প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, বই বিনিময় ও আনন্দ র্যালি এই সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কলেজের জিরো পয়েন্টে কলা ভবন-২ এর সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া আনন্দ র্যালিটি পরীক্ষা ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা ভবন ও মূল ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রথম গেট, মসজিদ এলাকা হয়ে ফিরে আসে পুনরায় জিরো পয়েন্টে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং বই বিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ কয়েক বছর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হওয়ায় আকাশে আনন্দের সুর বাজিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে, প্রত্যাশার তুলনায় আয়োজন সীমিত হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক শেখ মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, "১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ১৩৭ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার আলোকিত পথ দেখাচ্ছে।" তিনি ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও, কলেজ প্রিন্সিপাল বলেন, বিএম কলেজে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন জানিয়েছেন, সর্বশেষ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়নি। কিন্তু এ বছর পুনরায় আয়োজন শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আয়োজন আরও সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করা হবে।
বিএম কলেজের ছাত্র সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের ব্যবস্থা করতে পেরেছে, এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজের মতো একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও ব্যাপক সংক্রান্ত আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা সম্ভব ছিল। দুঃখজনকভাবে, কলেজ প্রশাসনের পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার অভাবে সেই সুযোগটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। তবুও, আমরা আশাবাদী যে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিতভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের গৌরব ও ইতিহাসের অভিজ্ঞান দেখার চেষ্টা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে বিএম কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তকণ্ঠ, উত্তরণ ও ব্রজমোহন থিয়েটারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন