ঢাকা সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৫ই সফর, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ইং ০৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩বাং

নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ


নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ

শেরপুরের নকলায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধাভোগী নারীদের মাঝে প্রতিজনে ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে| অসচ্ছল, বিধবা, তালাক প্রাপ্ত নারীদের এ কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের এসব চাল বিতরণ করা হয়|

এর অংশ হিসেবে সোমবার (১৫ জুন) বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী অসচ্ছল, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত ২০৫ জন নারীর হাতে চাল তুলে দেওয়া হয়| এছাড়া সুবিধাভোগীদের নিকট সঞ্চয় ২২০ টাকা করে সঞ্চয় আদায় করা হয়|

এসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান খন্দকার আনার মিয়া, তদারককারী কর্মকর্তা ও উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ˆচতি নাহার, গ্রামপুলিশ মো. মুক্তার হোসেন, মাহবুর রহমান, আব্দুল গফুর, রূপচাঁন ও ছাইদুল ইসলামসহ ইউপি সদস্যগন, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগী পরিবারের নারীরা উপস্থিত ছিলেন|

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনাল যেন ব্যালন ডি’অর জয়ের মঞ্চ

তথ্য মতে, উপজেলার ২ হাজার ১৬৯ জন ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধাভোগী নারীর মধ্যে গনপদ্দী ইউনিয়নের ২৯৩ জন, নকলা ইউনিয়নের ২২৩ জন, উরফা ইউনিয়নের ২৭১ জন, গৌড়দ্বার ইউনিয়নের ১৪১ জন, বানেশ্বরদী ইউনিয়নের ২০৫ জন, পাঠাকাটা ইউনিয়নের ২৬৪ জন, টালকী ইউনিয়নের ২০৭ জন, চরঅষ্টধর ইউনিয়নের ২৬৬ জন ও চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের ২৯৯ জন অসচ্ছল, বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে|

বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, সুবিধাভোগী প্রতিজনের নিকট প্রতিমাসে ২২০ টাকা করে যে সঞ্চয় আদায় করা হয়, দুই বছর পরে সমুদয় টাকা একসাথে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়| তারা একসাথে পাঁচ সহস্রাধিক টাকা পেয়ে পারিবারিক আয়ের জন্য কোন একটা নতুন উৎসে খাটাতে পারেন| এতে অসচ্ছল, বিধবা, তালাক প্রাপ্ত নারীদের টানাপোরনের সংসারে আয়ের নতুন পথ সৃষ্টি হয়|

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২দিন ব্যাপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


নকলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২দিন ব্যাপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

শেরপুরের নকলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ˆনতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) প্রকল্পের কেন্দ্র শিক্ষকদের ব্যাচভিত্তিক ২ দিনব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে| সোমবার বিকেলে এ প্রশিক্ষণের সমাপণি করা হয়| রবিবার ও সোমবার এই প্রশিক্ষণ চলে|

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সমাপণি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম| এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম|

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোহাই মনুল ইসলাম, উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মো. রাফায়েত হোসেন ও ডা. অশেষ কুমার রায়, নকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুল আলম, সহকারী শিক্ষা অফিসার গোলাম রব্বানী, শেরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাষ্টার ট্রেইনার মওলানা মুফতী খলিলুর রহমান ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্সট্রাক্টর শাহিনূর সিদ্দিকা|

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার মো. মোবারক হোসেন ও জালালপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রের শিক্ষক মওলানা মো. হাদিউল ইসলাম প্রমুখ|

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব আদ্-দীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


‘টাকা নিয়ে ঘুরিনি’: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব আদ্-দীনের

ছবি: সংগৃহীত

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজধানীর আদ্ দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আনা কোটি কোটি টাকা নিয়ে তদবিরের অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করেছেন আদ্ দীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, এই ধরনের অভিযোগ করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেই তার প্রমাণ দিতে হবে। এছাড়া হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরিয়ে পেতে আগামী ১৭ জুন আপিল করার বিষয়টি জানান তিনি।

সোমবার, ১৬ জুন বিকেলে আদ্ দীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “টাকা নিয়ে কেন ঘুরব। এমন কিছু করিনি।” বলেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরব? যদি তিনি এ ধরনের কোনো কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটি তাকেই প্রমাণ করতে হবে।”

এর আগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত বুধবার, ১১ জুন রাজধানী মগবাজারের আদ্ দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর হাসপাতালটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

লাইসেন্স বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত শনিবার, ১৪ জুন নরসিংদীর মনোহরদীতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, লাইসেন্স বাঁচাতে আদ্ দীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, “আদ্ দীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে। আল্লাহর রহমতে কোনো টাকার প্রতি লোভ হয়নি। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।”

মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং এ ধরনের শাস্তি অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

তবে সেই বক্তব্যের পরদিনই সংবাদ সম্মেলনে এসে আদ্ দীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কোনো ধরনের অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেনি। লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি সুযোগ অনুযায়ী আপিল করার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেন।

ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও কারিগরি ত্রুটি সংশোধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের চলমান সেবার বিষয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দুর্নীতির অভিযোগ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টা অবস্থান, সব মিলিয়ে আদ্ দীন হাসপাতালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বর্তমানে নতুন মাত্রা পেয়েছে। হাসপাতালের আপিলের পর সরকার এর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের নজর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


‘ইরানের আস্থা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ পথ পেরোতে হবে’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, পশ্চিমাদের কয়েক দশক আগে অনুষ্ঠিত অভ্যুত্থানই দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের মূল কারণ। সোমবার (১৫ জুন) যুদ্ধের অবসানে একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সব ধরনের শত্রুতা চিরতরে বন্ধ করার জন্য’ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে যে এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত আছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি চুক্তির স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। চীন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই চুক্তির প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের অতীতে তাদের সঙ্গে কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ তিনি ১৯৫৩ সালের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল।

বাঘাই আরও মন্তব্য করেন, ‘সেই মুহূর্ত থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে এবং এই অবিশ্বাস গভীরভাবে প্রোথিত। আমাদের আস্থা অর্জন করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ইরানি কর্মকর্তাদের আঞ্চলিক সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান চুক্তির অংশ’

লেবানন বিষয়ে সূত্র হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। এ কারণে লেবাননের পরিস্থিতির দিকে ইরান নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অংশ।’

বাঘাই আরও বলেন, ‘আমি সমগ্র লেবাননের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাতে চাই। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট কিছু বিবেচনার ভিত্তিতে গ্রহণ করি, বিশেষ করে লেবাননের বিরুদ্ধে জায়নবাদী সত্তার এসব সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

বৈবাহিক অবস্থা থেকে বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৮ এম


বৈবাহিক অবস্থা থেকে বাড়তে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি

ব্যায়াম না করা থেকে শুরু করে বংশগত কারণসহ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর পেছনে অনেক কিছুই কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈবাহিক অবস্থাও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে বা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হচ্ছে, ‘যারা কখনও বিয়ে করেননি, তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিতদের চেয়ে অনেক বেশি।’

গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, তার মানে এই নয় যে ক্যানসার থেকে বাঁচতে সবাইকে বিয়ে করতেই হবে। বরং বিবাহিত জীবনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সামাজিক মেলবন্ধন মানুষকে এই রোগ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিন-এর সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টার-এর গবেষকেরা এই পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

ক্যানসার এপিডেমিওলজি বা রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার সহ-লেখক ড. পাওলো পিনহেইরো জানান, জনসংখ্যা স্তরে ক্যানসারের ঝুঁকি বোঝার জন্য বৈবাহিক অবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।

গবেষকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। যেখানে প্রায় ৪০ লাখ ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ডেটা বা তথ্য পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী: অবিবাহিত নারীদের জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় তিন গুন বেশি। অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিত পুরুষদের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি। অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বিবাহিত নারীদের চেয়ে ৮৫ শতাংশ বেশি।

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের অধ্যাপক ড. লর্না এইচ ম্যাকনিল এবং ফক্স চেজ ক্যানসার সেন্টারের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ড. নম্রতা বিজয়ভার্গিয়া- এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

সেল্ফডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারা মন্তব্য করেন যে, এই ঝুঁকির পেছনে সরাসরি বিয়ে নয়, বরং জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস জড়িত। অবিবাহিতরা অনেক সময় ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অস্বাচ্ছন্দ্যকর বা পুষ্টিহীন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার মেমোরিয়ালকেয়ার টড ক্যানসার ইনস্টিটিউটের কলোরেক্টাল সার্জন ড. কেটান থাঙ্কি বলেন, বিবাহিতরা সাধারণত জীবনসঙ্গীর অনুপ্রেরণায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ক্যানসার স্ক্রিনিং করান। যেমন— বিবাহিত পুরুষেরা অবিবাহিতদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি কোলনোস্কোপি করিয়ে থাকেন। জীবনসঙ্গী পাশে থাকলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বা সঠিক সময়ে ডাক্তার দেখানোর মতো অভ্যাসগুলো সহজ হয়ে যায়। এর বাইরে সামাজিক একাকিত্বও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ানোর আরেকটি বড় কারণ হতে পারে।

নিউইয়র্কের লেনক্স হিল হাসপাতালের অনকোলজিস্ট ডা. নিকোলাস হর্নস্টাইন আশ্বস্ত করে বলেন, “বিয়ে না করলেই যে ক্যানসার হবে, এমন কোনো কথা নেই। ক্যানসার একটি জটিল রোগ। আর কেবল সম্পর্কের অবস্থা দিয়ে এটি সম্পূর্ণ নির্ধারণ করা যায় না।

অনেকে বিয়ে না করেও দীর্ঘমেয়াদি ‘পার্টনারশিপ’ বা সম্পর্কে থাকেন কিংবা তাদের চমৎকার সামাজিক জীবন থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি কমে আসে। কারণ আসল বিষয়টি হল, শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা।

তাহলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে হুট করে ‘ডেইটিং অ্যাপ’ ব্যবহার শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে যারা একা বা অবিবাহিত আছেন, তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি একটু বেশি যত্নশীল হতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা এবং চিকিৎসকের সংস্পর্শে থাকাই ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই সফর, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৩:৫৭
জোহর ১২:০৬
আসর ০৪:৪৪
মাগরিব ০৬:৪৭
ইশা ০৮:০৭
সূর্যোদয় : ০৫:২২ সূর্যাস্ত : ০৬:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%