প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, এবং পাঁচ বছরের এক শিশুর আকুতি—সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে চলে গেছেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সঙ্গে চাচির এই অন্তর্ধান কেবল একটি পরিবারকেই ভাঙেনি, বরং গ্রামীণ সমাজের বাস্তবতার এক চেনা অবক্ষয়ও নতুনভাবে সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাতে গবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান। বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজার পর যখন তাদের কোনো হদিস মিলল না, তখন বাধ্য হয়ে পরিবারটি পরিস্থিতি প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরের পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য অবিরাম কেঁদে যাচ্ছিল, যার কোনো সান্ত্বনা মিলছে না পরিবারের কাছে।
জানা যায়, এই মানসিক টানাপোড়েন বা অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন এলাকায় নতুন কোনো বিষয় নয়। গত ঈদুল ফিতরের পরেও তারা একবার ঘর ছেড়ে গিয়েছিলেন। সে সময় গ্রামীণ সালিশ এবং মাতুব্বরদের সামাজিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয় এবং রুমানাকে সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের যে শূন্যতা বা ভুল আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল, কেবল বাহ্যিক শাসন দিয়ে তা সমাধান করা সম্ভব নয়, এবারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তা প্রমাণ করেছে।
ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। হাসান তার আপন ভাতিজা এবং তাকে রুমানা মা বলে সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য ও অসতর্কতার সুযোগে তারা এক সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাসানের সাথে পালিয়ে যায়।
ছেলের এমন আচরণে লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবা। তিনি জানায়, ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা সামাজিক নানা জটিলতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। আপন ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে ছেলের এই অশালীন অপরাধ তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। বর্তমানে হাসান এবং রুমানার উভয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। লোকলজ্জা এবং নৈতিকতার এই অবক্ষয় রোধ করা না গেলে সমাজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।
আইনি প্রক্রিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় জানালেন, লোকমুখে বিষয়টি তারা শুনেছেন। কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যদি অভিযোগ করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন