ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় ইলন মাস্ক


প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় ইলন মাস্ক

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : শূন্যে ডিগবাজি খাওয়া স্পোর্টস কারের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে আবারও সংবাদ শিরোনামে এসেছেন ইলন মাস্ক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে ফিরে আসার এবং তাঁর গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি আগের বছরগুলোর মতো আর নিঃশর্ত প্রশংসা পাচ্ছেন না।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সেলেপাক মন্তব্য করেন, ‘১৯৫০-এর দশক থেকে মহাকাশ ভ্রমণ ও উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে আমাদের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেগুলোই বাস্তবে করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অথচ আমরা তাঁকে সেই মনোযোগ দিচ্ছি না, সেই বিস্ময় প্রকাশ করছি না, যা সম্ভবত তাঁর প্রাপ্য।’

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাস্ককে যেন সবখানেই দেখা যাচ্ছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর, তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বিশাল স্টারশিপ রকেট প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করে। পরে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মাস্কের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এই রকেটের জন্য ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ভূরাজনীতিতেও মাস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।

এমনকি একসময় টুইটার নামে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিও নতুন করে জনপ্রিয়তা ফিরে পাচ্ছে। মাস্কের মালিকানাধীন এক্স এখন সিলিকন ভ্যালির অভ্যন্তরীণ মহলে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা

তবে ধারাবাহিক সাফল্য সত্ত্বেও ডানপন্থি রাজনীতির প্রতি মাস্কের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার তাঁর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাস্কের করাতযন্ত্র হাতে নাড়ানোর দৃশ্যের চেয়ে এ পরিবর্তনের প্রতীকী ছবি আর নেই। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তাঁকে যন্ত্রটি উপহার দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে সরকারি দক্ষতাবিষয়ক দপ্তরের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর উদ্যোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ওই করাত।

ডিওজিইর মাধ্যমে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় ছড়িয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্যোগে ব্যাপক ব্যয়সংকোচন কার্যক্রম চালানো হয়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) কার্যত ভেঙে পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান হারানোর পেছনেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখে।

‘জাতীয় সম্পদ’

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

সরকারি ব্যয় কমানোর ওই আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তির প্রতিফলন দেখা যায় এক্সে মাস্কের পোস্টগুলোতেও। সেখানে তাঁর কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান ও ডানপন্থি ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পাশাপাশি রকেট উৎক্ষেপণ এবং টেসলার রোবোট্যাক্সি নিয়ে পোস্টও থাকে।

২০২৫ সালের মে মাসে ডিওজিই থেকে সরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের নাটকীয় অবনতি ঘটে। তবে এখন তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুসম্পর্ক ফিরে পেয়েছেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাস্কের হাতে দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান পদক তুলে দেন। এ সময় তাঁকে ‘জাতীয় সম্পদ’ এবং ‘আমাদের সময়ের টমাস এডিসন’ বলে অভিহিত করেন প্রেসিডেন্ট।

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক প্রচারে অন্তত ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে মাস্কের নিজ রাজ্য টেক্সাসে বড় ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারে। সেখানে জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী পিছিয়ে রয়েছেন।

বামঘেঁষা ভাষ্যকারদের কাছে মাস্ক এখন মানবকল্যাণে নিয়োজিত প্রযুক্তিপ্রতিভা হিসেবে নয়, বরং ট্রাম্প ও প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে ক্রমেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠছেন।

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত ‘মাস্ক’ নামের চার ঘণ্টার একটি প্রামাণ্যচিত্রে এ বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত ছবিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এ ধনকুবেরের জীবন ও কর্মজীবন তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থিত মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক পডকাস্টার কারা সুইশারকে বলেন, ‘একসময় আমি তাঁকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছিলাম, যিনি পাহাড়ের কিনারা থেকে লাফিয়ে পড়ে নিচে নামতে নামতেই প্যারাস্যুট আবিষ্কার করতে পারেন। আমার মনে হয়, বিশৃঙ্খলার মধ্যেই তিনি নিজের শক্তি খুঁজে পান।’

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা

তবে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই ধরে নিই, তাঁর আপাত উন্মাদনার পেছনে কোনো না কোনো পরিকল্পনা রয়েছে।’ তাঁর মতে, মাস্কের অনেক আলোচিত কর্মকাণ্ড আসলে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল কিংবা চোখের ধাঁধা হতে পারে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হতে পারে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর মাস্কের মতো এতটা নির্ভরশীল উদ্যোক্তা খুব কমই আছেন।

জুনে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া স্পেসএক্স নাসা ও পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি থেকে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার আয় করে। অন্যদিকে, টেসলার রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চালকবিহীন গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়, তার ওপর।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দাপট কমে, ইসরাইলে ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়কে রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তনের চেয়ে বিনিয়োগ হিসেবেই বেশি দেখা যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লোরিডায় প্রথম বাড়ি কিনলেই মিলতে পারে ১ লাখ ডলার, সুবিধা পাবেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


ফ্লোরিডায় প্রথম বাড়ি কিনলেই মিলতে পারে ১ লাখ ডলার, সুবিধা পাবেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা শহরে প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এই সুবিধাটি নগর কর্তৃপক্ষের দুটি আলাদা কর্মসূচির আওতায় পাওয়া যাবে। তবে, সকলেই এই অর্থ পাবেন না। সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করবে পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর।

টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের দুটি কর্মসূচি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি। প্রথম কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে, নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে দ্বিতীয় কর্মসূচির আওতায় আরও ৫০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ হলে মোট সহায়তা ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত নগর কর্তৃপক্ষের এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি দুটি কর্মসূচির সহায়তা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার পেয়েছেন। ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা পেতে হলে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হওয়া যাবে না। এছাড়া, অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। বাড়ি কেনার চুক্তি করার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির জন্য বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি পুনর্গঠন এলাকার সীমানার মধ্যে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের আওতায় পড়লেই হবে না; বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও পারিবারিক আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত রয়েছে।

নগর কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের তুলনায় আবেদনকারীর আয়ের স্তর বিবেচনা করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। তবে, এই আয়সীমা পূরণ করলেই সহায়তা নিশ্চিত নয়। কর্মসূচির অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

এই অর্থকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরা উচিত নয়। সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত মেনে বাড়িটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ থাকতে পারে।

তবে, বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন কিংবা বসবাসের শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।

প্রথমবার বাড়ি কিনতে গিয়ে যারা প্রাথমিক অর্থের জোগান দিতে সমস্যায় পড়েন, তাদের জন্য টাম্পার এই কর্মসূচি সহায়ক হতে পারে। তবে, সহায়তার পরিমাণ, তহবিলের প্রাপ্যতা ও আবেদনের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

অতএব, আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


প্রকাশ রাজের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঘোষণা, সিইসি অপসারণের দাবি

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আটক করার ঘটনা ও তিরঙ্গা মিছিলে বিধিনিষেধ আরোপের জন্য বলিউড অভিনেতা এবং অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ সমালোচনা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তিনি দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। এছাড়া, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন প্রকাশ রাজ।

সম্প্রতি, ভারতের তিরুবনন্তপুরমের মানবীয়ম বীথিতে (কেরালা) জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআরের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার শুরুতে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি না থাকার কারণে পুলিশ আয়োজকদের বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর সভা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে প্রকাশ রাজ বলেন, "আন্দোলন দমনের চেষ্টা সত্ত্বেও দেশের তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।" তিনি মহাত্মা গান্ধী, বিআর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমাদের শরীরে গান্ধীর রক্ত আছে, আম্বেদকরের রক্ত আছে, ভগৎ সিংয়ের রক্ত আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব।"

প্রকাশ রাজ আরও বলেন, "আপনাদের স্বৈরাচারী আচরণ করেও পার পেয়ে যাওয়ার ধারণা আমরা ভুল প্রমাণ করব।" তিনি প্রতিবাদে বাধা দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেন, "জ্ঞানেশ কুমার, আপনারা আমাদের থামাচ্ছেন কেন? আপনারা আমাদের বাধা দিচ্ছেন কেন? বেআইনিভাবে আটক করছেন কেন? এ থেকেই বোঝা যায়, কোথাও কিছু একটা ভুল হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "ভয়টা স্পষ্ট। আমি মোদিজিকে প্রশ্ন করছি— আপনার 'ঘরে ঘরে তিরঙ্গা' স্লোগানের কী হলো? আপনিই তো এই স্লোগান শুরু করেছিলেন। এখন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করতে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের গ্রেফতার করছেন কেন?"

প্রতিবাদকারীরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, "এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অবস্থান প্রশংসনীয়, তবে সতর্কতার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের অবস্থান প্রশংসনীয়, তবে সতর্কতার আহ্বান

মাদকবিরোধী

মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পিস্তল বের করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিএনপি নেতা রাশেদ খান নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি ইশরাকের মাদকবিরোধী অবস্থানকে প্রশংসনীয় মনে করেন, তবে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

রোববার

(১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন।

পোস্টে

তিনি উল্লেখ করেন, ইশরাক হোসেন হলেন একজন তরুণ উদীয়মান নেতা। রাজপথে সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছেন।

মন জয় করার মধ্য

দিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর আসনে

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি বাংলাদেশকে গভীরভাবে ধারণ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান সবসময় দৃঢ় দেখা গেছে।

উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবাদ করতে

খান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের শক্তিশালী অবস্থান প্রশংসনীয়। তবে মাদকসেবীদের আক্রমণের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল বের করার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন।

রাশেদ

আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার জন্য

রাশেদ

খান আশা প্রকাশ করছেন,

ইশরাক এ সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে

গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে নিজেকে

তিনি আরও বলেন, ইশরাককে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

মাদকসেবীদের

আচরণ ও নিরাপত্তাঝুঁকির প্রসঙ্গ

তুলে রাশেদ খান বলেন, মাদকাসক্ত

ব্যক্তিরা অনেক সময় জনপ্রতিনিধি,

এছাড়া, পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চিনতে না পারা মাদকসেবীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। মাদকের ঘোরে তারা অনেক কিছু করতে সক্ষম হন।

তারা যেকোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে

বিএনপির

এই নেতা মনে করেন,

জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইশরাক হোসেনের উচিত আরও সচেতন হওয়া এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। এতে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

থেকে নিজ এলাকায় জনগণকে

সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব

ইশরাকের

বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান

তিনি বলেন, সমালোচনার প্রেক্ষিতে ইশরাক স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে মাদকসেবীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

যেতে না পারেন, সে

দেশে

মাদকের বিস্তার এবং পুলিশ-প্রশাসনের

কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে

রাশেদ খান বলেন, মাদকবিরোধী

অভিযানে দুর্বলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগে ৫ জন বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


পাবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগে ৫ জন বহিষ্কার

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া, বহিষ্কৃত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও চার শিক্ষার্থীকে শোকজ করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।

এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের রাসেল আহমেদ ও মো. ফয়সাল আহমেদ এবং স্থাপত্য বিভাগের মো. শোয়েব উল হক, মাহমুদ হাসান ও আবদুল্লাহ তাইয়্যেব তকি।

শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থী হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ফয়সাল ইকবাল হিরন ও ঋতু সরকার এবং স্থাপত্য বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় সংঘটিত এ ঘটনায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ৭৭.২৭ নম্বর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব শাস্তি অনুমোদন করা হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তাঁদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে আইসিই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ তোলেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের জিম্মি করে একজনকে মারধর, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ হিরনের অভিযোগ, তাঁদের দুজনকে কক্ষের বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়। তাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানান এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ওই রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি শোয়েব স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি কেউ স্বীকার করেননি। ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরদিন সকালে আনসার সদস্যের মাধ্যমে ল্যাপটপটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%