ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকায় কাওয়ালি সন্ধ্যা ‘ইশক-এ-নুসরাত’ নুসরাত ফতেহ আলী খানকে শ্রদ্ধা জানাতে


ঢাকায় কাওয়ালি সন্ধ্যা ‘ইশক-এ-নুসরাত’ নুসরাত ফতেহ আলী খানকে শ্রদ্ধা জানাতে

ঢাকায় বিশেষ কাওয়ালির আসর বসছে কিংবদন্তি সুফি সংগীতশিল্পী ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের সংগীত ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ‘ইশক-এ-নুসরাত’ শিরোনামের এই আয়োজনের মধ্যে কাওয়ালি পরিবেশনার পাশাপাশি সুফি নৃত্য, ফটো গ্যালারি ও বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে।

আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি এলাকার কেআইবি অডিটরিয়ামে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনস।

আয়োজকদের মতে, অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সুফিতান’ এবং দেশের প্রথম কাওয়ালি ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাফস’ কাওয়ালি পরিবেশন করবে। এছাড়া ‘এইচইউ সুফি ট্রুপ’ সুফি নৃত্য পরিবেশন করবে। নুসরাত ফতেহ আলী খানের জীবন ও সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ ফটো গ্যালারি ও ট্রিবিউট এক্সিবিশন থাকবে। পুরো আয়োজনস্থল সুফি ভাবনায় সাজানো হবে।

আরও পড়ুন: শাহরুখের ৬১তম জন্মদিনে ‘মান্নাত’-এ দেখা মিলবে না

ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাকিব হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ইশক-এ-নুসরাত শুধুমাত্র একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়; এটি কিংবদন্তি ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং তাঁর সংগীতের চিরন্তন আবেদন উদ্‌যাপনের একটি বিশেষ উদ্যোগ।’

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটায় দর্শনার্থীদের জন্য অডিটরিয়ামের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। মূল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে এবং রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

সীমিত আসনের এই অনুষ্ঠানে প্রবেশের টিকিটের দাম ৯৯৯ টাকা থেকে শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: টম ক্রুজকে ছেড়ে বেতো মন্টেনেগ্রোর প্রেমে মজলেন আনা দে আরমাস?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনা সেতুর অবকাঠামোয় অর্থায়নে নতুন বিকল্প উৎস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


যমুনা সেতুর অবকাঠামোয় অর্থায়নে নতুন বিকল্প উৎস

দেশের মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। যমুনা সেতুর ভবিষ্যৎ টোল আয়কে নগদায়ন বা ‘অ্যাসেট মনিটাইজেশন’ করার উদ্দেশ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘যমুনা সেতু সুকুক আল-ইজারা’ (ইসলামিক বন্ড) পুঁজিবাজারে ছাড়ার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিনিয়োগ সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিবির প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের তৈরি এই কৌশলগত প্রস্তাবনাটি যদি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি ব্যাংক এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ কমিয়ে নতুন মহাসড়ক ও বন্দর অর্থায়নে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি টেকসই দেশি বিকল্প মডেলের উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে দেশের অবকাঠামো অর্থায়নে দেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ও আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ আমার দেশকে জানিয়েছেন, "সরকার এর মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক টাকা পাবে এবং এই অর্থ দিয়ে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। উন্নত দেশগুলো মূলত এভাবেই তাদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। যমুনা সেতুতে প্রতিদিন নিয়মিত ব্যাপক অঙ্কের টোল আদায় হচ্ছে, তাই এ খাতটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে কেবল ঋণ নিয়ে দেশের অর্থনীতিকে বেশিদূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনা করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পরে মেট্রোরেল বা পদ্মা সেতুকেও যুক্ত করা যেতে পারে। তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"

বিকল্প অর্থায়নের বৈশ্বিক নজির

জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ আয়কে কাজে লাগিয়ে অর্থ সংগ্রহের নজির রয়েছে। আইসিবির প্রস্তাবনায় ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এনএইচএআই) সম্পদ নগদায়ন কর্মসূচির উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এই সংস্থাটি টোল অপারেট ট্রান্সফার (টিওটি), ইনভিট এবং সিকিউরিটাইজেশনের মতো পদ্ধতিতে চালু সড়ক প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে আয় হওয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছে।

মালয়েশিয়ার উত্তর-দক্ষিণ এক্সপ্রেসওয়ে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্লাস এক্সপ্রেসওয়ের অর্থায়ন কাঠামোও উল্লেখযোগ্য। সেখানে সড়ক অবকাঠামোর আয়কে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তুরস্কেও সড়ক ও সেতু অবকাঠামোর পরিচালনা এবং টোল আদায়ের অধিকারভিত্তিক বিভিন্ন অর্থায়ন মডেল ব্যবহৃত হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ আয়কে অর্থায়নের উৎস হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে আইসিবি মনে করছে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও সুকুকের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের বাজার এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। বাজারটি মূলত শেয়ারনির্ভর হওয়ায় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহে বিকল্প আর্থিক পণ্যের প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুকুক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগপণ্য হওয়ায় এটি ইসলামি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে নতুন সুকুকের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, মুনাফার হার, মেয়াদ, তারল্য এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। যমুনা সেতুর মতো চালু অবকাঠামোর নিয়মিত টোল আয় এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পণ্যের আর্থিক ভিত্তি হতে পারে।

যমুনা সেতুর আর্থিক সক্ষমতা ও প্রস্তাবিত রূপরেখা

আইসিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে চালুর পর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টোল বাবদ মোট ৯ হাজার ৩০৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সবশেষ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৭৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সেতুর টোল আয়কে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করা গেলে সরকারের চলমান অবকাঠামো সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত সুকুকের মেয়াদ হবে ২০ বছর। এর মুনাফার হার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ০.৫ শতাংশ যোগ করে। এ ছাড়া ১০ বছর পর সুকুক প্রত্যাহারের সুযোগ বা কল অপশন রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) পূরণের জন্য সুকুকটিকে অনুমোদিত সিকিউরিটি হিসেবে বিবেচনার বিষয়টিও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শর্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) মূল সম্পদসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। আইসিবি ট্রাস্টি এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সুকুকের আইনি কাঠামো, টোল আয়ের ওপর বিনিয়োগকারীদের অধিকার এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় সিংকিং ফান্ড ও সরকারি গ্যারান্টি

জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি এ অর্থায়ন কাঠামোয় কয়েকটি ঝুঁকিও রয়েছে। যানবাহন চলাচল কমে যাওয়া, টোল আদায়ে বিঘ্ন, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা নীতিগত কারণে টোলহার বাড়ানো সম্ভব না হলে প্রত্যাশিত আয় কমে যেতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় টোল আয় থেকে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য দায় পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত অর্থের একটি অংশ দিয়ে সিংকিং ফান্ড বা সংরক্ষিত তহবিল গঠনের প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। এ তহবিল থেকে নির্ধারিত শর্তে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধে সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।

একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সরকারি গ্যারান্টি বা অন্য কোনো ক্রেডিট-সহায়তা রাখা হবে কি না—তা স্পষ্ট করা জরুরি। সরকারি গ্যারান্টি দেওয়া হলে তার পরিধি, শর্ত ও সম্ভাব্য আর্থিক দায় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছ হিসাব, নিয়মিত টোল আয়ের তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং ট্রাস্টির কার্যকর তদারকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে।

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সংগৃহীত অর্থ নতুন মহাসড়ক, বন্দর এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি সম্পদের অর্থনৈতিক ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দেশি অর্থায়নের নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে ১০ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু, এর আর্থিক শর্ত, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, সহায়তায় প্রতিমন্ত্রী টুকু

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, যারা লিবিয়া থেকে ফিরে এসেছেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই দুই যুবক।

তাদের মধ্যে একজন হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে সবুজ আলী (২২) এবং অন্যজন আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

স্থানীয় ও পরিবারের সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। তাদের সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাদের আটক করে এবং তাদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তাদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম এবং এলেঙ্গা এলাকার আমিন জড়িত। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালিত অটোচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে এক পর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাননি স্বজনেরা।

এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর বড় ভাই মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ জানান, আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসনের আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। একই সঙ্গে সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুয়াহাটিতে হোটেল ইজারা নিয়ে বিরোধে গুলিতে নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


গুয়াহাটিতে হোটেল ইজারা নিয়ে বিরোধে গুলিতে নিহত ৫

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে হোটেলের ইজারা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। এ ঘটনার পর আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ঘনাকান্ত গগৈ নামক হোটেলের ইজারাদারকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনাটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে গুয়াহাটির ব্যস্ত জিএস রোডের বোরা সার্ভিস এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণে মোট ছয়জন আহত হন এবং তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে নারায়ণ দাস (৪৮) গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে ঘনাকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত পিস্তলও উদ্ধার করা হয়।

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহান্ত জানিয়েছেন, ঘনাকান্ত গগৈ প্রায় এক বছর আগে হোটেলটি ইজারা নিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, হোটেলের মালিকপক্ষের সঙ্গে ইজারাদারের চুক্তি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ গুলিবর্ষণের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন হোটেলটির মালিক পরিবারের সদস্য এবং পঞ্চম ব্যক্তি ওই পরিবারের গ্রামের বাসিন্দা। গুলিবিদ্ধ অপর ব্যক্তি সত্যেন্দ্র পাঠক (৪২) ডান কাঁধে আঘাত পেয়েছেন এবং তাঁকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

এ ঘটনায় আসামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রতি ঘটনার দায় নেওয়া এবং রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং গুলিবর্ষণের পূর্ণাঙ্গ কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


কালীগঞ্জে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ, সড়ক পাকা না হওয়ায় কৃষকদের সমস্যা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি সড়ক পাকা না হওয়ার কারণে ১০টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এই সড়কটি পাকাকরণের জন্য দিন গুনছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করার পরেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের মানুষের জন্য একটি পাকা রাস্তার স্বপ্ন এখনও পূর্ণ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস পেলেও বাস্তবে রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। বর্ষায় কাদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে তাদের বাড়তি শ্রমিক ও পরিবহন খরচ করতে হচ্ছে।

কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এই মাঠে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কৃষিকাজ ও যাতায়াতের জন্য এই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে, তখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।

শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ বিপাকে পড়ে। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকার কৃষকদের মতে, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নেওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

এলাকার নাজমুল হোসেন বলেন, "নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না।" ফলে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, "উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।" আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%