জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০১:১৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একটি প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর, হয়রানির এবং অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার পর পরিবারটি সন্ত্রাসী হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রকৌশলী রাজিউল হাসান এই অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোয়ারিয়া গ্রামে কোয়ারিয়া হাজী বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, ১ জুন প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পুকুরপাড়ে মাটি ফেলে সংস্কারের কাজ শুরু করলে, শহীদ আলম ও কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। পরে হামলাকারীরা সেখান থেকে বাড়িতে গিয়ে প্রবাসী রাজিউল হাসানের বাবা এ.কে.এম. নুর উদ্দিন কাশেমকে মারতে তেড়ে এসে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঞ্ছিত করেন। হামলাকারীরা পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজও করেন। ওই সময় প্রবাসী রাজিউল হাসানের বাবা এ.কে.এম. নুরুদ্দিন কাশেমকে হত্যা করে লাশ গুম করা এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া টানা তিন দিন বাড়ির সামনে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে পুরো পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রবাসী রাজিউল হাসান ২১ মে দেশে আসেন। তার অপর এক ভাইও প্রবাসে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। এ কারণে এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি বিএনপি'র দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের সূত্র ধরে আমাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী শহীদ আলম ও কামরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে আমাদের ভূমি সংক্রান্ত দুটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান বলেন, তারা আমাদের জায়গায় জোরপূর্বক ঘাটলা নির্মাণের চেষ্টা করলে আমরা বাধা দিই। তারা বেআইনিভাবে আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে গেলে রায় আমাদের পক্ষে আসে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রবাসী পরিবারকে গালিগালাজ করা এবং তাদের প্রধান ফটকে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। একটি ভিডিওতে বাড়ির মালিককে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, এবং পাঁচ বছরের এক শিশুর আকুতি—সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সঙ্গে চাচির এই অন্তর্ধান কেবল একটি পরিবারকেই ভাঙেনি, বরং গ্রামীণ সমাজের বাস্তবতার এক চেনা অবক্ষয়ও নতুনভাবে সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাতে গবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান। বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজার পর যখন তাদের কোনো হদিস মিলল না, তখন বাধ্য হয়ে পরিবারটি পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরের পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য অবিরাম কেঁদে যাচ্ছিল, যার কোনো সান্ত্বনা মিলছে না পরিবারের কাছে।
জানা যায়, এই মানসিক টানাপোড়েন বা অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন এলাকায় নতুন কোনো বিষয় নয়। গত ঈদুল ফিতরের পরেও তারা একবার ঘর ছেড়ে গিয়েছিলেন। সে সময় গ্রামীণ সালিশ এবং মাতুব্বরদের সামাজিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয় এবং রুমানাকে সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের যে শূন্যতা বা ভুল আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল, কেবল বাহ্যিক শাসন দিয়ে তা সমাধান করা সম্ভব নয়, এবারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তা প্রমাণ করেছে।
ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। হাসান তার আপন ভাতিজা এবং তাকে রুমানা মা বলে সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য ও অসতর্কতার সুযোগে তারা এক সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাসানের সাথে পালিয়ে যায়।
ছেলের এমন আচরণে লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবা। তিনি জানায়, ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা সামাজিক নানা জটিলতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। আপন ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে ছেলের এই অশালীন অপরাধ তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। বর্তমানে হাসান এবং রুমানার উভয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। লোকলজ্জা এবং নৈতিকতার এই অবক্ষয় রোধ করা না গেলে সমাজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।
আইনি প্রক্রিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় জানালেন, লোকমুখে বিষয়টি তারা শুনেছেন। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যদি অভিযোগ করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার খাল খনন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী পাতলি খালের পুনঃখনন উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত এক পথসভায় এ কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাতলিখাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রায় ৫০ বছর আগে খনন করেছিলেন। আজ আবার পুনঃখনন উদ্বোধন করা হলো। এর মাধ্যমে এই জনপথের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। প্রায় ১২ হেক্টর জমি পানির সুবিধা পাবে। ফলে প্রায় ১২০০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য বেশি উৎপাদন হবে। মোট সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।’
তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করে জানান, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় আট থেকে ১০ হাজার কৃষিকার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও 이번 বাজেটের পর তা বাড়েনি। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়েছে এবং মদ-সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে, তাও বিরোধীদলের কাছে তা ভালো লাগেনি।’
তিনি এ কথা বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য এবং সে কারণেই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে থাকার জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার সুবিধা দেয়া হবে।’
এর আগে, শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে তিনি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন।
এ সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। বৃষ্টিতে ভিজেও অনেকে হাতে ছাতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল, লিংক রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় চেকপোস্ট। নিরাপত্তাবাহিনী, সরকারি অতিথি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সাধারণ যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ি বহরে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী পাতলি খালের মোহনায় পৌঁছান। সেখানে খালের পুনঃখনন উদ্বোধন করেন বেলা ১১টার দিকে। এর পরে তিনি একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।
এরপর সেখানে তৈরি মঞ্চে এক পথসভা শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং তার বক্তব্য শেষ হয় বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটটিও বিরোধী দল মানে না। মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবারের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন? লক্ষ্য বুঝতে পেরেছেন? তাদের উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা, অশান্তি তৈরি করা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবে বুঝতে পারছে।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব—এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধুই একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এজন্য কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যেন সহজেই স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
এ সময় তারেক রহমান জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।
প্রসঙ্গত, পাতলী খালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন তিনি। পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিয়াউর রহমান নিজে কক্সবাজারে এসে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তারই ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই খালের পুনঃखनন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন।
এর আগে, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ। এতে বক্তব্য দেন— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ