ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইএলওতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কারের আহ্বান বাংলাদেশের


আইএলওতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কারের আহ্বান বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আরও প্রতিনিধিত্বমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রী কর্মক্ষেত্রের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের সামাজিক বিষয়ক ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইয়োহানেস আলেকজান্ডার ভিলব্রিফের আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রী পর্যায়ের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন’র (আইএলসি) ফাঁকে আয়োজন করা হয়, এমন কথা জানানো হয় একটি বার্তায়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘ জেনেভা কার্যালয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এতে ব্রাজিল, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আইএলও’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আলোচনায় আরিফুল হক বৈশ্বিক শ্রম শাসন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আইএলও সংবিধানের সংশোধন সংক্রান্ত ১৯৮৬ সালের ইনস্ট্রুমেন্ট কার্যকর করার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি জানান, আরও প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা এর বৈধতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।

তিনি বলেন, আইএলও শ্রম অধিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনে কর্মীদের সক্ষম করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

তিনি শ্রম অভিবাসনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম চলাচলের সুযোগ উন্নয়নে আইএলওকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে, যেখানে বিভিন্ন অঞ্চল ও উন্নয়ন স্তরের দেশগুলোকে নিয়ে আইএলওর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী লুইজ মারিনহো, দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী নোমাখোসাজানা মেথ, কানাডার শ্রমমন্ত্রী জন জেরুকেলি, আইএলওর সহকারী মহাপরিচালক লরা থম্পসন এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পিটার ভ্যান রয় অংশ নেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাজেয় তারুণ্যের উদ্যোগে জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


অপরাজেয় তারুণ্যের উদ্যোগে জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক কর্মসূচি

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ক সংগঠন আরএইচস্টেপের বাস্তবায়িত ‘অপরাজেয় তারুণ্য’ (ইউওয়াইপি) প্রকল্পের উদ্যোগে রংপুরে ‘ইনক্লুশন অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি’ বিষয়ক সচেতনতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে সংগঠনটির রংপুর শাখা কার্যালয়ে (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আবু সাইদ গেইটের বিপরীতে )অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নারী, পুরুষ, কিশোর-কিশোরী, ট্রান্সজেন্ডার, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অপরাজেয় তারুণ্য রংপুর শাখার প্রকল্প কর্মকর্তা অনিমেষ রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন ইয়ুথ অফিসার স্বর্ণালী আচার্য। প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কুন্তলা চৌধুরী।

এই সময় কুন্তলা চৌধুরী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে সবার মতামত ও অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এ সময় জেন্ডার বৈষম্যের সামাজিক প্রভাব, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের গুরুত্ব এবং তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিচিতি ও আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইস-ব্রেকিং সেশন পরিচালনা করেন ইউওয়াইপি প্রকল্পের মেন্টর রুমান শেখ ও আনিকা তাসকিন। তারা প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেন।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটির তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন। তারা জেন্ডার সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধবিষয়ক একটি সচেতনতামূলক নাটিকা। নাটিকায় কিশোরী মালার বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা এবং কিশোরীর মতামত ও অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির চর্চা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়ার সাতবাড়ীয়া গ্রামে সন্ত্রাসের ছায়া, গ্রামছাড়া বহু পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


কালিয়ার সাতবাড়ীয়া গ্রামে সন্ত্রাসের ছায়া, গ্রামছাড়া বহু পরিবার

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামে একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বর্বর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। হামলার মুখে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ফলে, এই পুরুষশূন্য পরিবারগুলোতে এখন চরম আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। হামলায় গুরুতর আহত অনেকেই এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষগুলো এখন গৃহপালিত পশু ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য জাবেদ মোল্যা ও রুহুল ফারাজীর সাথে একই এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ ফারাজী ও সাইফুল ফারাজী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, জাবেদ ও রুহুল ফারাজীর নেতৃত্বে তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানান অপকর্ম করে আসছে।

গত ১৩ই জুন শনিবার, রুহুল ফারাজী প্রতিপক্ষ সাইফুলের বসতভিটার অংশ দাবি করে জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে সাইফুল পক্ষ বাধা প্রদান করে। এরই জেরে, জাবেদ এবং রুহুলের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আচমকা হামলা চালায় সাইফুল পক্ষের ওপর। এই হামলায় নারীসহ অন্তত ৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিরোধে রুহুল পক্ষেরও কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হামলার শিকার বাড়িঘরগুলোর টিনের বেড়া ও চালা কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সাজানো-গোছানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ওরা আমাদের ঘরে ঢুকে সব কুপায়া শেষ করে দিছে। পুরুষ মানুষেরা মারতে আইছিল, তারা ভয়ে সব গ্রাম ছাইড়া পালাইছে। আমরা জানের ভয়ে রাইতে ঘুমাইতে পারি না।" তবে পাল্টা অভিযোগ করে রুহুল ফারাজীর মেয়ে তানিয়া বলেন, "আমার বাবা-চাচারা কোনো অন্যায় করে নাই। সাইফুলরাই উল্টা আমাদের ওপর আগে হামলা করেছে, আমাদের লোকগুলো জখম করেছে।"

এই ঘটনার পর থেকেই রুহুল-জাবেদ গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। বর্তমানে পুরো গ্রামে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: রকিবুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপরতা রয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাইফুল পক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় কালিয়া থানায় মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন দেখা জরুরি যে, সাতবাড়ীয়া গ্রামে আবার কবে ফিরবে স্বাভাবিক শান্তি ও স্বস্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দায়সাড়া আয়োজনেই শেষ বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


দায়সাড়া আয়োজনেই শেষ বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দেশের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, বই বিনিময় ও আনন্দ র‌্যালি এই সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কলেজের জিরো পয়েন্টে কলা ভবন-২ এর সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।

জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া আনন্দ র‌্যালিটি পরীক্ষা ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা ভবন ও মূল ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রথম গেট, মসজিদ এলাকা হয়ে ফিরে আসে পুনরায় জিরো পয়েন্টে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং বই বিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ কয়েক বছর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হওয়ায় আকাশে আনন্দের সুর বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে, প্রত্যাশার তুলনায় আয়োজন সীমিত হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক শেখ মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, "১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ১৩৭ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার আলোকিত পথ দেখাচ্ছে।" তিনি ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, কলেজ প্রিন্সিপাল বলেন, বিএম কলেজে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন জানিয়েছেন, সর্বশেষ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়নি। কিন্তু এ বছর পুনরায় আয়োজন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আয়োজন আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করা হবে।

বিএম কলেজের ছাত্র সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের ব্যবস্থা করতে পেরেছে, এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজের মতো একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও ব্যাপক সংক্রান্ত আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা সম্ভব ছিল। দুঃখজনকভাবে, কলেজ প্রশাসনের পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার অভাবে সেই সুযোগটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। তবুও, আমরা আশাবাদী যে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিতভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের গৌরব ও ইতিহাসের অভিজ্ঞান দেখার চেষ্টা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।

এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে বিএম কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তকণ্ঠ, উত্তরণ ও ব্রজমোহন থিয়েটারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেনেভায় হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই, আয়োজক পাকিস্তান: শেহবাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


জেনেভায় হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই, আয়োজক পাকিস্তান: শেহবাজ

সোমবার জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি সই অনুষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি একইসঙ্গে অনুষ্ঠানটির আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানকেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি নয়, বরং শান্তি এবং সংলাপের একটি বিশাল বিজয়ও।

শেহবাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আয়োজক নির্বাচিত হবে পাকিস্তান।

জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, সোমবার মধ্যরাতে চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ তথ্য জানান।

শেহবাজ জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পুরো সময়জুড়ে পাকিস্তান শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছে। এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা কোন চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও তা ভেঙে যায়নি। কয়েক দিন পর শেহবাজ শরিফ এক্সে জানান, নিবিড় আলোচনার পর দুই পক্ষ একটি ‘শান্তিচুক্তিতে’ পৌঁছেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে দুই পক্ষ।”

জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেহবাজ বলেন, আজ বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ অর্জন করেছে। তিনি বলেন, “তিন মাস ১৬ দিনের নিরলস প্রচেষ্টার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান সামরিক কর্মকাণ্ডের অবিলম্বে এবং স্থায়ী সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে লেবাননের সংঘাতও রয়েছে।”

জেনেভায় চুক্তি সই অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি জানান, পাকিস্তান এই অনুষ্ঠানের আয়োজক হতে যাচ্ছে। তিনি পাকিস্তানের জনগণ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতীয় পরিষদের সদস্যদের অভিনন্দন জানান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন প্রধান নওয়াজ শরিফের পরামর্শ সবসময় তার জন্য সহায়ক ছিল। তিনি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও ধন্যবাদ জানান।

শেহবাজ বলেন, “এটি শুধু দুটি দেশের মধ্যে একটি চুক্তি নয়; এটি শান্তি এবং সংলাপের বিজয়, একটি কূটনৈতিক সাফল্য।”

এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তার ভাষ্য, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ায় উভয় দেশের নেতৃত্ব কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য এবং বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ আজ বিশ্ব এই ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী হয়েছে।

শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকার জন্য কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিকে ধন্যবাদ জানান শেহবাজ। এছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং বিশ্বের অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।”

শেহবাজ দাবি করেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকার কারণে পাকিস্তান যে সম্মান অর্জন করেছে, তা পেতে অনেক দেশ দশকের পর দশক চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ অর্জিত হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য পাকিস্তানের নাম ইতিহাসে ‘স্বণাক্ষরে’ লেখা থাকবে।

সূত্র: দ্য ডন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%