ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া তৎপরতা, আতঙ্কে নগরবাসী


রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া তৎপরতা, আতঙ্কে নগরবাসী

রাজধানীতে ছিনতাইকারীরা লাগামহীনভাবে অপরাধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত নানা অভিযানে সেটা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বরং দিনের পর দিন ওই অপরাধীরা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। পুলিশ বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা নিতে অনীহা দেখানোর অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এমনই একটি পরিস্থিতিতে ছিনতাইয়ের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রাজধানীবাসী। সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। আপনি যদি বাধা দেন, তবে অপরাধীরা গুলি করতেও দ্বিধা করছে না। বর্তমান সময়ে রাজধানীতে ৩ শতাধিক ছিনতাই স্পট রয়েছে। তবে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫৫টি স্থানে। সেসব হটস্পটে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত তিন মাসে রাজধানীতে ৮৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মে মাসে মার্চ ও এপ্রিলের তুলনায় ছিনতাইয়ের সংখ্যা বেড়েছে। ভুক্তভোগী এবং পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা যায়।

যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীতে পুলিশের কার্যক্রমের মধ্যেও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে ছিনতাইকারী ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুলিশ গ্রেফতার করলেও অপরাধীরা সহজেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো ছিনতাইয়ের কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে ছিনতাইকারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে মানুষের সকল সম্পদ ডাকাতি করে চলেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মামলা ও জামিনের প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর না করা যায়, তবে ছিনতাইকারীদের দমনে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। সম্প্রতি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় গুলি করে এক ব্যবসায়ীর টাকা ও ডলার ছিনিয়ে নেওয়া ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পুলিশ এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনার কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। তবে পুলিশের তরফ থেকে মতিঝিলের ঘটনার পর তারবার্তায় রাজধানীর প্রতিটি থানায় কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উক্ত নির্দেশনায় গোয়েন্দা নজরদারি, টহল, চেকপোস্ট বৃদ্ধির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। জামিনে থাকা দাগি আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করেও, কেউ নতুন অপরাধে জড়ালে তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তারপরও সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে রাজধানীতে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৩৮৭ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ১৫২ জন, লালবাগে ১৫৯ জন, ওয়ারীতে ৩০৮ জন, মতিঝিলে ১৬৮ জন, তেজগাঁওয়ে ২৪০ জন, মিরপুরে ৫৩ জন, গুলশানে ৬৭ জন ও উত্তরায় ২৪০ জন দুর্দান্ত ছিনতাইকারী রয়েছে। তাদের ৮০ শতাংশই এক থেকে সাতটি মামলার আসামি এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে যায় এবং পুনরায় ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন মুখ প্রতিদিন ছিনতাইয়ে যুক্ত হচ্ছে। তারা সুযোগ পেলেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বহুদিন আগে, রাজধানীতে ছিল ৯৮৯ জন তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ছিনতাইকারীর সংখ্যা প্রায় দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারও। গোয়েন্দা তথ্যানুসারে, রাজধানীতে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের বাইরেও হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ভাসমান কিশোর ও মাদকাসক্ত। তারা সুযোগ পেলে ছুরি, চাপাতি অথবা সামুরাই নিয়ে ছিনতাই করছে।

আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল সৌদি আরব

এছাড়া, সূত্র আরো জানাচ্ছে, রাজধানীতে অনেক ছিনতাই ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে না। কারণ অসংখ্য মানুষ মোবাইল ও মানিব্যাগ হারালে তারা সাধারণত হারানো জিডি দায়ের করে। যেকারণে ছিনতাইয়ের মামলা নিতে পুলিশও অনীহা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজধানীতে ২৫টি ছিনতাই এবং এসব ঘটনার মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৯টি, মতিঝিল, গুলশান ও ওয়ারীতে ৪টি করে এবং রমনা ও লালবাগে ২টি করে ঘটনার কথা জানা যায়। ছিনতাইয়ের হটস্পট হিসেবে তেজগাঁওয়ে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে, পরের দিকে মতিঝিল ও ওয়ারী রয়েছে। রাজধানীতে ছিনতাইয়ের হটস্পট চিহ্নিত করে পুলিশ তিল তিল করে অভিযান চালানো সত্ত্বেও ছিনতাইয়ে রোধ করতে পারছে না। পুলিশের শীর্ষ মহল থেকে বার বার সহজে মামলা নিতে বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।

এদিকে, রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের ব্যাপক তৎপরতা সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, 'ছিনতাইসহ যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সবসময় পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু শতভাগ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সুতরাং গ্রেপ্তারের বাহিরে থাকা অপরাধীরা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে। আবার যারা গ্রেপ্তার হয়, তারাও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ডিএমপির সব থানায় কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সক্রিয় ছিনতাইকারীদের আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জামিনে থাকা অপরাধীদের বর্তমান পরিস্থিতি জানতেও কাজ চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ সদস্য বেড়েছে, বাড়েনি আবাসন সুবিধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ এম


পুলিশ সদস্য বেড়েছে, বাড়েনি আবাসন সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুলিশ বাহিনীতে বিগত দেড় দশকে সদস্য সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তবুও আবাসন সুবিধা তেমন বাড়েনি। ফলে পুলিশ বাহিনীকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে আবাসন সুবিধা ছাড়াই। বর্তমানে আড়াই লাখ সদস্যের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ সদস্য আবাসন সুবিধা পায়। বাকি ৯০ শতাংশ পুলিশ সদস্যকেই বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ভাড়া বাসায় কিংবা অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করতে হচ্ছে। আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি না করেই সদস্য সংখ্যা বাড়ানোয় পুলিশ বাহিনীর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এইভাবে সমস্যাগুলো পুলিশ সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা কঠিন করে তুলছে। মূলত পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়েই পুলিশে পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা বিগত ২০১০ সালে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ছিল। বর্তমানে ওই সংখ্যা আড়াই লাখে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা দেড় দশকের ব্যবধানে ১ লাখ ৩৩ হাজার বেড়েছে। এই সময়ে বাহিনীটিতে ৬টি নতুন ইউনিট সৃষ্টি করা হয়েছে। ইউনিটগুলো হল- পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে মোট ১ লাখ ৭৩ হাজারের মতো কনস্টেবল রয়েছে, যারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ থানায় যুক্ত থাকে, আবার কেউ রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাহিনীর মোট সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ সদস্য আবাসন সুবিধা পায়। বাকি সদস্যরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় অবস্থান করছেন।

সূত্র জানায়, পুলিশ সদস্যদের আবাসনের জন্য রাজধানীতে রয়েছে মিরপুর স্টাফ কোয়ার্টার, তিনতলা অফিসার্স কোয়ার্টার্স, সৈনিক ব্যারাক, অফিসার্স মেস, ইস্কাটনে পুলিশ অফিসার্স মেস, ডেমরা পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার্স ও নীলক্ষেতে ১৫ তলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টার। নীলক্ষেতের ভবনটিতে ৬০০ বর্গফুটের বাসায় পরিদর্শক ও উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অবস্থান করেন। উত্তরা এলাকায় এসপিবিএনসহ বিভিন্ন ইউনিটের জন্য বেশ কিছু কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া পুরনো রমনা থানা ভবনের পাশেও পাঁচতলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টার রয়েছে। রাজারবাগে সাতটি ব্যারাক আছে, যেখানে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কনস্টেবলরাও অবস্থান করছেন। রাজারবাগ হাসপাতালের পাশে মধুমিতা নামে ১৬ তলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টার রয়েছে, যা সম্প্রতি ২০ তলায় উন্নীত করা হচ্ছে। ভবনটির সব ফ্ল্যাট ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের। পাশেই তিতাস নামে পাঁচতলা একটি অফিসার্স কোয়ার্টারও অফিসারদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া রাজারবাগে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নামে আরো তিনটি চার-পাঁচ তলা বিশিষ্ট অফিসার্স কোয়ার্টার রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ব্যারাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের আবাসন সীমিত হওয়ায় তা স্বাস্থ্যকর নয়। বরং ৩০ হাজার সদস্যের আবাসন ব্যবস্থায় দ্বিগুণের বেশি সদস্যকেই থাকতে হচ্ছে। ডিএমপির প্রটেকশন অ্যান্ড প্রটোকল বিভাগের সদস্যদের আবাসনের জন্য দুটি ভবন বরাদ্দ রয়েছে, যেখানে ১ হাজার ০৫১ জন থাকার সক্ষমতা রয়েছে; কিন্তু সেখানে ২ হাজার ১২২ জনকে থাকতে হচ্ছে। অধিক অবস্থানের কারণে অনেক পুলিশ সদস্যকে সিঁড়ির নিচে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়া গেলে অনেককে ভবনের বাইরে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। পুলিশদের কাছ থেকে ভালো সেবা পেতে হলে তাদের স্বাস্থ্যকর আবাসনসহ মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ দীর্ঘ ডিউটির পর ভালো বিশ্রাম না পেলে তা পুলিশের কার্য প্রভাবিত করে। এই কারণে পুলিশ বিভাগের উভয় সেবাগুলো নিশ্চিত করাই প্রথমPriority। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা না করে লোকবল বাড়ালে পুলিশের বাহিনীতে একটি ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সাধারণভাবে জনপ্রতি ১০০-৪০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে তা কিছু কমবেশি হলেও ৭০ বর্গফুটের কম হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, অতিরিক্ত মানুষের সংমিশ্রণ ঘটলে বহু ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে জনঘনত্ব বেশি হলে ছোঁয়াচে রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটাতে সুবিধা তৈরি হয়। এ ছাড়া দীর্ঘ ডিউটির পরে গাদাগাদি অবস্থায় থাকার ফলে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মানসিক অবসাদেরও সৃষ্টি হতে পারে। কেননা একাধিক মানুষের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের ধারণক্ষমতা অতিক্রম হলে অভ্যন্তরীণ বাতাসের মান দুর্বল হয়ে যায়। এটি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অবশিষ্ট থাকলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে স্ক্যাবিস ও ইউরিনারি ইনফেকশনের মতো রোগ ছড়ানোর পরিবর্তন দেখা দেয়। অন্যদিকে বিগত ১৬ বছরে পুলিশে দফায় দফায় নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। কিছু বছরে দুবারও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সদস্স সংখ্যা দ্বিগুণ করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী রয়েছে। তবে সে অনুযায়ী আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হয়নি এবং পুলিশ সদস্যদের দক্ষতাও বাড়ানো যায়নি। যানবাহন সংকটের কারণে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না অনেক থানা পুলিশ, যদিও লোকবলের ঘাটতি নেই। এর ফলে পুলিশ বাহিনী, যা আড়াই লাখ সদস্য নিয়ে গঠিত, তা একইভাবে সীমিত সেবা কার্যক্রম বজায় রেখেছে।

পুলিশের আবাসন সঙ্কট প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, পুলিশের আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে একটি পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। সরকার পুলিশের আবাসন সংকট নিরসনে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনির আখড়ায় সড়কে ঝরে গেল একজন যুবকের প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


শনির আখড়ায় সড়কে ঝরে গেল একজন যুবকের প্রাণ

ছবি: সংগৃহীত

 

সোমবার (১৫ জুন) রাতের আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। যখন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বিনোদের ভাই বিধান বিশ্বাস বলেন, তাদের বাড়ি চাঁদপুর মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে অবস্থিত। বিনোদ রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় বাস করতেন। তিনি চিটাগং রোডে ফুপুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতের দিকে সেখান থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেরার সময় শনির আখড়া এলাকায় কোনো একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় এবং চলে যায়। এই ঘটনায় সে গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানায়, মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটের লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সম্পাদকীয়

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ এম


বাজেটের লক্ষ্য ও বাস্তবতার ব্যবধান

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এমন এক সময়ে উপস্থাপিত হয়েছে, যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন ছিল, তেমনি বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অপরদিকে অর্থনৈতক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির মতে, বর্তমান বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি এত দ্রুত কমিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

তাই, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের অর্জন শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত নয়, বরং জনজীবনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটের একটি ইতিবাচক দিক হলো মানব উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগেরও প্রয়োজন। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়াটিও সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত ফল অর্জিত হয়নি।

প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া, জ্বালানি নিরাপত্তা, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায়, শুধুমাত্র লক্ষ্য নির্ধারণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। সুতরাং, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে অবস্থান করছে। বাজেটের সাফল্য তার আকারে নয়, বরং বাস্তবায়নের গুণগত মানে নিহিত। যদি ঘোষিত সংস্কার, বিনিয়োগ সহায়তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগগুলো বাস্তবে কার্যকর করা যায়, তাহলে এই বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ

শেরপুরের নকলায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধাভোগী নারীদের মাঝে প্রতিজনে ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে| অসচ্ছল, বিধবা, তালাক প্রাপ্ত নারীদের এ কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের এসব চাল বিতরণ করা হয়|

এর অংশ হিসেবে সোমবার (১৫ জুন) বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী অসচ্ছল, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত ২০৫ জন নারীর হাতে চাল তুলে দেওয়া হয়| এছাড়া সুবিধাভোগীদের নিকট সঞ্চয় ২২০ টাকা করে সঞ্চয় আদায় করা হয়|

এসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খন্দকার আনার মিয়া, তদারককারী কর্মকর্তা ও উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ˆচতি নাহার, গ্রামপুলিশ মো. মুক্তার হোসেন, মাহবুর রহমান, আব্দুল গফুর, রূপচাঁন ও ছাইদুল ইসলামসহ ইউপি সদস্যগন, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগী পরিবারের নারীরা উপস্থিত ছিলেন|

তথ্য মতে, উপজেলার ২ হাজার ১৬৯ জন ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগী নারীর মধ্যে গনপদ্দী ইউনিয়নের ২৯৩ জন, নকলা ইউনিয়নের ২২৩ জন, উরফা ইউনিয়নের ২৭১ জন, গৌড়দ্বার ইউনিয়নের ১৪১ জন, বানেশ্বরদী ইউনিয়নের ২০৫ জন, পাঠাকাটা ইউনিয়নের ২৬৪ জন, টালকী ইউনিয়নের ২০৭ জন, চরঅষ্টধর ইউনিয়নের ২৬৬ জন ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের ২৯৯ জন অসচ্ছল, বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে|

বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, সুবিধাভোগী প্রতিজনের নিকট প্রতিমাসে ২২০ টাকা করে যে সঞ্চয় আদায় করা হয়, দুই বছর পরে সমুদয় টাকা একসাথে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়| তারা একসাথে পাঁচ সহস্রাধিক টাকা পেয়ে পারিবারিক আয়ের জন্য কোন একটা নতুন উৎসে খাটাতে পারেন| এতে অসচ্ছল, বিধবা, তালাক প্রাপ্ত নারীদের টানাপোরনের সংসারে আয়ের নতুন পথ সৃষ্টি হয়|

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%