বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৮ এম
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত আট নম্বরে ব্যাট করার জন্য নামা খেলোয়াড়ের মূল দায়িত্ব থাকে উইকেট ধরে রেখে রান বাড়ানো। কিন্তু ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ব্যাট হাতে এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। যিনি বল হাতে বৈচিত্র্যময় সুইং দিয়ে ব্যাটারদেরকে হিমশিম খাওয়াতেন, সেই ওয়াসিম আকরাম সেদিন ব্যাট হাতে হয়ে উঠেছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য বীর।
১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেখুপুরা টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই তার ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং চমৎকার টাইমিংয়ের। জিম্বাবুয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বল সীমানা পার করতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৬৩ বল খেলে ২৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি। তার ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ১২টি ছক্কার মার। টেস্ট ইতিহাসে আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে এটি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, এক ইনিংসে ১২টি ছক্কা মারার মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের ওয়ালি হ্যামন্ডের বহু পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেন।
ওয়াসিমের এই ঐতিহাসিক ইনিংসে দুর্দান্ত সহযোগিতা করেন স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। একদিকে ওয়াসিমের চার-ছক্কার তাণ্ডব, অন্যদিকে সাকলাইনের চরম ধৈর্য—দুইয়ে মিলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের একটি বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে ৭৯ রান করে দলের জন্য শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
পাকিস্তানের এমন বিশাল স্কোরের পরেও ম্যাচের ফল আসেনি, টেস্টটি ড্রতেই শেষ হয়। তবে ম্যাচের জয়-পরাজয়কে ছাপিয়ে ওয়াসিম আকরামের এই ২৫৭ রানের ইনিংসটি ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা হয়ে যায়। আমরা তাকে মূলত মনে রাখি বিষাক্ত ইয়র্কার ও সুইং বোলিংয়ের জন্য, কিন্তু শেখুপুরের সেই দিনটি প্রমাণ করে দিয়েছিল—তিনি শুধু বল হাতে বিশ্বসেরা ছিলেন না, ব্যাট হাতেও ইতিহাস গড়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের একটি বৃহৎ অংশ পিএইচপি নামক জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি, এতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি সনাক্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত সিকিউরিটি আপডেট করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যারা আপডেট করতে পারছেন না, তাদের বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
এই সতর্কতার পর, ফিনল্যান্ড সরকার, নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়ার কিছু অংশ এবং বিবিসির বেশ কিছু জনপ্রিয় অনুষ্ঠানসহ বিশ্বের অনেক সাইট তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে থাকা এই বিপজ্জনক ত্রুটিগুলো মানুষের পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা খুঁজে বের করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট কোনো না কোনোভাবে পিএইচপি-র ওপর নির্ভরশীল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা মূল সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে অথবা পুরো সাইট অচল করে দিতে পারে।
হোয়াইট হাউস, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধান সাইবার সংস্থাগুলো এই ঝুঁকি মোকাবেলায় একযোগে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু সাইটে হ্যাকারদের আক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ব্যবহারকারীদের দ্রুত তাদের সিস্টেম আপডেট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনার উপর ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে। এই হামলাটি বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঘটে, যার ফলে দুইজন প্রবাসী কর্মী নিহত হন এবং আরও দুইজন আহত হন, এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলক্ষেত্রের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আসা ড্রোনটি সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তবে, হামলার সময় তেলক্ষেত্রের সীমানার বাইরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনার ফলে সৌদি আরামকোর মূল পরিচালন কার্যক্রমে কোনো প্রকার বিঘ্ন ঘটেনি।
নিহত দুই প্রবাসী কর্মীর মধ্যে একজন ফিলিপাইন এবং অপরজন নেপাল থেকে এসেছেন। এছাড়া, আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সাথে, দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
সূত্র: সৌদি গ্যাজেট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর শাইবাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই ঘটনার ফলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে সৃষ্ট আগুনে দুই বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরো দুজন আহত হয়েছেন।
বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সৌদি প্রেস এজেন্সিকে (এসপিএ) এই তথ্য প্রদান করেন।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনার দিকে এগিয়ে আসা ড্রোনটি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ভূপাতিত হয়। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ তেলক্ষেত্রে কর্মরত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে পড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। তবে, আগুনের এই ঘটনা স্থাপনার সীমানার বাইরে ঘটেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনার ফলে তেলক্ষেত্রটির কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি।
নিহত দুই বিদেশির মধ্যে একজন ফিলিপাইন এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তান এবং অন্যজন ভারতের নাগরিক বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং পশ্চিমাদের স্বীকৃত ইয়েমেনের সরকারের সমর্থনে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যখন শত্রুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এই ঘটনা ঘটল।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো—যার মধ্যে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি প্রদান করেছে।
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থিত আম্বর আলী শাহ মাজারের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্স থেকে প্রায় এক লাখ টাকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, মাজার থেকে আটটি কাঁসার পাতিল এবং কিছু আসবাবপত্রও চুরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
মাজার কমিটির সদস্যরা জানাচ্ছেন, এখানে একটি মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং মাদকাসক্তরা নিয়মিত মাদক সেবন করে। তাদের ধারণা, এই পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর মাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি এটিএম বাক্কী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি মনে করেন, মাদকসেবীরাই এ ধরনের কাজ করতে পারে।
লিখিত অভিযোগে এটিএম বাক্কী উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও চারপাশ দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান। বুধবার সকালে মাজারে এসে তিনি দেখেন, মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং সামনের দরজা খোলা। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে মাজারের ভেতরে ও চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। তখনই দানবাক্সে থাকা টাকা ও অন্যান্য মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
এটিএম বাক্কী আরও জানান, লুটেরারা দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, ২০ হাজার টাকার আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকার বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
একটি ধর্মীয় স্থাপনায় এভাবে অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাজারের ভক্ত রিয়াজ এবং স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, রাতের অন্ধকারে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কীভাবে তারা মাজারে প্রবেশ করেছে এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, পুলিশ তা দ্রুত তদন্ত করে বের করুক।
বাক্কী জানান, ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন কালের কণ্ঠকে জানান, মাজারে চুরি হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জোরালো ভূমিকা রাখব। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ