০৮:৪৩ পি.এম
গল্পের শুরুটা খুবই সাধারণ। বাড়ির আশপাশে টেপ টেনিস ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল। সঙ্গী হিসেবে ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলা বড় ভাই। সেই ছোট্ট উঠানের ক্রিকেটই বদলে দিলো মশিউর রহমানের গতিপথ।
বাড়ির আশপাশে ব্যাট-বল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো ছেলেটি বড় স্বপ্ন দেখতেন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতে খেলতে একসময় তিনি বুঝে যান যে, ব্যাট হাতে তার একটি আলাদা প্রতিভা আছে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি কম যাননি। জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে নিজেকে প্রমাণও করেছেন তিনি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী যেকোনো কিশোরের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মশিউরও এই মাঠে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন বহুবার। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন এই মাঠে খেলার। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে। প্রথমবারের মতো মিরপুরের সেই মাঠে খেলার সুযোগ পেলেন তিনি। আর সেখানেই বাজিমাত করে বসেন রাজবাড়ির এই নতুন কুঁড়ি।
আরও পড়ুন: কোমোর কাছে হতাশাজনক হারের পরও চাকরি নিয়ে চিন্তিত নন ক্যারিক
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিপক্ষে খেলতে নেমে, তিনি ম্যাচ জেতানো একটি ইনিংস উপহার দেন। ৩৭ বলে খেলেন ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস, যেখানে ছিল ৮টি করে চার এবং ছক্কার মার। তার এই উড়ন্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে নির্ধারিত ১০ ওভারে ফরিদপুর অঞ্চল তোলে ১৩৬ রান। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও তিনি ছিলেন সমান কার্যকর- ২২ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। তার এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কারণে ৮৬ রানেই থেমে যায় ময়মনসিংহ অঞ্চল।
দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে মশিউরের পছন্দ লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং স্টাইলের প্রতীক কেন উইলিয়ামসন। ম্যাচ শেষে মতিউর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দলকে জেতাতে পেরে ভালো লাগছে। আমার বাবা-মা গ্যালারিতে ছিলেন। আমি খুবই খুশি। উইকেট ভালো ছিল।
ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি ছিল। আমি আশা করি দলকে ফাইনালে তুলতে পারবো।’
ফরিদপুর জেলা দলের কোচ তানভির আহমেদ রাজিব বলেন, ‘দারুণ ইনিংস খেলেছে মশিউর। জেলা পর্যায়েও দারুণ করেছে। আমি আশা করি নির্বাচকরা মশিউরকে বিবেচনায় রাখবেন।’
আরও পড়ুন: সউদীতে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কারাদণ্ড ২৫ বছর বাড়ানো হয়েছে
প্রতিভার কোনো ঠিকানা হয় না। রাজবাড়ির অলিগলি থেকে মিরপুরের মঞ্চ পর্যন্ত আসা মশিউরের এই যাত্রাই তার প্রমাণ। প্রয়োজন শুধু একটি সুযোগ। সেটি করে দিয়েছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। এই কার্যক্রম তৃণমূলের প্রতিভাদের সামনে জাতীয় মঞ্চে নিয়ে আসছে। তাতে মশিউরের মতো আরও কত সম্ভাবনাময় তরুণ একদিন দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবেন, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ৩৭ বলে ৯০ রানের সেই ইনিংস যেন জানিয়ে দিয়ে গেল রাজবাড়ির এই তরুণের স্বপ্নটি মোটেও ছোট নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন