ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে হল ছাড়ছেন জাকসু নেতৃবৃন্দ


বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে হল ছাড়ছেন জাকসু নেতৃবৃন্দ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী, যখন ছাত্রত্ব শেষ হয় তখন ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে আবাসিক হল ছেড়েছেন জিএস। তবে শিক্ষা সফরে কিছুদিন চীনে অবস্থান করায়, হল ত্যাগের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বল্প সময় চেয়েছেন ভিপি।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তাঁরা দুজনেই এই তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট, রেজিস্ট্রার এবং জাকসু, হল সংসদ ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

হল ছাড়ার বিষয় নিয়ে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম জানান, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আমার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যেই হল ছেড়ে দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার বরাদ্দকৃত কক্ষে অন্য শিক্ষার্থীদের আসন বণ্টন করা হয়েছে।"

অন্যদিকে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, "আমি শিক্ষা সফরে কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। যার কারণে আমার কিছুটা প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। মালপত্র গোছগাছ করে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমি হল ছেড়ে দেব।"

সভায় উপস্থিত জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, "জাকসু জিএস যথাসময়ে হল ছেড়ে দিয়ে এক অনন্য ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা আশা করব, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভিপিও হল ছেড়ে দিয়ে একই নজির স্থাপন করবেন।"

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

জাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। তাই নৈতিক ও আইনিভাবে তার হলে অবস্থানের কোনো সুযোগ নেই। অতি দ্রুতই তার হল ছেড়ে দেওয়া উচিত।"

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, "ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে হলে থাকার কোনো সুযোগ নেই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএলওতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কারের আহ্বান বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


আইএলওতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কারের আহ্বান বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আরও প্রতিনিধিত্বমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রী কর্মক্ষেত্রের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের সামাজিক বিষয়ক ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইয়োহানেস আলেকজান্ডার ভিলব্রিফের আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন’র (আইএলসি) ফাঁকে আয়োজন করা হয়, এমন কথা জানানো হয় একটি বার্তায়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘ জেনেভা কার্যালয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এতে ব্রাজিল, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আইএলও’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আলোচনায় আরিফুল হক বৈশ্বিক শ্রম শাসন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আইএলও সংবিধানের সংশোধন সংক্রান্ত ১৯৮৬ সালের ইনস্ট্রুমেন্ট কার্যকর করার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি জানান, আরও প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা এর বৈধতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।

তিনি বলেন, আইএলও শ্রম অধিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনে কর্মীদের সক্ষম করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারে।

তিনি শ্রম অভিবাসনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম চলাচলের সুযোগ উন্নয়নে আইএলওকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে, যেখানে বিভিন্ন অঞ্চল ও উন্নয়ন স্তরের দেশগুলোকে নিয়ে আইএলওর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী লুইজ মারিনহো, দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী নোমাখোসাজানা মেথ, কানাডার শ্রমমন্ত্রী জন জেরুকেলি, আইএলওর সহকারী মহাপরিচালক লরা থম্পসন এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পিটার ভ্যান রয় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাজেয় তারুণ্যের উদ্যোগে জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


অপরাজেয় তারুণ্যের উদ্যোগে জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক কর্মসূচি

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ক সংগঠন আরএইচস্টেপের বাস্তবায়িত ‘অপরাজেয় তারুণ্য’ (ইউওয়াইপি) প্রকল্পের উদ্যোগে রংপুরে ‘ইনক্লুশন অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি’ বিষয়ক সচেতনতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে সংগঠনটির রংপুর শাখা কার্যালয়ে (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আবু সাইদ গেইটের বিপরীতে )অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, ট্রান্সজেন্ডার, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অপরাজেয় তারুণ্য রংপুর শাখার প্রকল্প কর্মকর্তা অনিমেষ রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন ইয়ুথ অফিসার স্বর্ণালী আচার্য। প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কুন্তলা চৌধুরী।

এই সময় কুন্তলা চৌধুরী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে সবার মতামত ও অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এ সময় জেন্ডার বৈষম্যের সামাজিক প্রভাব, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের গুরুত্ব এবং তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিচিতি ও আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইস-ব্রেকিং সেশন পরিচালনা করেন ইউওয়াইপি প্রকল্পের মেন্টর রুমান শেখ ও আনিকা তাসকিন। তারা প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেন।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটির তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন। তারা জেন্ডার সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধবিষয়ক একটি সচেতনতামূলক নাটিকা। নাটিকায় কিশোরী মালার বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা এবং কিশোরীর মতামত ও অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চর্চা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়ার সাতবাড়ীয়া গ্রামে সন্ত্রাসের ছায়া, গ্রামছাড়া বহু পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


কালিয়ার সাতবাড়ীয়া গ্রামে সন্ত্রাসের ছায়া, গ্রামছাড়া বহু পরিবার

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামে একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বর্বর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলার মুখে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ফলে, এই পুরুষশূন্য পরিবারগুলোতে এখন চরম আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। হামলায় গুরুতর আহত অনেকেই এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষগুলো এখন গৃহপালিত পশু ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য জাবেদ মোল্যা ও রুহুল ফারাজীর সাথে একই এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ ফারাজী ও সাইফুল ফারাজী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, জাবেদ ও রুহুল ফারাজীর নেতৃত্বে তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানান অপকর্ম করে আসছে।

গত ১৩ই জুন শনিবার, রুহুল ফারাজী প্রতিপক্ষ সাইফুলের বসতভিটার অংশ দাবি করে জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে সাইফুল পক্ষ বাধা প্রদান করে। এরই জেরে, জাবেদ এবং রুহুলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আচমকা হামলা চালায় সাইফুল পক্ষের ওপর। এই হামলায় নারীসহ অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিরোধে রুহুল পক্ষেরও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হামলার শিকার বাড়িঘরগুলোর টিনের বেড়া ও চালা কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সাজানো-গোছানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ওরা আমাদের ঘরে ঢুকে সব কুপায়া শেষ করে দিছে। পুরুষ মানুষেরা মারতে আইছিল, তারা ভয়ে সব গ্রাম ছাইড়া পালাইছে। আমরা জানের ভয়ে রাইতে ঘুমাইতে পারি না।" তবে পাল্টা অভিযোগ করে রুহুল ফারাজীর মেয়ে তানিয়া বলেন, "আমার বাবা-চাচারা কোনো অন্যায় করে নাই। সাইফুলরাই উল্টা আমাদের ওপর আগে হামলা করেছে, আমাদের লোকগুলো জখম করেছে।"

এই ঘটনার পর থেকেই রুহুল-জাবেদ গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। বর্তমানে পুরো গ্রামে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: রকিবুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপরতা রয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাইফুল পক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় কালিয়া থানায় মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন দেখা জরুরি যে, সাতবাড়ীয়া গ্রামে আবার কবে ফিরবে স্বাভাবিক শান্তি ও স্বস্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দায়সাড়া আয়োজনেই শেষ বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


দায়সাড়া আয়োজনেই শেষ বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দেশের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, বই বিনিময় ও আনন্দ র‌্যালি এই সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কলেজের জিরো পয়েন্টে কলা ভবন-২ এর সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া আনন্দ র‌্যালিটি পরীক্ষা ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা ভবন ও মূল ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রথম গেট, মসজিদ এলাকা হয়ে ফিরে আসে পুনরায় জিরো পয়েন্টে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং বই বিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ কয়েক বছর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হওয়ায় আকাশে আনন্দের সুর বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে, প্রত্যাশার তুলনায় আয়োজন সীমিত হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক শেখ মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, "১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ১৩৭ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার আলোকিত পথ দেখাচ্ছে।" তিনি ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, কলেজ প্রিন্সিপাল বলেন, বিএম কলেজে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন জানিয়েছেন, সর্বশেষ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়নি। কিন্তু এ বছর পুনরায় আয়োজন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আয়োজন আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করা হবে।

বিএম কলেজের ছাত্র সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের ব্যবস্থা করতে পেরেছে, এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজের মতো একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও ব্যাপক সংক্রান্ত আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা সম্ভব ছিল। দুঃখজনকভাবে, কলেজ প্রশাসনের পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার অভাবে সেই সুযোগটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। তবুও, আমরা আশাবাদী যে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিতভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের গৌরব ও ইতিহাসের অভিজ্ঞান দেখার চেষ্টা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে বিএম কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তকণ্ঠ, উত্তরণ ও ব্রজমোহন থিয়েটারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%