ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর ১৪ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে জার্মান ব্যক্তি গ্রেপ্তার


ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর ১৪ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে জার্মান ব্যক্তি গ্রেপ্তার

৬৮ বছর বয়সী একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্মে পরিচিত হওয়া ১৪ জন নারীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জার্মান রাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা আরো অভিযোগ করেছেন যে, ধর্ষণের ভিডিওও ধারণ করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

বার্লিনের পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ১৪ জন নারীকে নিয়ে ২২টি গুরুতর ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে; তবে তিনি মোট ৫৮ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন। কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের সময় আগে থেকেই নজরদারিতে থাকা আরেকজন ব্যক্তির চ্যাট লগে ৬৮ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনের নাম উঠে আসে এবং এই অন্য ব্যক্তি ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

পথে গত বছর অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশ একটি তল্লাশি চালায়। পরবর্তীতে জব্দ করা মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু ভিডিও উদ্ধার করেন, যা থেকে একাধিক যৌন অপরাধের তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে বিচারপূর্ব আটকাবস্থায় রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তারা আরো জানান, বর্তমানে বার্লিনের আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে যে মামলাটি বিচারের দিকে এগোবে কি না।

আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অনলাইনে নারীদের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তাদের ঘুমের ওষুধ ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ খাইয়ে ধর্ষণ করতেন। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউই ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা মনে করতে পারেননি এবং তদন্তকারীদের উদ্ধার করা ভিডিও দেখানোর পরই তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিডিওগুলিতে থাকা ৫৮ জন নারীর মধ্যে ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং আরো ১০ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে ধর্ষণের দায়ে ৩২ বছর বয়সী এক চীনা বংশোদ্ভূত ডাক্তারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই মামলাটি সামনে আসে।

বার্লিনের আঞ্চলিক আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এমন একটি চ্যাট গ্রুপের অংশ ছিলেন, যেখানে চেতনানাশক প্রয়োগ করা নারীদের ধর্ষণের বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করার প্রমাণ মেলেছে। ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি গ্রুপের অন্য সদস্যদের বারবার পরামর্শ দিয়েছেন। বিচারক বলেছেন, 'যৌন অপরাধ এখন আর নীরবে ও গোপনে সংঘটিত হয় না, বরং ইন্টারনেটে প্রকাশ্যে শেয়ার করা হয়।'

সর্বশেষ এই মামলায় প্রসিকিউটররা বলছেন, পাঁচ বছরের সময়সীমার কারণে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা ৩৬টি ধর্ষণের অভিযোগগুলো তাদের প্রত্যাহার করতে হতে হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর ধর্ষণের ২২টি অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারের জন্য ২০ বছরের সময়সীমা প্রযোজ্য। যদিও জার্মানিতে বর্তমানে ধর্ষণের অনেক মামলার বিচারের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ বছর। গত মাসে আইনমন্ত্রী স্টেফানি হুবিগ বলেছেন, তিনি মনে করেন এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০ বছর করা উচিত। আইনমন্ত্রী আইনে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব করেছেন, যেখানে ধর্ষণ বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে তথাকথিত 'ডেট-রেপ ড্রাগস' ব্যবহারের জন্য দোষী সাব্যস্ত যেকোনো ব্যক্তির ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হবে।

দুই বছর আগে জার্মানির সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল যে, পানীয়ের সঙ্গে মেশানো 'ডেট-রেপ ড্রাগস' যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে 'বিপজ্জনক সামগ্রী' হিসেবে গণ্য হবে না। আইনমন্ত্রী বলেছেন, এর মানে হলো বাস্তবে ন্যূনতম সাজা হবে তিন বছর। এখন তার খসড়া সংশোধনীতে সরকার বলছে, ভবিষ্যতে যৌন অপরাধ বা ডাকাতি সংঘটনের সময় ব্যবহৃত সব বিপজ্জনক সামগ্রী ও পদার্থ, অন্যান্য যেকোনো অস্ত্র বা বিপজ্জনক সরঞ্জামের পাশাপাশি তালিকাভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন সেনা, শেষ হবে ২৩ বছরের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২৮ পি.এম


৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন সেনা, শেষ হবে ২৩ বছরের উপস্থিতি

মার্কিন সেনা ইরাক থেকে তাদের সব সেনা প্রত্যাহার করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটবে। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীকালে, এই সামরিক উপস্থিতির মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা। মঙ্গলবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন।

বৈঠকের সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "ইরাকে এখন আর বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই" বলে মনে করছেন ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, "ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বর্তমানে অনেক বেড়েছে"। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে দেশটির পাশে থাকবে। তবে বর্তমানে সেখানে সেনা রাখার প্রয়োজন নেই বলেই তিনি মনে করেন।

বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা ইরাক ছেড়ে যাবে। কিন্তু মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। পেন্টাগন বলেছে, এই সেনা প্রত্যাহার ২০২৪ সালে ইরাকের সঙ্গে করা চুক্তির বাস্তবায়নের অংশ। ওই চুক্তিতে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ধীরে ধীরে আইএসবিরোধী অভিযানের দায়িত্ব ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে।

মার্কিন সেনারা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা সংখ্যা কমিয়ে কিছু সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা কার্যক্রম একত্র করেছে।

আরো পড়ুন: ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর অচেতন করে ১৪ নারীকে ধর্ষন, জার্মান ব্যক্তি গ্রেপ্তার।

এদিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির শুরু ২০০৩ সালের মার্চে হয়। তখন সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখে আসে। কিন্তু পরবর্তীকালে ওই অভিযোগের পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে, ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে পরে, সেনা সংখ্যা কমতে থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা একটি চুক্তির ভিত্তিতে ২০১১ সালে অধিকাংশ যুদ্ধরত সেনা ইরাক ছেড়ে যায়। তবে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য কিছু সেনা সেখানে থেকে যায়। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট ইরাক ও সিরিয়ার বড় অংশ দখল করলে ইরাক সরকারের অনুরোধে মার্কিন সেনারা আবার দেশে ফিরে আসে। তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তা করা।

২০২১ সালের মধ্যে আইএস তাদের দখলে থাকা বেশিরভাগ এলাকা হারায়। এরপর ২০২৪ সালের প্রত্যাহার চুক্তি হওয়া পর্যন্ত ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা কর্মরত ছিল। তারা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করত। এরপর থেকে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা বাড়তি কমানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে সীমিতসংখ্যক পরামর্শক সদস্য রয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে ২০২৪ সালের চুক্তির আওতায় ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এর মাধ্যমে ২০০৩ সালের যুদ্ধ দিয়ে শুরু হওয়া, এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় রূপান্তরিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দেহজনক লেনদেন ৭৪ শতাংশ বেড়েছে, এর ৯৫ শতাংশই ব্যাংকের মাধ্যমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


সন্দেহজনক লেনদেন ৭৪ শতাংশ বেড়েছে, এর ৯৫ শতাংশই ব্যাংকের মাধ্যমে

দেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের (এস‌এআর) প্রতিবেদন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সেখানে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫টি সন্দেহজনক প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টিতে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল, সেখানে চার বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে জমা পড়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন। এর ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, যা ২০১৫ সালে সংশোধিত হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুযায়ী রিপোর্টিং সংস্থাগুলো সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করতে আইনগতভাবে বাধ্য। কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন কিংবা কার্যক্রম শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিলম্ব না করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহজনক আচরণ শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধি।

পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও বাজি, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম বাড়ায় এসব লেনদেনের ওপর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলে দেশের ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে। গত তিন অর্থবছরে মোট প্রতিবেদনের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ব্যাংকগুলো থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৫ হাজার ৯৯১টির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ হাজার ৮০৯টি প্রতিবেদনের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে, এটি ব্যাংক খাতে কঠোর নজরদারি, উন্নত লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির ইতিবাচক প্রতিফলন।

অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ১২১টি থেকে বেড়ে ২৫০টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদন ৯০০টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫টিতে উন্নীত হয়েছে। তবে মোট প্রতিবেদনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশ যথাক্রমে প্রায় ১ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ঢাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতনিধি

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ঢাকা থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আজিম হাওলাদার (৩১) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) দ্বারা। এটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে একটি যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ঢাকা কেরানিগঞ্জ এলাকা থেকে। গ্রেপ্তারকৃত আজিম ভাণ্ডারিয়া থানার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের মোঃ ইসলাম ওরফে ইসমাইলের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, তাদের কাছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮, সিপিএসসি, বরিশাল এবং র‌্যাব-১০, সদর কোম্পানী, কেরানীগঞ্জের একটি চৌকস আভিযানিক দল ঢাকার কেরানিগঞ্জ এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলে তারা আজিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আজিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ১৭ মে ভাণ্ডারিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল (মামলা নং-১০, জিআর নং-৭২/২০০৮)। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার কারণে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সাজা ঘোষণার পর থেকেই আসামি আজিম চতুরতার সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিল। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেটি কার্যকর করার জন্য ভাণ্ডারিয়া থানায় পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকলেও র‌্যাব-৮ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রথমে ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি আজিমকে ইতিমধ্যেই ভাণ্ডারিয়ায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বললেন, ঢাকাকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে আমরা বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামী দেখতে চাই না; বরং আমরা সবাই ঢাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে একাত্মতাবদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চাই।

এটি তিনি বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যের মাধ্যমে বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নগরের মেয়র বা প্রশাসক অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় অবস্থায় থাকেন। কারণ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এই সমন্বয়হীনতার কারণে নগরবাসী নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানীতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বেড়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হলো, এ সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটের অর্থ ছাড় হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য প্রতিষ্ঠান একই সড়কে কাজ করতে শুরু করে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানালেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ সব ধরনের নাগরিক সেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এজন্য তিনি সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%