ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে গ্রীষ্মে ২,৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব: আইইইএফএ


বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে গ্রীষ্মে ২,৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব: আইইইএফএ

গরমের সময় বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার বিদ্যুতের চাহিদাকে ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াটে নিয়ে যায়। যদি সাধারণ ফ্যানের পরিবর্তে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করা হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এর ফলে বছরে ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, যা আর্থিকভাবে ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সমান। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এড়ানো সম্ভব হবে।

এই তথ্যগুলো ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ‘হাউসহোল্ড স্পেস কুলিং ইন বাংলাদেশ: রোল অব এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্যানস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আইইইএফএর বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। গবেষণাটি দেশের ২৬ জেলার ৪৩৫টি পরিবারের ওপর পরিচালিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: আলমগীর হোসেনকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ বায়োজেনের

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট ফ্যানের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ বিএলডিসি প্রযুক্তির। এই ফ্যানগুলো চালাতে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যেখানে সাধারণ ফ্যানের জন্য ৭০ ওয়াট বা তার বেশি বিদ্যুৎ লাগে। গ্রীষ্মকালে রাত ৯টার দিকে বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়, যা বিদ্যুতের চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) জন্য বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং বিপিডিবির ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

তবে, এসব ফ্যানের দাম বেশি হওয়ায় তাদের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ পরিবার জানে না যে বাজারে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান পাওয়া যায়। অথচ, এসব ফ্যানের সুবিধা জানার পর ৯৬ শতাংশ পরিবার তা ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি সাধারণ ফ্যানের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, যেখানে বিএলডিসি ফ্যানের দাম ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে।

দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা বা তার কম। এসব পরিবারের গ্রীষ্মকালীন গড় মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৬৬৩ টাকা। আর্থিক সহায়তা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করে ফ্যানের বাড়তি দাম পুষিয়ে নিতে ৭ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৬ বছর লাগতে পারে। তবে, বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনা এবং কার্বন ক্রেডিট বিক্রির অর্থ কাজে লাগালে এ সময় কমে ৪ দশমিক ৮ বছরে আসবে।

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ার ঘোষণা রাষ্ট্রমন্ত্রীর

এই পরিস্থিতিতে, আইইইএফএ বিএলডিসি ফ্যানের দাম কমানোর জন্য সরকারের কাছে বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনার উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিশেষ অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কিস্তিতে ফ্যানের দাম পরিশোধের সুযোগ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্যানের মান নির্ধারণ ও বিদ্যুৎ খরচের তথ্যসংবলিত লেবেলিং ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করতে পারে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। পাশাপাশি, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের সুবিধা সম্পর্কে প্রচার চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠান (সুপার ইএসসিও) গঠন এবং ফ্যানের মান নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের সংকটের মধ্যে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। এসব ফ্যান ব্যবহারের শুরুতেই বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকবে।

আরও পড়ুন: প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ নিয়ে ডেসকোর জরুরি নির্দেশনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবি পার্টি: সরকারের ব্যর্থতা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


এবি পার্টি: সরকারের ব্যর্থতা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি; এই সব মিলিয়ে সরকার দেশকে কঠিন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে অনুষ্ঠিত এবি পার্টির সম্পাদকীয় কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। তৈরি পোশাকশিল্প এবং জনশক্তি রপ্তানি খাতেও নতুন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গার্মেন্টসে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা অন্যান্য পেশার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধের প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বিরোধী দলকে সংসদ ও রাজনৈতিক পরিসরে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ের বৈধতা নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ের বৈধতা নিয়ে আলোচনা

মেয়ের বিয়ে একটি মা-বাবার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রত্যেক অভিভাবক চান, তাদের মেয়ের স্বামী যেন দ্বীনদার, সৎ, দায়িত্বশীল এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হন। কারণ বিয়ে শুধুমাত্র দুটি মানুষের সম্পর্ক নয়; বরং এটি একটি নতুন পরিবার, নতুন জীবন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু যখন কোনো পাত্রের উপার্জনের সঙ্গে সুদ বা হারাম লেনদেন জড়িত থাকে, তখন অভিভাবকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এমন ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত হবে? তার উপার্জন হারাম হলে সংসারজীবনে কী প্রভাব পড়বে? আর পাত্র ভালো চরিত্রের হলেও যদি সে সুদি কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে করণীয় কী?

ইসলামের আলোকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কুরআন ও হাদিসের আলোকে জেনে নেওয়া যাক এর বিধান।

১. সুদ ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম

ইসলাম সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সুদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর বলেছেন, তারা সবাই (গুনাহের ক্ষেত্রে) সমান।’ (মুসলিম ১৫৯৮)

অতএব, সুদি কারবারকে সাধারণ কোনো ব্যবসা বা পেশা মনে করার সুযোগ নেই। এটি ইসলামে গুরুতর কবিরা গুনাহ।

২. সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে কি?

এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি বিষয় বুঝতে হবে—কোনো ব্যক্তির সুদি কারবারে জড়িত থাকা এবং তার সঙ্গে বিয়ের বৈধতা এক বিষয় নয়।

শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার সঙ্গে বিবাহবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না। তবে সে যদি জেনেশুনে সুদের কাজে লিপ্ত থাকে এবং তওবা না করে, তাহলে তার দ্বীনদারি ও চরিত্র নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

এমন পাত্রের ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে সে যদি সুদকে হারাম মনে করেও তা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তাকে পাত্র হিসেবে গ্রহণ না করাই উত্তম।

শাইখ ইবনে বায (রহ.)-এর কাছে এমন একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল—একজন পাত্র সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করেন। তাকে চাকরি ছাড়তে বলার পরও তিনি বিকল্প চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে চান। এমন পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে কি?

জবাবে তিনি বলেন, পাত্রের অবস্থা যদি এমনই হয়, তাহলে সে ওই চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার কাছে মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সুতরাং অভিভাবকদের উচিত পাত্রের সুদি কারবারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং তাকে হালাল উপার্জনের পথে আসতে উৎসাহিত করা।

৩. বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রের দ্বীনদারি ও চরিত্রকে প্রাধান্য দিন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ

‘তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও।’ (তিরমিজি ১০৮৪)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারি ও উত্তম চরিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শুধু অর্থ-সম্পদ, চাকরি, বাড়ি-গাড়ি কিংবা সামাজিক মর্যাদা দেখে মেয়ের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং পাত্রের নামাজ, ধর্মীয় অনুশীলন, সততা, দায়িত্ববোধ, হালাল-হারামের প্রতি সচেতনতা এবং পারিবারিক আচরণ যাচাই করা জরুরি।

৪. পাত্রের উপার্জন হারাম হলে সংসারে কী প্রভাব পড়বে?

হারাম উপার্জন মানুষের জীবনে বরকতহীনতা ও আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। তাই একজন মুসলিমের উচিত নিজের উপার্জনকে হালাল রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম ১০১৫)

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্বামীর উপার্জনে হারাম অংশ থাকলেই স্ত্রীর প্রতিটি খাবার বা সংসারের প্রতিটি সম্পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম হয়ে যায়—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। উপার্জনের ধরন, অর্থের উৎস এবং স্ত্রীর জানা-অজানা ও ভূমিকার ওপর বিধান নির্ভর করতে পারে। তাই বিয়ের আগেই পাত্রকে হালাল উপার্জনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলা উচিত।

৫. পাত্র সুদি কারবার ছেড়ে তওবা করলে কী করবেন?

কোনো ব্যক্তি আগে সুদের সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে যদি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, সুদি কারবার ছেড়ে দেয় এবং হালাল উপার্জনের চেষ্টা শুরু করে, তাহলে তার অতীতের কারণে তাকে চিরদিনের জন্য অযোগ্য মনে করা উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا

‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)

সুতরাং পাত্রের মধ্যে তওবার আন্তরিকতা, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং দ্বীনের প্রতি দায়িত্ববোধ দেখা গেলে তার বিয়ের প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে।

৬. মেয়ের সম্মতি নেওয়াও জরুরি

বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের মতামত ও সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অভিভাবকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মেয়েকে বিয়েতে বাধ্য করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ

‘বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (বুখারি ৫১৩৬, মুসলিম ১৪১৯)

তাহলে পাত্রের দ্বীনদারি ও চরিত্র যাচাই করার পাশাপাশি মেয়ের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মেয়ের বিয়ে শুধুমাত্র একজন উপার্জনক্ষম পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এমন একজন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার বিষয়, যার সঙ্গে আপনার মেয়ে দ্বীনের পথে চলতে পারবে এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সংসার গড়ে তুলতে পারবে।

সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়। তবে সুদ যে মারাত্মক হারাম, তা জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সুদি কারবারে লিপ্ত থাকে এবং তাওবা করতে আগ্রহী নয়, তাকে পাত্র হিসেবে গ্রহণ না করাই বিচক্ষণতা।

অন্যদিকে, কেউ যদি সুদ থেকে আন্তরিকভাবে তওবা করে, হালাল উপার্জনের পথে ফিরে আসে এবং তার দ্বীনদারি ও চরিত্র সন্তোষজনক হয়, তাহলে তাকে বিয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে।

মনে রাখবেন, মেয়ের জন্য ধনসম্পদশালী স্বামীর চেয়ে দ্বীনদার, সৎ, দায়িত্বশীল ও হালাল উপার্জনে আগ্রহী স্বামী নির্বাচন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের জন্য নেককার জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার তৌফিক দান করুন এবং সব ধরনের হারাম উপার্জন ও সুদি লেনদেন থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ এম


ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। মস্কো নতুন হামলার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানান, হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে মস্কো।

জাখারোভা মন্তব্য করেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ইরানে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সামরিক অভিযান দেশটির জনগণের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার সংকল্প ভাঙতে ব্যর্থ। যারা আজ নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতা করা অত্যন্ত জরুরি।

জাখারোভা বলেন, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা এবং পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়নে অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। এ ক্ষেত্রে প্রণালিসংলগ্ন দেশগুলোর বৈধ স্বার্থ এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে ব্যবহারে আগ্রহী দেশগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় নিতে হবে।’

জাখারোভা উল্লেখ করেন, ‘এ বিষয়টি ইরানের ক্ষেত্রেও পুরোপুরি প্রযোজ্য। কারণ, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নৌ অবরোধের মুখে রয়েছে।’ সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ

বোম্বে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা, ইমরান খানকে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


বোম্বে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা, ইমরান খানকে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ

ভারতের মুম্বাইয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিদেশি নাগরিকত্ব এবং ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের কারণে অভিনেতা ইমরান খানকে বোম্বে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ওসিসি কার্ডধারীরা ভারতে বসবাসের সময় কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না।

মুম্বাইয়ে গত মাসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। এই নোটিশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

সোমবার (০২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত পরবর্তী শুনানিতে আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ ০৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ালেও, এই ঘটনায় তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র একটি সাধারণ হলফনামা জমা দিলেই চলবে না, তাকে পরিষ্কারভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

শুনানির সময় আদালত মন্তব্য করে বলেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক যদি বিদেশে গিয়ে এ ধরনের কাজ করতেন, তবে তাকে পরের ফ্লাইটে সোজা ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হতো।’

আদালত আরও উল্লেখ করে, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, অথচ এতদিন কখনো কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। এত দিন এখানে থাকার পর হঠাৎ এখন কেন একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’

বিচারপতিরা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করুন, এমনকি সেখানে গিয়ে ভোটও দিতে পারেন; কিন্তু আমাদের এখানে আপনাদের কোনো বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’

তবে এর পাশাপাশি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্ব একটি পরিবার) নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত আশা প্রকাশ করেন যে, একসময় সবাই উদারতা দেখিয়ে এই মানুষটিকে ভারতেই থাকার সুযোগ দেবেন।

মামলার শুনানিতে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন যে, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি ভারতের ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় তার অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা একজন পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকের চেয়ে সীমিত।

তিনি জানান, ইমরান খান জনসাধারণের ওপর যথেষ্ট প্রভাব রাখেন এবং ইনস্টাগ্রামে তিনি বেশ জনপ্রিয়। বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য জানার পর তিনি তাতে অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, অভিনেতা ইমরান খান আদালতকে জানান যে, গত দুই বছর আমেরিকায় কাটানো বাদে তার পুরো জীবনটাই ভারতে কেটেছে। ভারতই তার আসল ঠিকানা। তার সন্তান, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন—সবকিছুই ভারতে অবস্থিত এবং তার শিকড় এই দেশেই গাঁথা।

উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সিজেপি-র প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার পর মুম্বাইয়ে আটক হন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিক এবং ওসিসি কার্ডধারী হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে গত ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%