ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স


নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী ঘোষণা দিলেও, দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আসন্ন ইসরাইলি সংসদ নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সোমবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক মার্ক হ্যালপারিনের করা এক সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তিনি কেবল মার্কিন প্রার্থীদেরই সমর্থন করেন এবং ইসরাইলি রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই।

ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্টের সমর্থন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী। তবে আমি আমেরিকান প্রার্থীদেরই সমর্থন করি এবং আমার সমস্ত মনোযোগ মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি তাকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রচারণাতেও নেই, আবার ইতিবাচক সমর্থনেও নেই।”

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এর আগে সোমবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে নেতানিয়াহুকে ‘অসাধারণ যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচনে তার পক্ষে ‘পূর্ণাঙ্গ সমর্থন’ ঘোষণা করেছিলেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্কে নীতিগত ও কৌশলগত কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরির লক্ষণ হিসেবেই ভ্যান্সের এই অবস্থানকে দেখা হচ্ছে। এর আগেও মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রশ্নে নেতানিয়াহু সরকারের কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন এই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করা হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ সরকার জারি করেছে। সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে অধ্যাদেশটি জারি করে। এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চোরাই বলে জানা সত্ত্বেও সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি বা নিজের হেফাজতে রাখলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সংযোগ, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিলে একই শাস্তি হতে পারে।

অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি ও জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। এর আওতায় থাকবে সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।

অধ্যাদেশে নেট-মিটারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপরও বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী তার মূল্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়া নেট-মিটারিংয়ে প্রণোদনা দিতে পারবে সরকার।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) এবং ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স)-দুই ধরনের মডেল রাখা হয়েছে। ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় বহন করবেন। অন্যদিকে ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা রাখতে পারবে।

ক্যাপেক্স মডেলে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনার আর্থিক সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে না। যোগ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান সেবাদানকারী নির্বাচন করবে। তবে গ্রাহক চাইলে ওপেন দরপত্রের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন।

সৌরবিদ্যুৎ বিস্তার ও নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সহায়তা, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব পালন করবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) তাদের ওয়েবসাইটে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও সচলতা পর্যবেক্ষণ করবে।

অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে। অপরাধগুলো মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য

মানুষ ধর্মের কথা বলে, কিন্তু আসলে মানবসেবাই হচ্ছে আসল ধর্ম। কুমুদিনী কমপ্লেক্স একটি বিশেষ স্থান। এখানে যা আমি দেখলাম, তা ইতিহাসের একটি অংশ। শোনা গেছে, এটি তৃতীয় প্রজন্মের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তারা সবকিছু অত্যন্ত সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। হাসপাতালটি খুবই বড়। যুগ যুগ ধরে তারা সেবা প্রদান করে আসছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।

বিকেলে ভারতীয় হাইকমিশনার কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছান। কুমুদিনী লাইব্রেরিতে চা চক্রের পর তিনি নৌকা যোগে লৌহজং নদী পার হয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে যান। সেখানে তার সঙ্গে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিকসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূজার সময় একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। এই ধরনের পরিবেশ সবসময় থাকে না। আমি কামনা করি, সবসময় এই ধরনের পরিবেশ বজায় থাকুক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ: প্রেসিডেন্টসহ সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের শিরকি বক্তব্যের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদ: প্রেসিডেন্টসহ সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের শিরকি বক্তব্যের নিন্দা

সম্প্রতি সনাতনীদের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিতর্কিত শিরকি বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের দূর্গাপূজা নিয়ে শিরকি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, "কোন দেবদেবী স্বর্গ থেকে আসেনি।" তাদের মতে, দেবদেবীরা মানুষেরই বানানো মূর্তি। নির্বাক এবং দুর্বল দেবদেবীরা কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখেনা। তারা কোন ধরনের মঙ্গল বা অমঙ্গলের মালিক নয়। আল্লাহ তায়ালা একত্ববাদ এর বিপরীতে পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্য নবীদেরকে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকল দেব-দেবী মিলে একটি মাছি বানাতেও সক্ষম নয়। অন্য আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর উপাসনা করে, তারা এবং দেব-দেবীরা জাহান্নামের ইন্দনে পরিণত হবে। নেতৃবৃন্দ প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এমপিদের ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এক বিবৃতিতে জানান, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের অত্যন্ত সতর্কতার সহিত দায়িত্বশীল বক্তব্য দেয়া উচিত। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সম্পূর্ণ তাওহীদি বিশ্বাস ও কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট নবী-রাসূলদের ব্যাপারে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন। "তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে যখন অন্যায় নেমে এসেছিল, তখন দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। দেবদেবীরাই পৃথিবী থেকে অন্যায় দূর করেছেন, নাউজুবিল্লাহ।" রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুদের একার নয়, এটা আমাদেরও উৎসব, নাউজুবিল্লাহ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, হিন্দুদের ধর্মীয় পূজা উৎসব মুসলমানদের উৎসব হতে পারে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়, নাউজুবিল্লাহ। মুসলমানদের বিশ্বাস একমাত্র আল্লাহ ও রাসুলই সত্য ইসলাম ছাড়া অন্য কোন তন্ত্রে মন্ত্রে সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দিতে পারেনা।

আইনমন্ত্রী সনাতনীদের শুভযাত্রায় অংশ নিয়ে বলেছেন, সরকারের অন্যতম বিশ্বাসের জায়গা হল "ধর্ম যার যার উৎসব সবার"। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য বক্তব্য। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হল, "ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার"। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে তারা একমত।

অপরদিকে বরকতউল্লাহের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি বলেছেন, সনাতনীদের ভোটেই তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, মুসলমানদের ভোটে নয়। এ অসত্য বক্তব্যের দ্বারা দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানরা অন্তরে কষ্ট পেয়েছে। আমানুল্লাহ আমান এমপি কেরানীগঞ্জে হিন্দুদের প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট উদ্বোধন করতে গিয়ে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া মোনাজাত করেছেন। তিনি ঘাট উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি ভিন্নভাবেও করতে পারতেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করে তিনি শিরকিকে অনুমোদন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শালীন, মার্জিত এবং যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য দিয়েছেন। "ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, নিরাপত্তা সবার, নাগরিক অধিকার সবার।" প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে মোবারকবাদ জানিয়ে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, প্রত্যেক ধর্মের লোকেরই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করার অধিকার রয়েছে। সবার জন্য নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে, আপনার দল ও মুসলমান নামধারী কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত বক্তব্য ইতিমধ্যে জনমনে ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। সনাতনীদের ভোট কালেকশন এবং তাদেরকে খুশি করতে গিয়ে যারা বিভিন্ন ধরনের শিরিকি বক্তব্য দিয়েছেন, তাদেরকে সতর্ক করুন। এদের বিতর্কিত বক্তব্যের দ্বারা আপনার দল ও সরকারের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দিলে ব্যাপকভাবে জানরোষ সৃষ্টি হবে।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাবে আমিরে খেলাফত বলেন, "কোন দেবদেবী স্বর্গ থেকে আসেনি।" তিনি আবারও বলেন, দেবদেবীরা মানুষেরই বানানো মূর্তি। নির্বাক, দুর্বল দেবদেবীরা কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখেনা। তারা কোন ধরনের মঙ্গল বা অমঙ্গলের মালিক নয়। আল্লাহ তায়ালা একত্ববাদ এর বিপরীতে পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্য নবীদেরকে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকল দেব-দেবী মিলে একটি মাছি বানাতেও সক্ষম নয়। অন্য আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর উপাসনা করে, তারা এবং দেব-দেবীরা জাহান্নামের ইন্দনে পরিণত হবে। কোটি কোটি দেব দেবতা থাকা সত্ত্বেও আরব দেশ ছিল অশান্তির অন্ধকারে নিমজ্জিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মূর্তি অপসারণ করেই আরব দেশ থেকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার নগরীতে রূপান্তরিত করেছিলেন। নবী-রাসূলদের অবদানকে অস্বীকার করে যারা দেব-দেবীকে ক্ষমতাবান মনে করে, তাদের ঈমান থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মতো ৯২ ভাগ মুসলমান দেশের প্রেসিডেন্টের মুখে এ ধরনের অসত্য ও কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্যে জাতি হতবাক।

প্রেসিডেন্টকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ধর্মের ব্যাপারে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আপত্তি প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাংবিধানিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে এমন শব্দ বা বক্তব্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলিম নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই দাবিতে আরো যেসব নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে ও সভায় বক্তব্য দিয়েছেন তারা হচ্ছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, ইসলামী আইন সংরক্ষণ পরিষদের নির্বাহী সভাপতি মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতী জাকির হুসাইন, মুফতী শরীফ মাশহুদুর রহমান, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে, মাওলানা নেসার উদ্দিন, মুফতী জুনাইদ আহমাদ, মুফতী ইব্রাহিম খলীল, মাওলানা ইকবাল হুসাইন, আকিদায়ে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের আমীর ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একে এম আশরাফুল হক, মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, আমিনুল ইসলাম, যুগ্মমহাসচিব মুফতি কামরুল ইসলাম, সহকারী মহাসচিব মুফতি আলাউদ্দিন কাসেমী ও সংগঠন সচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন আনসারী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে রহমতগঞ্জ জেএম সেন পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল দাস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীবধর তমাল ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।

পরে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%