ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মাইক টাইসনের ধর্ষণ মামলা নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে বিতর্ক


মাইক টাইসনের ধর্ষণ মামলা নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে বিতর্ক

মাইক টাইসন এক সময় বক্সিং রিংয়ে আতঙ্কের প্রতীক ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তবে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্ক, কারাবাস, মাদকাসক্তি এবং নির্যাতনের অভিযোগও তাঁকে বারবার আলোচনায় এনেছে। সম্প্রতি, নেটফ্লিক্সের চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইসন’ তাঁর জীবনের এসব অধ্যায় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

১৩ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে এটি বিশ্বব্যাপী ৫১ লাখ ভিউ পায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩৮ লাখ ভিউ যুক্ত হওয়ায় দুই সপ্তাহে মোট দর্শকসংখ্যা ৮৯ লাখে পৌঁছায়। নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় এই প্রামাণ্যচিত্রটি দুই সপ্তাহ ধরে চতুর্থ অবস্থানে ছিল।

সিরিজটিতে টাইসনের দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বসেরা বক্সার হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী টাইসন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। অপরাধপ্রবণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই কিশোরের জীবন বদলে দেন বক্সিং প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতো। তাঁর সহায়তায় টাইসন পেশাদার বক্সিংয়ে প্রবেশ করেন এবং অল্প বয়সেই বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে যান।

আরও পড়ুন: আসিফ আকবর: ডিসেম্বর জানুয়ারি করলেও দেশে আর ঠিকানা নেই

তবে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পরও বিতর্ক তাঁকে ছাড়েনি। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন টাইসন। এই কারণে তাঁকে তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয়। যদিও তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের কানে কামড় বসানোর ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। সিরিজটিতে দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মাদকাসক্তি এবং ছোট মেয়ের অকালমৃত্যুর মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে টাইসনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের মামলার অভিযোগকারী ডিজিরি ওয়াশিংটন এবং টাইসনের সাবেক স্ত্রী রবিন গিভেন্সের বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও গিভেন্স কেউই নতুন সাক্ষাৎকার দেননি, ফলে তাঁদের অভিজ্ঞতার তুলনায় টাইসন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য বেশি স্থান পেয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সমালোচকেরা প্রামাণ্যচিত্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, টাইসন নিজের অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বললেও গুরুতর অভিযোগগুলোর দায় স্বীকারের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর মতো গণমাধ্যম সিরিজটির প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, টাইসনের অস্থির এবং আবেগপ্রবণ ব্যক্তিত্ব পর্দায় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘টাইসন’ শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি বক্সারের জীবনী নয়, বরং অতীতের অপরাধ, অনুশোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জটিল সম্পর্কও সামনে এনেছে। মানুষ কি সত্যিই নিজের অতীত থেকে বদলে যেতে পারে, নাকি সময়ের সঙ্গে শুধু নিজেকে উপস্থাপনের ধরন পাল্টায়? সিরিজটি দর্শকদের সামনে সেই প্রশ্নই রেখে গেছে।

আরও পড়ুন: ‘প্রেম প্রকাশ্যে আনতে চাই না’—কেয়া পায়েল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনা, প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনা, প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর তথ্য জানাতে হাইকোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আদালতে বিস্তারিত হলফনামা আকারে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামী ১৬ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ জারি করেন।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যিনি আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডলের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।

আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে ২০২০ সালে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রদত্ত ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পুনরায় পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।

২০২০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা এক জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

এই নির্দেশনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পানি ছিটানো, বালু পরিবহনের ট্রাক ঢেকে রাখা, নির্মাণকাজের স্থান ঘিরে রাখা, বিভিন্ন মার্কেটের বর্জ্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগে ভরে অপসারণ এবং ঢাকার আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার নির্দেশনা।

এইচআরপিবির পক্ষে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পূর্বে ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনা পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককেও আদালতে তলব করা হয়েছিল।

শুনানিতে আজ এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ উল্লেখ করেন, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে ঢাকায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

রিটের আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং রিপন বাড়ৈ। বিবাদীদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ প্রদান করেন।

আদেশে এসব ইটভাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বলা হয়। পাশাপাশি ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণ এবং দূষণরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করেন এইচআরপিবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসামে শিল্প পার্কের জন্য ৬৪০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


আসামে শিল্প পার্কের জন্য ৬৪০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ

আসামের ধুবড়ি জেলায় গত রবিবার এক উচ্ছেদ অভিযানে ৬৪০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘স্ক্রোল’কে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন জানিয়েছে, এতে চার হাজারের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এই উচ্ছেদ অভিযান আলমগঞ্জ পার্ট-৯ গ্রামে সরকারি মালিকানাধীন দাবি করা ৬৫০ বিঘা জমির ওপর পরিচালিত হয়।

ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ ‘স্ক্রোল’কে জানিয়েছেন, মোট ৮০০ বিঘা জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু জমিতে আদালতের মামলা বিচারাধীন থাকায় বাকি ১৫০ বিঘায় আপাতত অভিযান চালানো হয়নি।

দিবাকর নাথ বলেন, ‘এই জমি শিল্প বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে, যারা গত দুই বছর ধরে একটি শিল্প পার্ক তৈরির জন্য জমির সন্ধান করছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।’

তিনি দাবি করেন যে, বাসিন্দারা বিভিন্ন দফায় এই সরকারি জমিতে বসতি গড়ে তুলেছিলেন—কেউ পাঁচ বছর আগে, আবার কেউ দশ বছর আগে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তাদের অধিকাংশেরই অন্য জায়গায় জমি রয়েছে।’

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের আগেই বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকির ‘স্ক্রোল’কে বলেন, উচ্ছেদের আগেই তিনি তাঁর ঘরের কিছু অংশ নিজে থেকেই ভেঙে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ বুলডোজার দিয়ে তিনটি বাড়ি, গাছপালা, শৌচাগার সবকিছু গুঁড়িয়ে সমতল করে দেওয়া হয়েছে।’

আলী চাঁদ জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ও বন্যার কারণে পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া জেলা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তিনি ১৯৬২ সাল থেকে এই গ্রামে বসবাস করছেন।

তিনি আরও জানান, ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এখানকার বহু বাসিন্দা ‘তৌজি’ ব্যবস্থার অধীনে রাজস্ব বা ভূ-কর প্রদান করেছেন। ‘তৌজি’ রসিদ হলো সরকারি জমিতে বসবাসকারীদের কর পরিশোধের এক ধরনের প্রমাণপত্র।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিকল্প কোনো জমি না থাকায় বাস্তুচ্যুতদের অধিকাংশই এখন আত্নীয়দের বাড়িতে, রাস্তার পাশে ত্রিপল খাটিয়ে তৈরি অস্থায়ী কুঁড়েঘরে অথবা নিচু চরাঞ্চলে বসবাস করছেন।’

আসামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও মুসলিম-বিদ্বেষী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করেছে, যা তারই অংশ। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এক দ্বিমুখী অভিযানে নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলাজুড়ে ১,১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।

রাজ্য রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘স্ক্রোল’-এর তৈরি হিসাব অনুযায়ী, আসামে বিজেপি শাসনের গত দশ বছরে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯,০০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ পরিবারই মুসলিম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে ইতিহাস পরিবহনের ১২ বাস আটক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে বাসে হেনস্তা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতিহাস পরিবহনের ১২টি বাস আটক করেছেন। অভিযুক্ত বাসকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বাসগুলো আটক করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) ক্যাম্পাস থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি একটি বাসে ওঠেন। তবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাসা থেকে ফোন করে তাকে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসতে বলা হয়। পরে রাস্তা পার হয়ে তিনি ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন।

ওই ছাত্রী জানান, হেমায়েতপুর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বাসভাড়া ১০ টাকা হলেও বাসের কন্ডাক্টর তার কাছ থেকে ২০ টাকা আদায় করেন। পরে নির্ধারিত স্থানে বাস না থামিয়ে তাকে চলন্ত বাস থেকে নামতে বলা হয়।

এ সময় বাস থামানোর পর নামবেন বলে জানালে কন্ডাক্টর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

তিনি আরো জানান, এ সময় তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত বাসকর্মী আর এগোননি। বাস থেকে নামার পর তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা আরেকজনকে উদ্দেশ করে গালাগালা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, বাসভাড়া নিয়ে রবিবার ইতিহাস পরিবহনের এক বাসচালকের সহকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এর প্রতিবাদে সোমবার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কয়েকটি বাস আটক করে অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা অভিযুক্তকে শনাক্ত করে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাওয়া অনুযায়ী কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুশোচনা প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য সহকারী প্রক্টর জয় ও সহকারী প্রক্টর শায়লা শারমিন সেতুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন

 কাফনের কাপড় পরে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিকরা। হাতে হত্যার বিচারের দাবি, চোখেমুখে ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ভাষা। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার বিচারের দাবিতে এমনই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন দুই শতাধিক সাংবাদিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির, পরিচালক (বিচার ও সালিশ) জামাল উদ্দিন খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন মানিক।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মো. ইয়াহিয়া আরিফ, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর বিপিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনূর ইসলাম রাব্বিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার না হন, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা সংগঠনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

কর্মসূচি শেষে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান আয়োজকেরা।

আয়োজকেরা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার শুধু তাঁর পরিবারের একার দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%