১২:২০ এম
বাংলাদেশ সফরের পূর্বে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সফর করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। সেখানে তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার, পাকিস্তান সফর শেষে তিনি ঢাকায় আসছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনের এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
ঢাকায় লিউ হাইশিংয়ের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আগামীকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিতব্য ‘চায়না-বাংলাদেশ পলিটিক্যাল পার্টিজ প্লাস’ শীর্ষক রাউন্ডটেবিল বৈঠক। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া এই আয়োজনে দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। একই অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হবে বাংলাদেশ-চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ।
আরও পড়ুন: সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সুপারিশ
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য চীনের বিশাল অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি ও রপ্তানি খাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের জন্য চীনের বিশাল বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শিল্পপ্রযুক্তিতে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে লিউ হাইশিংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে লিউ হাইশিংয়ের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক যোগাযোগকে বাস্তব অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়া গেলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘পতিত সরকারের দোসররা শ্রমিক আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন