০৫:৩৫ পি.এম
রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকায় ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে মো. রেজাউল মন্ডল (১৮) ও মো. শাহীদুল মিয়া (২৭) নামের দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, তাদেরকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মো. রেজাউল মন্ডল পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মন্ডলের ছেলে এবং মো. শাহীদুল মিয়া একই গ্রামের মৃত আতর আলী মিয়ার ছেলে।
সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিরা মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া পলাতক ছিলেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মো. একলাস উদ্দিন মালিথা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারায় আসামি মো. রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার পুত্র মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) পাংশা থানার বাগদুলী গ্রামে তার নানা মো. সাবিন ব্যাপারীর বাড়িতে লেখাপড়া করতেন। ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, ১০ মে রাত ১০টার সময় মো. রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতনামারা মো. ফারুক ওরফে মারুফ এবং তার খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলাম (১২) কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নামে অপহরণ করে। ১৭ দিন পরে মো. আজিজুল ইসলাম পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে এসে চায়ের দোকানদারের মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে ঘটনা জানান। এরপর মো. ফারুক ওরফে মারুফের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ ও সভাপতির অপসারণ দাবি করে কলেজে বিক্ষোভ
মামলা দায়েরের পর তদন্তে প্রকাশ পায় যে, মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া অজ্ঞাত পাচারকারীদের সাথে যোগসাজসে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ১০ মে রাত ১০টার দিকে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে প্রথমে মোটরসাইকেলে করে পাংশা থানার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে অপরিচিত দুজন পাচারকারীর কাছে হস্তান্তর করে। সেখান থেকে ওই ২ জন অপরিচিত পাচারকারী মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে একটি পিকআপে করে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায়। ট্রেনে উঠিয়ে পানীয় জাতীয় কিছু পান করিয়ে তাদেরকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর তারা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। পাচারকারীরা সেখান থেকে প্রথমে মো. ফারুক ও মারুফকে ভারতে পাচার করে দেয়, যার আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পাংশা থানার এসআই কামাল হোসেন ভূঁইয়া এ মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তে মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়ার বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, মামলাটি প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৮ জন সাক্ষীকে পরীক্ষা করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রমাণিত হয় যে, মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া মানব পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা অজ্ঞাত পাচারকারীদের সাথে পরস্পর যোগসাজসে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে আটকে রাখে। পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, অপর ভুক্তভোগী মো. আজিজুল ইসলাম কৌশলে পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে আসেন এবং তিনি এ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়াকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারার অপরাধে আসামি মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০(১) ধারার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশ তদন্ত শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন