০৫:২৪ এম
ইলিশের ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিনভর নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ জেলে প্রায় খালি হাতে ঘরে ফিরছেন।
নদীতে ইলিশের এই সংকটের কারণে উপজেলার বিভিন্ন জেলেপল্লীতে হতাশার ছায়া নেমে এসেছে। মাছ বিক্রি থেকে আয় না থাকায় জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে, তাদের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং অভাব-অনটনের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে।
উপজেলার তিন দিক বেষ্টিত পায়রা ও লোহালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ আহরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত জেলে।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে দুই বছর ধরে নিখোঁজ মাওলানা আজিজুল হক, সন্ধান চায় পরিবার
স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করে জাল ফেলেও পর্যাপ্ত ইলিশ পাচ্ছেন না। অনেক সময় জ্বালানি তেল, বরফ ও অন্যান্য খরচের টাকা মাছ বিক্রি করে উঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগী জেলেপল্লীর মো. বশির বিশ্বাস, রাজগঞ্জ এলাকার আবুল কালাম এবং আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের জেলে আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন, ‘আগে এই সময়ে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও বেশিরভাগ সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। সংসার চালানো, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ বহন করা এবং মহাজনের দাদন ও বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
জেলে ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পায়রা নদীর বিভিন্ন অংশে নাব্যতা কমে গিয়ে চর জেগে ওঠা, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এবং স্রোতের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত হারে ইলিশ ধরা পড়ছে না।
এই সংকটের প্রভাব শুধু জেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মাছ পরিবহণ, বরফকল, আড়ত এবং খুচরা মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ইলিশনির্ভর স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে ড্রামে নারীর লাশ পরিচয় শনাক্ত করেছে পিবিআই
দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ার বিষয়টি মৎস্য বিভাগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীর নাব্যতা, স্রোতের পরিবর্তন, আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে মাছের বিচরণে প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন