বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৩৩ পি.এম
লিংকডইন এখন অনেকের কাছে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার অথবা ডেটিং অ্যাপের নতুন স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে জানা গেছে, চাকরির খোঁজের পাশাপাশি অনেকেই এই платформার মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজছেন এবং সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে প্রেমের সম্পর্ক।
এসএফগেট–এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির ওয়েবসাইট জেটির পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি আটজনের মধ্যে একজন লিংকডইনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
তবে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে একটি অস্বস্তি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, লিংকডইনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা তাদের সামাজিক বা পেশাগত ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জরিপে আরও তথ্য উঠে এসেছে, বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে সহস্রাব্দ প্রজন্মের ৩৩ শতাংশ মানুষ লিংকডইনকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন। এরপর নতুন প্রজন্মের ২৭ শতাংশ, মধ্যবয়সী প্রজন্মের ১৯ শতাংশ এবং প্রবীণদের ৬ শতাংশ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রেমের চেষ্টা করছেন।
জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, লিংকডইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অনেকেই প্রোফাইলের ছবি, নিজের পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত ব্যক্তি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় নেন।
তবে সবাই এই প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। জরিপে ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, যদি কেউ প্রেমের উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে তারা অস্বস্তি অনুভব করবেন। আর ২৬ শতাংশের মতে, লিংকডইন শুধু পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই থাকা উচিত।
জেটির পেশা–বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জাসমিন এসকালেরা বলেছেন, বর্তমানে মানুষ ব্যক্তিগত এবং পেশাগত পরিচয়কে আলাদা করে দেখতে পারছেন না। তার মতে, এখন লিংকডইনের প্রোফাইলে শুধুমাত্র একজনের চাকরির পরিচয় নয়, তার মূল্যবোধ, ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতাও ফুটে ওঠে। এই কারণে অনেকেই এখন শুধুমাত্র পেশাগত যোগাযোগ নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্র হিসেবেও এই মাধ্যমটিকে গ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি বাজারের রেললাইনের পাশে হত্যা করা হয়েছিলো রবিন নামের এক যুবককে । আলোচিত সেই রবিন হত্যা মামলায় আড়াইমাস পরে রিদয় নামের এক যুবক কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । রিদয়ের পরিবারের কাউকেই কিছু না জানিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
রিদয়ের পরিবারের সদস্যরা জানায়, থানা পুলিশের সোর্স সুলতান নামের এক যুবকের সাথে রিদয়ের ঝগড়া ও মারামারি হলে সুলতান রিদয়কে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করার কিছুদিন পরেই রিদয়কে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ । রিদয়ের বোন বলেন, পুলিশের সোর্স সুলতান প্রতিশোধ নিতে রিদয়কে এই হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে ।
রিদয়ের বড়বোন বলেন, হত্যার দিন রিদয় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলো । তিনি আরো বলেন, আমরা চাই হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের যেন কঠিন বিচার হয় । এবং কোনো নিরপরাধের যেন শাস্তি না হয় ।
এলাকাবাসি জানান, রিদয় কে শুধু শুধু এ মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে সোর্স সুলতান। তারা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে মামলার প্রকৃত আসামিদের কঠিন বিচার দাবি করেন।
আড়াইমাস পরে হত্যা মামলার আসামি দেখিয়ে রিদয়কে গ্রেফতারের বিষয়ে রেলওয়ে থানা্য অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আকতার হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তদন্তের স্বার্থে রিদয়কে গ্রেফতার করেছি । রিদয়ের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছি আর এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে তদন্ত চলমান রয়েছে । তিনি আরো বলেন, পুলিশ কখনোই নিরাপদ ব্যক্তিকে শাস্তি দিবে না । যারা হত্যার সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকেই গ্রেফতার করবে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই ঘটনার সময় বুধবার (২২ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ও মিজমিজি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের ধরা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন- সাখাওয়াত হোসেন সৈকত (৪০), সেন্টু (৪০), রবিন (৩৫) ও ইউসুফ (২৬)। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা।
ডিবি জানায়, গত ২৬ মে সকালে নারায়ণগঞ্জগামী মালঞ্চ পরিবহনের একটি বাস সানারপাড় ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ৭ থেকে ৮ জন দুর্বৃত্ত বাসের গতিরোধ করে। এর পর চালক আমিনুল ইসলাম ও হেলপার নজরুল ইসলামকে মারধর করে ৯ হাজার ৫০০ টাকা, প্রায় ২৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্পেয়ার চাকা, গাড়ির কাগজপত্র এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৬ হাজার টাকা আদায় করে।
মালঞ্চ পরিবহনের পরিচালক গোলাম মোস্তফা রানা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এর তদন্ত শুরু করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জসহ আশপাশের সড়ক ও মহাসড়কে পরিবহন থামিয়ে চালক-হেলপারদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় একটি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রমাণ মেলায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাকরিচ্যুত হওয়া তিনজন হলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া, আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার, যিনি হীরা নামেও পরিচিত। তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় গত সোমবার (২০ জুলাই)।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলমাকান্দার রামনাথপুর পাগলা এলাকার ঠিকানা দেখিয়ে এক রোহিঙ্গাকে টাকা নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করার খবর পাওয়া যায়। একইভাবে নেত্রকোনা সদর এলাকায় ঠিকানা দেখিয়ে আরেকটি রোহিঙ্গাকে আইডি তৈরি করে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এ কাজে নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত তিন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রোহিঙ্গা নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত ঢাকায় তিনজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওই তিনজন নির্বাচন কার্যালয়ের স্থায়ী কেউ নন, বরং তারা কোম্পানির মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে নির্বাচন অফিসে কাজ করছিলেন। জেলায় এ সংক্রান্ত আরও অন্যান্য অভিযোগের ব্যাপারেও তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে। ইসরায়েলের বিভিন্ন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বলছেন, যদিও চুক্তিটি মূলত একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির জন্য, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে। চুক্তিটি কার্যকর হতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, তবে প্রকাশের পর থেকেই জেরুজালেমে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এই নীরবতার মধ্যেই বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই পদক্ষেপকে মারাত্মক কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক দৌড় শুরু করবে। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যানও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। তিনি ইসরায়েল সরকারকে মার্কিন কংগ্রেসে লবিং চালানোর আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। রিয়াদের এই পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন ইসরায়েলের সামরিক সুবিধার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং জো বাইডেন প্রশাসন উভয়ের সময় আলোচনা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির কারণে এতদিন এটি বাস্তবায়ন হয়নি। সমালোচকরা মনে করছেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি সহজ পথ তৈরি করে দিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ