০৫:২৩ এম
কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে এক প্রধান শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ সাম্প্রতিককালে উঠেছে। স্থানীয়রা এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে গণপিটুনি দেয় এবং তাকে আটক করে রাখে।
পরে কিছু ছেলে আসে এবং চিকিৎসার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেনকে নিয়ে সটকে পড়ে বলে জানা যায়।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ৯টায় উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে। অভিযুক্ত এই শিক্ষকের নাম মো. মুক্তল হোসেন (৫০)। তিনি মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বনকোট গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙার অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত শুরু
সংবাদ পেয়ে রাত ১২টার পর দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে যান। তিনি শোনেন যে স্থানীয় কিছু ছেলে মুক্তল হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন চিকিৎসার জন্য। তবে পরে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে তাকে হাসপাতাল পৌঁছানো হয়নি।
রাত ১টায় দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে খুঁজতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন মোল্লা, শিউলি আক্তারসহ স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় ঊজানীজোড়া গ্রামের খন্দকার বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রী (৩০) তার দুই সন্তান নিয়ে পাশের গ্রামের মোল্লা বাড়ির জলিল মোল্লার ঘরে ভাড়ায় থাকতেন এবং তিনি উজানীজোড়া আদর্শ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।
স্থানীয়দের দাবি, এরই মধ্যে মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেন ওই নারীর ঘরে প্রায়ই রাতে আসা-যাওয়া করতেন। বিষয়টি অবজার্ভ করে স্থানীয়রা পাহারা বসান। পরে যখন মঙ্গলবার রাতে ওই প্রধান শিক্ষক ঘরে ঢুকেন, তখন বাড়ির নারীরা এসে খোঁজ নেন। প্রবাসীর স্ত্রী ঘরের গেট বন্ধ করে নিশ্চিত করেন যে ঘরে কেউ নেই। এরপর গ্রামবাসী ঘরটি ঘিরে রাখলে শিক্ষক মুক্তল পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে দর্শনার্থীর ক্যামেরায় পড়লো বিরল মাছ মুরাল ঈগল পাখি
এ বিষয়ে ওসি মো. মনিরুজ্জামান একটি অজ্ঞাত ফোনের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, রাতে এক ব্যক্তি ফোনে জানিয়েছেন যে, ওই নারীর প্রবাসী স্বামী বলেছেন, শিক্ষক মুক্তলকে পারিবারিক একটি বিষয়ে তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। ঘরে আসার পর কিছু ছেলে সিনক্রিয়েট করে এ জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত মুক্তল হোসেনকে না পাওয়া পর্যন্ত এবং ঘটনার তদন্তের আগে প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিদ্যালয়ে ভাঙচুর করে, পুলিশের ওপর হামলা চালায়, গাড়িতে ভাঙচুর করে এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাতেই কুমিল্লার পুলিশ সুপার প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন। পরে ওই ছাত্রীর বাবা থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করে, যার পর পুলিশ মুক্তল হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল থাকেন। আজ রাত ২টা পর্যন্ত প্রতিবেদন লেখার সময়ে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সন্ধান পায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন