প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সেনা ইরাক থেকে তাদের সব সেনা প্রত্যাহার করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটবে। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীকালে, এই সামরিক উপস্থিতির মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা। মঙ্গলবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন।
বৈঠকের সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "ইরাকে এখন আর বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই" বলে মনে করছেন ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, "ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বর্তমানে অনেক বেড়েছে"। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে দেশটির পাশে থাকবে। তবে বর্তমানে সেখানে সেনা রাখার প্রয়োজন নেই বলেই তিনি মনে করেন।
বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা ইরাক ছেড়ে যাবে। কিন্তু মার্কিন কোম্পানিগুলো সেখানে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। পেন্টাগন বলেছে, এই সেনা প্রত্যাহার ২০২৪ সালে ইরাকের সঙ্গে করা চুক্তির বাস্তবায়নের অংশ। ওই চুক্তিতে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ধীরে ধীরে আইএসবিরোধী অভিযানের দায়িত্ব ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে।
মার্কিন সেনারা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা সংখ্যা কমিয়ে কিছু সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা কার্যক্রম একত্র করেছে।
আরো পড়ুন: ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর অচেতন করে ১৪ নারীকে ধর্ষন, জার্মান ব্যক্তি গ্রেপ্তার।
এদিকে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির শুরু ২০০৩ সালের মার্চে হয়। তখন সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখে আসে। কিন্তু পরবর্তীকালে ওই অভিযোগের পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে, ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে পরে, সেনা সংখ্যা কমতে থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা একটি চুক্তির ভিত্তিতে ২০১১ সালে অধিকাংশ যুদ্ধরত সেনা ইরাক ছেড়ে যায়। তবে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য কিছু সেনা সেখানে থেকে যায়। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট ইরাক ও সিরিয়ার বড় অংশ দখল করলে ইরাক সরকারের অনুরোধে মার্কিন সেনারা আবার দেশে ফিরে আসে। তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তা করা।
২০২১ সালের মধ্যে আইএস তাদের দখলে থাকা বেশিরভাগ এলাকা হারায়। এরপর ২০২৪ সালের প্রত্যাহার চুক্তি হওয়া পর্যন্ত ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা কর্মরত ছিল। তারা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করত। এরপর থেকে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা বাড়তি কমানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে সীমিতসংখ্যক পরামর্শক সদস্য রয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে ২০২৪ সালের চুক্তির আওতায় ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এর মাধ্যমে ২০০৩ সালের যুদ্ধ দিয়ে শুরু হওয়া, এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় রূপান্তরিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন