ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি


প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আটক করার ঘটনা ও তিরঙ্গা মিছিলে বিধিনিষেধ আরোপের জন্য বলিউড অভিনেতা এবং অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ সমালোচনা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তিনি দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। এছাড়া, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন প্রকাশ রাজ।

সম্প্রতি, ভারতের তিরুবনন্তপুরমের মানবীয়ম বীথিতে (কেরালা) জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআরের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার শুরুতে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি না থাকার কারণে পুলিশ আয়োজকদের বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর সভা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে প্রকাশ রাজ বলেন, "আন্দোলন দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও দেশের তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।" তিনি মহাত্মা গান্ধী, বিআর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমাদের শরীরে গান্ধীর রক্ত আছে, আম্বেদকরের রক্ত আছে, ভগৎ সিংয়ের রক্ত আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব।"

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশ রাজ আরও বলেন, "আপনাদের স্বৈরাচারী আচরণ করেও পার পেয়ে যাওয়ার ধারণা আমরা ভুল প্রমাণ করব।" তিনি প্রতিবাদে বাধা দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেন, "জ্ঞানেশ কুমার, আপনারা আমাদের থামাচ্ছেন কেন? আপনারা আমাদের বাধা দিচ্ছেন কেন? বেআইনিভাবে আটক করছেন কেন? এ থেকেই বোঝা যায়, কোথাও কিছু একটা ভুল হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "ভয়টা স্পষ্ট। আমি মোদিজিকে প্রশ্ন করছি— আপনার 'ঘরে ঘরে তিরঙ্গা' স্লোগানের কী হলো? আপনিই তো এই স্লোগান শুরু করেছিলেন। এখন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করতে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের গ্রেফতার করছেন কেন?"

প্রতিবাদকারীরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, "এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।"

আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অবস্থান প্রশংসনীয়, তবে সতর্কতার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অবস্থান প্রশংসনীয়, তবে সতর্কতার আহ্বান

মাদকবিরোধী

মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পিস্তল বের করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিএনপি নেতা রাশেদ খান নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি ইশরাকের মাদকবিরোধী অবস্থানকে প্রশংসনীয় মনে করেন, তবে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

রোববার

(১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন।

পোস্টে

তিনি উল্লেখ করেন, ইশরাক হোসেন হলেন একজন তরুণ উদীয়মান নেতা। রাজপথে সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছেন।

মন জয় করার মধ্য

দিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর আসনে

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশকে গভীরভাবে ধারণ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান সবসময় দৃঢ় দেখা গেছে।

উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে

খান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের শক্তিশালী অবস্থান প্রশংসনীয়। তবে মাদকসেবীদের আক্রমণের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন।

রাশেদ

আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার জন্য

রাশেদ

খান আশা প্রকাশ করছেন,

ইশরাক এ সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে

গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে নিজেকে

তিনি আরও বলেন, ইশরাককে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

মাদকসেবীদের

আচরণ ও নিরাপত্তাঝুঁকির প্রসঙ্গ

তুলে রাশেদ খান বলেন, মাদকাসক্ত

ব্যক্তিরা অনেক সময় জনপ্রতিনিধি,

এছাড়া, পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চিনতে না পারা মাদকসেবীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। মাদকের ঘোরে তারা অনেক কিছু করতে সক্ষম হন।

তারা যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে

বিএনপির

এই নেতা মনে করেন,

জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইশরাক হোসেনের উচিত আরও সচেতন হওয়া এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এতে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

থেকে নিজ এলাকায় জনগণকে

সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব

ইশরাকের

বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান

তিনি বলেন, সমালোচনার প্রেক্ষিতে ইশরাক স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে মাদকসেবীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

যেতে না পারেন, সে

দেশে

মাদকের বিস্তার এবং পুলিশ-প্রশাসনের

কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে

রাশেদ খান বলেন, মাদকবিরোধী

অভিযানে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগে ৫ জন বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


পাবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগে ৫ জন বহিষ্কার

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া, বহিষ্কৃত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও চার শিক্ষার্থীকে শোকজ করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।

এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের রাসেল আহমেদ ও মো. ফয়সাল আহমেদ এবং স্থাপত্য বিভাগের মো. শোয়েব উল হক, মাহমুদ হাসান ও আবদুল্লাহ তাইয়্যেব তকি।

শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থী হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ফয়সাল ইকবাল হিরন ও ঋতু সরকার এবং স্থাপত্য বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় সংঘটিত এ ঘটনায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ৭৭.২৭ নম্বর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব শাস্তি অনুমোদন করা হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তাঁদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে আইসিই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ তোলেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের জিম্মি করে একজনকে মারধর, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ হিরনের অভিযোগ, তাঁদের দুজনকে কক্ষের বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়। তাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানান এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ওই রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি শোয়েব স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি কেউ স্বীকার করেননি। ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরদিন সকালে আনসার সদস্যের মাধ্যমে ল্যাপটপটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

॥ তানজিম আনোয়ার ॥

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনতামূলক কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের জনগণ বা সরকারের স্বার্থ বিবেচনার আগে আমরা আমাদের নিজেদের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছি - এটাই মূল পার্থক্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের জনগণকে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রাখছি।’

শামা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুসৃত নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তার ভাষায়, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের স্বার্থই ছিল কেন্দ্রীয় বিবেচ্য বিষয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক বলয়ের দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ তার স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশ একা নয়। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোই এ নীতির লক্ষ্য।

শামা বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’

এ নীতিকে ‘বাস্তববাদী ও বাস্তবভিত্তিক’ আখ্যা দিয়ে শামা বলেন, বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন, উৎপাদনকেন্দ্র প্রয়োজন, প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ প্রয়োজন।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের জন্য কী ধরনের সুফল বয়ে আনবে, তার ভিত্তিতেই প্রতিটি অংশীদারিত্ব মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনলে আমরা যেকোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দেব। বিষয়টি খুবই সহজ।’

ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগ এবং ব্রিকস, সার্ক ও বিমসটেকের মতো বহুপক্ষীয় জোট ও আঞ্চলিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামা বলেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ পরস্পরবিরোধী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনো বিরোধ দেখি না।’

‘বন্ধু চাই, প্রভু নয়’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অধীনতামূলক প্রবণতা থেকে ইতিবাচক সরে আসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আগের সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল, যা কখনো কখনো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে।

তিনি বাসসকে বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এ নীতি থাকলেও বাস্তবে আগের সরকার অধীনতামূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত না করেই আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দিয়েছিল।

এর বিপরীতে বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি সার্বভৌমত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্টের অর্থ হলো, অন্য সবকিছুর আগে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তবে কোনো দেশের অধীনস্থ অবস্থান গ্রহণ করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতি হওয়া উচিত—বন্ধু চাই, প্রভু নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, সেটি আমাদের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু প্রভু হতে পারে না।’

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, সমমর্যাদার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরকালে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দিকেই এগোচ্ছে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

তবে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে বাংলাদেশকে সামরিক জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক জোটে যোগ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তবে অর্থনৈতিক চুক্তি ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই অংশ নিতে পারি।’

তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতির সম্প্রসারণ, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিজের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শাকসবজি ও মাছের বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রচলিত রপ্তানি খাতের বাইরেও নতুন বাজার সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতির সম্প্রসারণ করতে হবে।’

কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য অভ্যন্তরীণ শক্তি জরুরি

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংহতি, কার্যকর সুশাসন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বাইরের বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের খুবই সীমিত। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’

সাবেক এই কূটনীতিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর করার জন্য তিনটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো জাতীয় শক্তির সংহতি, বাংলাদেশের প্রয়োজনের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থ সামলানোর কূটনৈতিক দক্ষতা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক আবেগের বশবর্তী না হয়ে কোন দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ ধরনের মূল্যায়নে আবেগ বা আবেগপ্রবণতার কোনো স্থান নেই। আমাদের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হতে হবে নিজেদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে।’

সার্ক পুনরুজ্জীবনে অগ্রাধিকার

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করা সরকারের আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, ‘সার্ককে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, কী ধরনের নীতি নেওয়া যেতে পারে এবং কী রোডম্যাপ গ্রহণ করা যায়—তা নিয়ে আমরা সার্কের সব দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি।’

শামা জানান, সার্ক পুনরুজ্জীবনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সার্ক ও বিমসটেক উভয় সংস্থাকেই ভূমিকা রাখতে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘দুটি সংস্থাই পাশাপাশি কাজ করতে পারে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ভূরাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে এককভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করার চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স নামের একটি পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা প্রকাশ করেছে।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা তাদের সার্বিক কার্যক্রমের অনুসন্ধান করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।’

রিজভী আহমেদ জানান, মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স যেসব শর্তসাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল, তদন্তে সেসব শর্তের পরিপালনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫২৫টি যন্ত্র ওই সুবিধার আওতায় আমদানি করেছে। এর ফলে কোম্পানিটি শূন্য বা ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করেছে, অথচ ওই যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মোট ৩৭.০৮ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট নিরূপিত শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে না পাওয়া, আমদানি-রপ্তানির তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে অস্পষ্টতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%