প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামে একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বর্বর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলার মুখে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ফলে, এই পুরুষশূন্য পরিবারগুলোতে এখন চরম আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। হামলায় গুরুতর আহত অনেকেই এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষগুলো এখন গৃহপালিত পশু ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য জাবেদ মোল্যা ও রুহুল ফারাজীর সাথে একই এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ ফারাজী ও সাইফুল ফারাজী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, জাবেদ ও রুহুল ফারাজীর নেতৃত্বে তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানান অপকর্ম করে আসছে।
গত ১৩ই জুন শনিবার, রুহুল ফারাজী প্রতিপক্ষ সাইফুলের বসতভিটার অংশ দাবি করে জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে সাইফুল পক্ষ বাধা প্রদান করে। এরই জেরে, জাবেদ এবং রুহুলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আচমকা হামলা চালায় সাইফুল পক্ষের ওপর। এই হামলায় নারীসহ অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিরোধে রুহুল পক্ষেরও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হামলার শিকার বাড়িঘরগুলোর টিনের বেড়া ও চালা কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সাজানো-গোছানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ওরা আমাদের ঘরে ঢুকে সব কুপায়া শেষ করে দিছে। পুরুষ মানুষেরা মারতে আইছিল, তারা ভয়ে সব গ্রাম ছাইড়া পালাইছে। আমরা জানের ভয়ে রাইতে ঘুমাইতে পারি না।" তবে পাল্টা অভিযোগ করে রুহুল ফারাজীর মেয়ে তানিয়া বলেন, "আমার বাবা-চাচারা কোনো অন্যায় করে নাই। সাইফুলরাই উল্টা আমাদের ওপর আগে হামলা করেছে, আমাদের লোকগুলো জখম করেছে।"
এই ঘটনার পর থেকেই রুহুল-জাবেদ গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। বর্তমানে পুরো গ্রামে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: রকিবুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপরতা রয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাইফুল পক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় কালিয়া থানায় মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন দেখা জরুরি যে, সাতবাড়ীয়া গ্রামে আবার কবে ফিরবে স্বাভাবিক শান্তি ও স্বস্তি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন