০৫:০৬ পি.এম
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে। ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মাঝিমাল্লাসহ আরও অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে, সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাট সংলগ্ন সাগর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায় যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশের সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের তীব্রতায় প্রাণভয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছিল রোহিঙ্গারা। যখন নৌকাটি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পৌঁছায়, তখন এই নৌকাটি ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। স্থানীয় জেলেরা খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নিকট হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে ঐতিহাসিক পল্টন ট্রাজেডি দিবস পালিত: অতীতের সকল মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচারের দাবি
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে আসার সময় নৌকাটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া জেলে মো. ইসমাইল জানান, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন। এর ফলে ১৮ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও, বাকি ১৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে নৌকার মাঝিমাল্লাও রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু নেই।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন যে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি মূলত বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির থেকে আগে মিয়ানমারে গিয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তবে এই দাবির বিষয়ে বিজিবি বা অন্য কোনো দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা কী উদ্দেশ্যে এবং কেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, তা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।"
আরও পড়ুন: শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত
মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সাগর ও নদীপথে বাংলাদেশের দিকে অনুপ্রবেশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নাফ নদী ও সংলগ্ন উপকূলে স্থানীয় জেলে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন