০১:৩৮ পি.এম
রাজশাহী কলেজের ছাত্রদল নেত্রী প্রীতি চৌধুরীকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়ার ফেসবুক পোস্টটি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। প্রীতির রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রিয়ার মন্তব্যের পরে প্রীতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন। এর পর, এ নিয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনটির নেতাকর্মী এবং কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী তার সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন।
এই ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শুরু হয়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ফেসবুকে প্রীতি চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ডের প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন ছাত্রলীগের অতীতের কিছু নেতার সাথে প্রীতির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি প্রীতিকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও উল্লেখ করেন।
এই সবকিছুর পর, প্রীতি চৌধুরী ফেসবুকে পাল্টা পোস্ট করেন। পোস্টে প্রিয়া কর্তৃক উত্থাপিত বিষয়সমূহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেন যে, ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রীতি প্রিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মূল্যবোধ সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি প্রিয়া সাথে কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট এবং তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিতও দেন।
আরও পড়ুন: রামপুরায় স্লুইস গেটের কাছে ৭৪ বছরের বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
এদিকে, তার সমর্থকেরা দাবি করছে যে প্রীতি চৌধুরী ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে রাজশাহী কলেজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ উল্লেখ করে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশিত হচ্ছে।
এছাড়াও, প্রীতি চৌধুরীর পাশে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ নেতাকর্মীগণ দাঁড়িয়েছেন। তাদের এক ফেসবুক পোস্টে প্রীতম দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রীতির ভূমিকা ছিল অগ্রণী।
তিনি বলেন যে, ভয়ভীতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামানো যাবে না। এই ছাত্রদল নেতা জানান, প্রীতি চৌধুরীসহ সকল ছাত্রীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
এরপর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রীতির সমর্থনে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত হন। তারা সাইবার বুলিং এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন