১১:৪২ পি.এম
ভোলার লালমোহনে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব, যা সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল। দিন কিংবা রাত, কোনো বিরতি ছাড়াই অবাধে শিকার করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ। এসব ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে উপজেলার চতলা, জনতা বাজার, লর্ড হার্ডিঞ্জ ও রায়চাঁদ বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজার, রাস্তার মোড়ে এবং বাত্তির খাল, গাইট্রার খাল ও কাটির মাথা নামক মাছ ঘাটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ২২ দিন নদী ও সাগরের নিদিষ্ট স্থানে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে, লালমোহনের মেঘনা নদীর পয়েন্টগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।
দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনা নদীতে শত শত ট্রলার ও নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার করছে। নদী থেকে ধরে আনা মা ইলিশ লুকোচুরি করে বা সরাসরি বা প্রকাশ্যে বেচাকেনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ঘাটগুলোতে কেনাবেচা ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। সচেতন মহল জানাচ্ছে, এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকলে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়বে।
আরও পড়ুন: শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান
মা ইলিশ রক্ষায় ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর মাছ ঘাট বাতির খাল, কাঠির মাথা, গাইট্রা, লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্রার খাল এলাকার শাখাওয়াত মাঝির নেতৃত্বে রাত দিন মা ইলিশ নিধন চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। এদিকে বুড়ির দোন, সর্দারের খাল, চোরা খাল ও বেতুয়া স্লুইসগেট মাছ ঘাটে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে দিন ও রাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করার নিয়ম থাকলেও তা চোখে পড়ছে না। মা ইলিশ নিধন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
যদি উপজেলা মৎস্য অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি না থাকে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত পদক্ষেপ বা ইলিশের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে এবং ভেস্তে যাবে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, এমনই ধারণা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলী আহমদ আকন্দ বলেন, "আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি চেষ্টা করছি, একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে আমাদের নিজস্ব যানবাহন নেই এবং সীমিত বরাদ্দ, এবং দায়িত্বতো আমার একার নয়।"
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন