় লেগে ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১-০ গোলের এক কষ্টার্জিত জয় পায় আর্জেন্টিনা। গোলটি প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক পাল্টিয়ে জালে জড়ালেও আর্জেন্টিনার মানুষের তাতে কিছু যায় আসেনি—তাদের দল বিশ্বকাপে পৌঁছে গেছে, আর তাদের ত্রাতা স্বয়ং ম্যারাডোনা নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, এই ছিল পরম সত্য।

মুক্ত মানুষের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ শুরু হলো। ইংল্যান্ড না থাকলেও চেনা সব পরাশক্তিরা হাজির ছিল—ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি, হল্যান্ড, স্পেন এবং আর্জেন্টিনা।

মূল টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচের ঠিক আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যারাডোনা হঠাৎ দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। তার দাবি ছিল—তার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং আর্জেন্টিনার মানুষের এই বিশাল প্রত্যাশার মানসিক বোঝা তিনি আর বইতে পারছেন না। সাংবাদিকেরা ব্যাখ্যার দাবিতে দুই দিন ধরে তার বাড়ির সামনে তাঁবু গেড়ে বসে রইলেন। ম্যারাডোনা মুখে কিছু না বলে নিজের ড্রাইভওয়ে থেকে একটি এয়ার রাইফেল দিয়ে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে বসলেন! চারজন মিডিয়াকর্মী আহত হলেন, পুলিশ এলো এবং আইনি মামলা হলো।

অন্য গুঞ্জনটি ছিল আরো ভয়াবহ। বাতাসে ভাসছিল যে ফিফা নাকি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ম্যারাডোনার মাদক নেওয়ার ব্যাপারে জানত এবং টুর্নামেন্টে তাকে ফিট করার জন্য ডোপ টেস্ট থেকে এক ধরণের অলিখিত ছাড় বা ‘ইমিউনিটি’ দিয়েছিল। কারণ ফিফা ভয় পাচ্ছিল যে ম্যারাডোনা না থাকলে এই টুর্নামেন্টে দর্শকদের টানার মতো কোনো বড় ‘সুপারস্টার’ থাকবে না।

অবশেষে শুরু হলো পঞ্চদশ বিশ্বকাপ। ফক্সবোরো স্টেডিয়ামে ৫৪,০০০ দর্শকের সামনে গ্রিসের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ। কোনোমতে কোয়ালিফাই করলেও আর্জেন্টিনা ছিল অন্যতম ফেভারিট। আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবার তারা কেবল একজন বুড়ো ম্যারাডোনার ওপর নির্ভরশীল ছিল না, তাদের দলটি ছিল ভীষণ শক্তিশালী।

দুর্বল গ্রিসের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত খেলছিল। বাতিস্তুতার জোড়াগোলে প্রথমার্ধেই দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে। মাঠে ম্যারাডোনার একটি নতুন রূপ দেখা যায়। তিনি আর সেই আগের মতো বল পায়ে পেলেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হওয়ার ষাঁড়ের মতো দৌড়াচ্ছিলেন না; বরং এক টাচ বা ওয়ান-টাচ ফুটবলে পুরো দলের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। কম ছোঁয়াতেই তিনি ছিলেন মাঠের অধিপতি।

খেলার ৬০তম মিনিটে সেই নবজাগরণ পূর্ণতা পেল। গ্রিসের পেনাল্টি বক্সের বাইরে ছয়টি ওয়ান-টাচ পাসের এক নিখুঁত জাল বোনা হলো, যার শেষপ্রান্তে বল এলো ম্যারাডোনার বাম পায়ে। প্রথম টাচে বলটাকে নিয়ন্ত্রণে নিলেন, দ্বিতীয় টাচে শট নেওয়ার জায়গা তৈরি করলেন এবং তৃতীয় টাচে তার পা থেকে বের হওয়া বলটি বুলেটের গতিতে জড়িয়ে গেল গোলপোস্টের উপরের বাম কোণায়। গ্রিক গোলকিপার নড়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি!

চারপাশে চারজন ডিফেন্ডার ঘিরে থাকার পরও, সেই ১০ নম্বরের পায়ে তখনও পুরানো জাদুর সবটুকুই অবশিষ্ট ছিল। টেলিভিশনে বারবার বিভিন্ন কোণ থেকে সেই গোলের রিপ্লে দেখানো হচ্ছিল। আর একদম শেষ রিপ্লেতে দেখানো হলো তার সেই উদযাপনের দৃশ্য।

সাইডলাইনের দিকে দৌড়ে এসে ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখে সরাসরি তাকিয়ে আছেন ডিয়েগো; তার চোখ দুটো কোটর থেকে বের হয়ে আসার মতো বড় বড়, মুখ হা করা—যার ভেতর থেকে এক আদিম চিৎকার বের হয়ে আসছিল, এবং একপর্যায়ে নিজের মাথাটা ক্যামেরার লেন্সের একদম সামনে নিয়ে এলেন। হ্যান্ড অব গড কিংবা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ১০.৮০ সেকেন্ডের দৌড়ের মতোই এই ভিডিও ফুটেজটিও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম একটি আইকনিক দৃশ্য হয়ে গেছে।

৮৩ মিনিটে যখন ম্যারাডোনাকে তুলে নেওয়া হলো, পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দিল। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ৪-০ ব্যবধানে জিতল, বাতিস্তুতা তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন। বাছাইপর্বের সব কষ্ট মানুষ ভুলে গেল।

এরপরের ম্যাচ ছিল নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে। আফ্রিকান দলটিতে তখন ইউরোপের বড় বড় লিগে খেলা তারকাদের মেলা। ম্যাচের মাত্র ৮ মিনিটেই নাইজেরিয়া ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে চমকে দিল সবাইকে। তবে আর্জেন্টিনা প্যানিক করেনি। ২৮ মিনিটের মধ্যে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার জোড়া গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে আলবিসেলেস্তেদের হাতে। আর দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল ম্যারাডোনার এক চতুর ও দ্রুত নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে।

আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতল। কিন্তু ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠের এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল—এক মেডিকেল নার্সের হাত ধরে মাঠ ছাড়ছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ডোপ টেস্টের জন্য কোনো ফুটবলারকে এভাবে নার্স বা কর্তৃপক্ষের প্রহরায় মাঠ থেকে নিয়ে যাওয়া ফুটবলের মাঠে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে অত্যন্ত বিরল একটি দৃশ্য। তবে ম্যারাডোনার মুখে তখন চওড়া হাসি ছিল, গ্যালারির দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছিলেন, আর অন্য হাতটি তখনও সেই নার্সের হাতের মুঠোয়।

ঠিক চার দিন পর, ২৯ জুন; ফিফার তৎকালীন ‘সততার প্রতীক’ সেপ ব্লাটার ঘোষণা করলেন, ‘উভয় মূত্র নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়া ম্যাচে ডোপিং নিয়ন্ত্রণ বিধি লঙ্ঘন করার দায়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।’

ম্যারাডোনার শরীরে ‘এফিড্রিন’ নামক নিষিদ্ধ ড্রাগ পাওয়া গিয়েছিল। এই ড্রাগ মূলত পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি হুলিও গ্রন্দোনা সিদ্ধান্ত নেন, বিতর্ক এড়াতে হলে ম্যারাডোনাকে দল থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

ম্যারাডোনা নিজেও জানতেন সেই কথা। নিষিদ্ধ হওয়ার পর ম্যারাডোনা প্রেস কনফারেন্সে বললেন, ‘ওরা আমার পা কেটে ফেলেছে।’ তাঁর দাবি ছিল, ব্যক্তিগত ট্রেইনার তাঁকে ‘রিপ ফুয়েল’ নামের এনার্জি ড্রিংক দিয়েছিলেন, যা আর্জেন্টিনায় বৈধ। তবে সেটার আমেরিকান ভার্সনে ছিল এফেড্রিন, যা তিনি জানতেন না।

অভিযোগ তোলেন, তাকে নিষিদ্ধ করে বাজার বাড়াতে চেয়েছে ফিফা। সত্যি বলতে ’৯৪ বিশ্বকাপের আমেজ বহুগুণে বেড়ে গিয়েছিল ম্যারাডোনার নিষেধাজ্ঞার পর।

আর এই নিষেধাজ্ঞায়ই শেষ হয়ে যায় ম্যারাডোনার ১৭ বছরের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। বিশ্বকাপ থেকে ফিরে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে আরো দুই বছর খেলে ফুটবল থেকে বিদায় নেন এই মহাতারকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চাইল ইসলামী ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চাইল ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, কারণ সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) বা নগদ সংরক্ষণ হার কমে গেছে।

বর্তমানে ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়ার ঘিরে গ্রাহকরা গত কয়েক দিনে প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।

ব্যাংকটির পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়ার ঘটনাটি ঘটে এই ঘটনার পরপরই।

আজ মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ‘খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে ব্যাংকটির সিআরআর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। তবে গত এক সপ্তাহে গ্রাহকদের আতঙ্কজনিত অর্থ উত্তোলনের কারণে সিআরআর নেগেটিভে চলে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রিকোয়ারমেন্ট (চাহিদা) রয়েছে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার। আমরা এর চেয়েও বেশি রাখতে সক্ষম ছিলাম। তবে বর্তমান সংকটের কারণে তা কমে ২,৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা আমাদের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এখনও পজিটিভ রয়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, সিআরআর ঘাটতিতে চলে যাওয়ার পর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা চাইছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমালোচনার জবাব দিলেন নাজনীন নীহা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


সমালোচনার জবাব দিলেন নাজনীন নীহা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রচারিত নাটকগুলোর মধ্যে ‘মায়া পাখি’ দর্শকমহলে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। নাটকটির গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয় প্রশংসিত হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কিছু বিষয় নিয়ে কিছু সমালোচনাও দেখা গেছে। বিশেষ করে, নেটিজেনদের একটি অংশ নাটকে কর্মজীবী নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘মায়া’-এর অভিনেত্রী নাজনীন নীহা। তিনি বলেছেন, নাটকে যে ঘটনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব ভিত্তি রয়েছে এবং গল্পের জন্য সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

নীহা জানিয়েছেন, বাস্তব সমাজে এমন অনেক ঘটনা ঘটে এবং সেই বাস্তবতাকেই নাটকের গল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, নাটকে অবাস্তব বা অপ্রাসঙ্গিক কিছু দেখানো হয়নি। বরং, এতে দর্শকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বার্তাও রয়েছে। কারণ, খারাপ কাজের পরিণতি কখনো ভালো হয় না—এটি নাটকটি দেখলে দর্শকরা বুঝতে পারবেন।

নাটকটির ইতিবাচক সাড়ার বিষয়েও আলোকপাত করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সহশিল্পী জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবং নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিনের সহযোগিতার কারণেই কাজটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। নীহা তার ভাষায় বলেন, অভিনয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা তাকে নিয়মিত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তিনি নিজের জায়গা থেকে সর্বদা সর্বাধিক চেষ্টা করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তিনি এখনও নিজেকে নতুন শিল্পী মনে করেন এবং শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছেন। দর্শকদের ভালোবাসা এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাকে আরও ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করছে।

উল্লেখ্য, জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত নাটক ‘মায়া পাখি’-তে নাজনীন নীহার বিপরীতে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব অভিনয় করেছেন। নাটকটির গল্প ও ভাবনাও অপূর্বর। প্রকাশের পর নাটকটি ইউটিউবে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%