০৫:৩৭ পি.এম
মাইক টাইসন এক সময় বক্সিং রিংয়ে আতঙ্কের প্রতীক ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তবে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্ক, কারাবাস, মাদকাসক্তি এবং নির্যাতনের অভিযোগও তাঁকে বারবার আলোচনায় এনেছে। সম্প্রতি, নেটফ্লিক্সের চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইসন’ তাঁর জীবনের এসব অধ্যায় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
১৩ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে এটি বিশ্বব্যাপী ৫১ লাখ ভিউ পায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩৮ লাখ ভিউ যুক্ত হওয়ায় দুই সপ্তাহে মোট দর্শকসংখ্যা ৮৯ লাখে পৌঁছায়। নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় এই প্রামাণ্যচিত্রটি দুই সপ্তাহ ধরে চতুর্থ অবস্থানে ছিল।
সিরিজটিতে টাইসনের দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বসেরা বক্সার হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী টাইসন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। অপরাধপ্রবণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই কিশোরের জীবন বদলে দেন বক্সিং প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতো। তাঁর সহায়তায় টাইসন পেশাদার বক্সিংয়ে প্রবেশ করেন এবং অল্প বয়সেই বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে যান।
আরও পড়ুন: আসিফ আকবর: ডিসেম্বর জানুয়ারি করলেও দেশে আর ঠিকানা নেই
তবে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পরও বিতর্ক তাঁকে ছাড়েনি। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন টাইসন। এই কারণে তাঁকে তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয়। যদিও তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের কানে কামড় বসানোর ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। সিরিজটিতে দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মাদকাসক্তি এবং ছোট মেয়ের অকালমৃত্যুর মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে টাইসনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের মামলার অভিযোগকারী ডিজিরি ওয়াশিংটন এবং টাইসনের সাবেক স্ত্রী রবিন গিভেন্সের বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও গিভেন্স কেউই নতুন সাক্ষাৎকার দেননি, ফলে তাঁদের অভিজ্ঞতার তুলনায় টাইসন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য বেশি স্থান পেয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সমালোচকেরা প্রামাণ্যচিত্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, টাইসন নিজের অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বললেও গুরুতর অভিযোগগুলোর দায় স্বীকারের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর মতো গণমাধ্যম সিরিজটির প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, টাইসনের অস্থির এবং আবেগপ্রবণ ব্যক্তিত্ব পর্দায় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ‘টাইসন’ শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি বক্সারের জীবনী নয়, বরং অতীতের অপরাধ, অনুশোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জটিল সম্পর্কও সামনে এনেছে। মানুষ কি সত্যিই নিজের অতীত থেকে বদলে যেতে পারে, নাকি সময়ের সঙ্গে শুধু নিজেকে উপস্থাপনের ধরন পাল্টায়? সিরিজটি দর্শকদের সামনে সেই প্রশ্নই রেখে গেছে।
আরও পড়ুন: ‘প্রেম প্রকাশ্যে আনতে চাই না’—কেয়া পায়েল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন