সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১০ এম
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর সম্পন্ন করেছেন। তিনি এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও পেশাগত সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে গমন করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে রোববার রাতে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জার্মানির উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্রোব এয়ারক্রাফট এসই-এর আমন্ত্রণে বিমান বাহিনী প্রধান গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর জার্মানি সফর করেন। সফরের সময় তিনি দেশটির টুসেনহাউজেন-মাটসিসে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এছাড়া, কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়ে কর্ম-অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত গ্রোব উড়োজাহাজের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সফরের অংশ হিসেবে তিনি জার্মানির রোথেনবাখ আন ডেয়ার পেগনিৎজে অবস্থিত ডিহল ডিফেন্সের এমএসএএন উৎপাদন কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে বিমান বাহিনী প্রধান ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর দেশটি সফর করেন। এই সময় তিনি প্রাগে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্স’-এর চতুর্থ আসরে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার মধ্যে ছিল বহুমুখী হালকা যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক প্যাসিভ ও অ্যাকটিভ সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি, সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ। এছাড়া, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমান বাহিনীর বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ এবং সমসাময়িক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আইএসপিআর জানায়, বিমান বাহিনী প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি সামরিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কর্তৃক স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার দোগাছী গ্রামের সোহাগ মৃধা (৩১) এবং তার স্ত্রী মোছা. সারমিন খানম (২৫)। বর্তমানে তারা ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার মধ্যপাইকারপাড়ার আহম্মদ নগর এলাকায় বসবাস করতেন। ডিএনসি জানায়, স্বামী সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবস্থান নেয় ডিএনসি। এ সময় ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলস্ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় স্ত্রী সারমিন খানের দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশীর ফলে সারমিনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটে স্কচটেপ মোড়ানো ২০টি প্যাকেটে চার হাজার পিস এবং বাম পায়ের নিচে অ্যাংলেটে থাকা ১৯টি প্যাকেটে তিন হাজার আটশত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবার ওজন ৭৬০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া, মাদক পাচারে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক মো. জিললুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, যাতে দেখা যায় এই মাদকের চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না। যদি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের ঘোষণার ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শীতের আগমনী বার্তার সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখি (অতিথি পাখি) আসতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয় এখন পাখিদের মুক্ত বিচরণের জন্য মুখরিত হয়ে উঠেছে। পাখির সুরক্ষা ও ক্যাম্পাসে নিরাপদ অভয়ারণ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।
রোববার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব নির্দেশনার কথা প্রকাশ করে। একইসাথে, পাখির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয়কে ইতোমধ্যে পাখির বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা হয়েছে। পাখির নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের নিরাপদ দূরত্ব থেকে পাখি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাখিদের বিরক্তি বা ভয়ভীতি না দেখানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, জলাশয়ের পাড়ে গাড়ি পার্কিং না করা; জলাশয়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা; ঢোল বাজানো, পটকা ফুটানো, হাততালি দেওয়া বা যেকোনো ধরনের উচ্চ শব্দ তৈরি না করা; জলাশয়ে প্লাস্টিক বা পানির বোতল ও পলিথিন না ফেলা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, পাখির প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধই তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর দাগনভূঞায় সেতারা বেগম (৮০) নামে এক মায়ের মৃত্যু ঘটে, যা তার মেয়ের বটির কোপের কারণে হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ নিহতের মেয়ে রিনা আক্তারকে (২৭) আটক করেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিনা আক্তার দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রোববার রাতে ঘরের ভেতর হঠাৎ করে বটি দিয়ে তিনি তার মাকে কোপান। পরে ঘরের দরজায় হুক লাগিয়ে দেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই সেতারা বেগমের মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়দের সহায়তায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটিসহ রিনা আক্তারকে আটক করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে দেশের দ্রুততম মানব ও মানবী দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের পর এবার ২০০ মিটারেও সোনা জিতে নিজেদের ‘স্প্রিন্ট ডাবল’ সম্পন্ন করেছেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। নারীদের ২০০ মিটারে শিরিন তার পূর্বের রেকর্ড ভেঙে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন।
২০২২ সালের পর একই প্রতিযোগিতায় ১০০ ও ২০০ মিটারে সোনা জিতে ডাবল পূর্ণ করেছেন ইমরানুর রহমান। জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে ২০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে তার সময় লেগেছে ২১.১৮ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন শান্ত কর্মকার, যিনি ২১.৬৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছেন, এবং তৃতীয় স্থানে আছেন রাকিবুল হাসান, যিনি ২১.৭৭ সেকেন্ড সময় নেন।
গত বছর ২০০ মিটারের ফাইনালে দৌড় শুরু করার পর পেশিতে টান লেগে ট্র্যাকেই পড়ে গিয়েছিলেন ইমরানুর। এছাড়া, গত মে মাসে মায়ের অসুস্থতার কারণে তাকে ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ কাটিয়ে এই সোনা জয়ে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। ইমরানুর জানান, মূলত ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবেই তিনি এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরে ও দলের জন্য পদক আনতে পেরে সন্তুষ্ট। তার পরবর্তী লক্ষ্য আগামী এপ্রিলে দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমসে দেশের জন্য সেরা সাফল্য অর্জন করা।
নারীদের স্প্রিন্টেও ছিল জোড়া সাফল্যের আনন্দ। নারীদের ২০০ মিটারে ২৪.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে শিরিন আক্তার নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙে সোনা জিতেছেন। পূর্বে ২০২৪ সালের জাতীয় অ্যাথলেটিকসে তার রেকর্ড ছিল ২৪.৬৮ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শরিফা খাতুন, যিনি ২৫.১১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেছেন, এবং তৃতীয় স্থানে বর্ষা খাতুন, যিনি ২৫.৩৩ সেকেন্ড সময় নেন। প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে ১০০ মিটারের সোনাও নিজেদের ঘরে তুলেছিলেন ইমরানুর ও শিরিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ