বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:১৬ পি.এম
চট্টগ্রামে ধর্ষণ মামলায় এনসিপি নেতা আফতাব মজুমদার জয় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের মহানগর কমিটির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয়।
চান্দগাঁও থানায় একটি তরুণী এ মামলাটি দায়ের করেছেন, যেখানে জয়কে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন।
ওসি জানায়, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে জয়কে গত ১৯ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর অভিযুক্ত জয় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানার সুইট প্যালেস হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে তাঁকে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জয়কে বিয়ে করতে বারবার অনুরোধ জানান, কিন্তু জয় বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। শেষপর্যন্ত ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত জয় আগে থেকেই বিবাহিত।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ জয়কে আটক করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর হত্যার ঘটনায় বতর্মানে চলমান হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট আদালত কর্তৃক নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল।
কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ নির্ধারিত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এর ফলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এই ব্যাপারে প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা, যার উদ্দেশ্য ছিল তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা। ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি প্রদান করেন।
পরে, বাদীপক্ষ ওই আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করে।
এরপর, গত ২২ জুন সালমান শাহরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি অফিস আদেশ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে এটি নথিভুক্ত হয়।
নামকরা চিত্রনায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। সেই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করেন। পরে, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যার অভিযোগ তুলে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসাবে গ্রহণের আবেদন করেন। এই আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে সিআইডি অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে এবং সেই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদনের গ্রহণ করে।
পরে, সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করেন এবং তার মৃত্যুর পর মামলাটি সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর পরিচালনা করেন। সবশেষ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে ঘটনার তদন্তকে হত্যা মামলা হিসাবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও (লুসি), অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিংকডইন এখন অনেকের কাছে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার অথবা ডেটিং অ্যাপের নতুন স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে জানা গেছে, চাকরির খোঁজের পাশাপাশি অনেকেই এই платформার মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজছেন এবং সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে প্রেমের সম্পর্ক।
এসএফগেট–এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির ওয়েবসাইট জেটির পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি আটজনের মধ্যে একজন লিংকডইনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
তবে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে একটি অস্বস্তি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, লিংকডইনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা তাদের সামাজিক বা পেশাগত ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জরিপে আরও তথ্য উঠে এসেছে, বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে সহস্রাব্দ প্রজন্মের ৩৩ শতাংশ মানুষ লিংকডইনকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। এরপর নতুন প্রজন্মের ২৭ শতাংশ, মধ্যবয়সী প্রজন্মের ১৯ শতাংশ এবং প্রবীণদের ৬ শতাংশ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রেমের চেষ্টা করছেন।
জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, লিংকডইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রোফাইলের ছবি, নিজের পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত ব্যক্তি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেন।
তবে সবাই এই প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। জরিপে ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, যদি কেউ প্রেমের উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে তারা অস্বস্তি অনুভব করবেন। আর ২৬ শতাংশের মতে, লিংকডইন শুধু পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই থাকা উচিত।
জেটির পেশা–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাসমিন এসকালেরা বলেছেন, বর্তমানে মানুষ ব্যক্তিগত এবং পেশাগত পরিচয়কে আলাদা করে দেখতে পারছেন না। তার মতে, এখন লিংকডইনের প্রোফাইলে শুধুমাত্র একজনের চাকরির পরিচয় নয়, তার মূল্যবোধ, ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতাও ফুটে ওঠে। এই কারণে অনেকেই এখন শুধুমাত্র পেশাগত যোগাযোগ নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্র হিসেবেও এই মাধ্যমটিকে গ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি বাজারের রেললাইনের পাশে হত্যা করা হয়েছিলো রবিন নামের এক যুবককে । আলোচিত সেই রবিন হত্যা মামলায় আড়াইমাস পরে রিদয় নামের এক যুবক কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । রিদয়ের পরিবারের কাউকেই কিছু না জানিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
রিদয়ের পরিবারের সদস্যরা জানায়, থানা পুলিশের সোর্স সুলতান নামের এক যুবকের সাথে রিদয়ের ঝগড়া ও মারামারি হলে সুলতান রিদয়কে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করার কিছুদিন পরেই রিদয়কে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ । রিদয়ের বোন বলেন, পুলিশের সোর্স সুলতান প্রতিশোধ নিতে রিদয়কে এই হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে ।
রিদয়ের বড়বোন বলেন, হত্যার দিন রিদয় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলো । তিনি আরো বলেন, আমরা চাই হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের যেন কঠিন বিচার হয় । এবং কোনো নিরপরাধের যেন শাস্তি না হয় ।
এলাকাবাসি জানান, রিদয় কে শুধু শুধু এ মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে সোর্স সুলতান। তারা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলার প্রকৃত আসামিদের কঠিন বিচার দাবি করেন।
আড়াইমাস পরে হত্যা মামলার আসামি দেখিয়ে রিদয়কে গ্রেফতারের বিষয়ে রেলওয়ে থানা্য অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আকতার হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তদন্তের স্বার্থে রিদয়কে গ্রেফতার করেছি । রিদয়ের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছি আর এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে তদন্ত চলমান রয়েছে । তিনি আরো বলেন, পুলিশ কখনোই নিরাপদ ব্যক্তিকে শাস্তি দিবে না । যারা হত্যার সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকেই গ্রেফতার করবে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই ঘটনার সময় বুধবার (২২ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ও মিজমিজি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের ধরা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন- সাখাওয়াত হোসেন সৈকত (৪০), সেন্টু (৪০), রবিন (৩৫) ও ইউসুফ (২৬)। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা।
ডিবি জানায়, গত ২৬ মে সকালে নারায়ণগঞ্জগামী মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস সানারপাড় ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ৭ থেকে ৮ জন দুর্বৃত্ত বাসের গতিরোধ করে। এর পর চালক আমিনুল ইসলাম ও হেলপার নজরুল ইসলামকে মারধর করে ৯ হাজার ৫০০ টাকা, প্রায় ২৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্পেয়ার চাকা, গাড়ির কাগজপত্র এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৬ হাজার টাকা আদায় করে।
মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এর তদন্ত শুরু করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জসহ আশপাশের সড়ক ও মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ