মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১৪ পি.এম
রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত একটি জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, রাজশাহী কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ। এখানে আখ, সবজি চাষ হয়ে থাকে। রাজশাহীতে সুগার মিল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও রেশম মিলের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এসব কলকারখানা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রাজশাহীর অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
রিজভী বলেন, তারেক রহমান দেশের কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একজন দরিদ্র ব্যক্তি দুই হাজার ৫০০ টাকা করে পেতে পারেন, যা তাদের আয়ের ন্যূনতম সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও জানান, কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান কাজ করছেন। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড তার সেই পরিকল্পনার অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রিয়াদ জুড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রিয়াদ শহরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি আরব ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানার পূর্বেই মাঝআকাশে সফলভাবে ধ্বংস করে দেয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রিয়াদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ নাগরিকদের ফোনে আগাম সতর্কবার্তা পাঠায় এবং সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শোনার কথা জানান, তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যারা দেশের সম্মান, মর্যাদা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করে—এমন শক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিজয়া দশমী বা দশেরার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তাদের পরাজিত করা অপরিহার্য।
দিল্লির আইপি এক্সটেনশনের ডিডিএ উৎসব ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোদি ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুমের চাদর গলায় এবং হলুদ রঙের কুর্তা পরে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি রাবণের কুশপুত্তলিকা দহনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। বিজয়া দশমী এমন একটি উৎসব, যা অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।
মোদি বলেন, ‘যে শক্তিগুলো দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, যারা সমাজকে বিভক্ত করে এবং যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে—তারাই দেশের শত্রু। আজ বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমাদের সংকল্প আবারও দৃঢ় করতে হবে। মা ভারতীর শত্রুদের চিনতে হবে। তাদের পরাজিত করতে হবে।’
তিনি দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রাচীন ঋষিদের শিক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, ‘আমাদের প্রাচীন ঋষিরা শিখিয়েছেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল ও সব প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
উৎসবমুখর জনতার সামনে বক্তব্যের শুরুতে রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমি শ্রীরাম, মা জানকী এবং বজরংবলীর চরণে প্রণাম জানাই। এই পবিত্র পরিবেশে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আমার সব দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ভারতের প্রতিটি প্রান্ত আজ রামময়। দেশজুড়ে রামলীলার আয়োজন, রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার ঐতিহ্য, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার ওপর সত্যের চিরন্তন বিজয়ের বিশ্বাস—এসবই ভারতের প্রাণশক্তি।
মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে এগুলো কেবল উৎসব নয়; এগুলো ভারতের জীবনশক্তি।’
দেশ পরিচালনায় রামের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ‘রামরাজ্য’ এখনো ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে নাগরিকদের কল্যাণ সবার আগে।
মোদি বলেন, ‘রামরাজ্য বলতে এমন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কারও প্রতি বৈষম্য করা হয় না, সবাই ন্যায়বিচার পায় এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে। যেখানে ক্ষমতার উদ্দেশ্য শাসন করা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এটাই শ্রীরামের আদর্শ।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে জনার্দন হিসেবে বিবেচনা করার মন্ত্র নিয়ে আমাদের সব সময় এগিয়ে যেতে হবে—‘নাগরিক, আপনিই ঈশ্বর’। দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
রামের লঙ্কা যাত্রার উদাহরণ তুলে ধরে মোদি আত্মনির্ভরতা, দৃঢ় সংকল্প ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য, নানা বাধা ও সংকটের মুখেও দেশের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা থামানো যাবে না। নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সংকট যত বড়ই হোক, চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, অন্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের শক্তি চিনতে হবে। নিজেদের সম্পদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’
মোদি বলেন, শ্রীরাম শিখিয়েছেন, পথের বাধা কখনো যাত্রা থামিয়ে দিতে পারে না। সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে; কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট। রাম সম্মিলিত জনশক্তিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, মানুষের অংশগ্রহণকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘এটাই সাফল্যের মূল মন্ত্র।’
বক্তব্যের শেষ দিকে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, এই উৎসব মানুষকে বিশ্বাস করতে সাহস জোগায় যে চ্যালেঞ্জ যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও মানবতারই জয় হবে।
তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমী হলো বিজয়ের উৎসব। এই উৎসব আমাদের বিশ্বাস করার সাহস দেয় যে শত্রু যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমরা যখন সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ মঙ্গলবার ভারত ও ইসরায়েলকে তাদের নিজ নিজ জাতীয় পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, "উগ্র বাম ও মার্ক্সবাদী শক্তি" এই মূল্যবোধগুলোকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে।
মহারাষ্ট্রের নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) বার্ষিক বিজয়াদশমী উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে রেভাখ এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও ইসরায়েল একই ধরনের মূল্যবোধ লালন করে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো একই রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে বাইরের শক্তিগুলো সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
রেভাখ বলেন, "আমরা বুঝতে পারছি যে ভারত ও ইসরায়েল—দুটি দেশ কেবল একই মূল্যবোধই ভাগ করে না, বরং দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমরা একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হচ্ছি।" তিনি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা উচিত।
আরএসএস-এর এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে রেভাখ একটি "অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য অভিজ্ঞতা" হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সোমবার তিনি মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের তরুণদের মূল শিকড়, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত রাখার বিষয়ে ভাগবত যে গুরুত্ব দিয়েছেন, রেভাখ তাঁর বক্তব্যে তা উল্লেখ করেন।
রেভাখ বলেন, "ইসরায়েলেও আমরা ঠিক এই কাজটাই করি।" তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ জনগণের পর্যায়েও সম্পর্ক জোরদার করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আমার মনে হয়, কেবল সরকারি পর্যায়েই নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যেও কীভাবে সম্পর্ক আরও মজবুত করা যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।"
জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়ে ভাগবতের বক্তব্যকে সমর্থন করে রেভাখ যুক্তি দেন যে, এসব বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে উভয় দেশেরই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, "ডা. মোহনজি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন—আমরা যদি আমাদের পরিচয় ও মূল্যবোধ রক্ষা না করি, তবে ইউরোপের দিকে তাকালেই দেখা যাবে বাইরের বিভিন্ন শক্তি কীভাবে সেগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে; একই দৃশ্য আমরা ভারত ও ইসরায়েলেও দেখতে পাচ্ছি।" তিনি আরও যোগ করেন, "উগ্র বামপন্থী ও মার্ক্সবাদী শক্তিগুলো" যাতে আমাদের মূল্যবোধ অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে জন্য উভয় দেশের নিজেদের পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করা দরকার।
বক্তব্যের শেষ দিকে রেভাখ ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার সম্পর্কে মোহন ভাগবতের প্রশংসাসূচক মন্তব্যের কথা স্মরণ করেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে কো-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হন ওই ভারতীয় পাইলট। রেভাখ বলেন, ক্যাপ্টেন স্মিত ভারতে বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর ভেতরে থাকা ভারতীয় মূল্যবোধ ও নীতিবোধই সেদিনের দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন, যার ফলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করে ফেলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক বিভাজন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে সম্পর্কিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এ অবস্থায় গত শনিবার মিশিগানের কারে (Caro) শহরে অনুষ্ঠিত এক টাউনহল সভায় তিনি এক দর্শকের কঠোর প্রশ্নের সম্মুখীন হন।
সভায় এক ব্যক্তি আব্দুল এল-সায়েদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানতে চান, তিনি ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট বা অস্বীকার করবেন কি না। এল-সায়েদ ওই আন্দোলনকে অস্বীকার করার পাশাপাশি প্রশ্নকর্তাকে তীব্র ভাষায় জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রশ্নকর্তা তাঁর মধ্যে ‘দ্বৈত আনুগত্য’ (dual loyalty) বা মার্কিন সংবিধানের প্রতি অবিশ্বাসের সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করছেন।
এল-সায়েদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনি ধরে নিয়েছেন যে—যেহেতু আমি মুসলিম, সেহেতু আমাদের সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো কিছুর প্রতি আমার আনুগত্য থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে একমাত্র পথপ্রদর্শক আলো হলো আমাদের এই সংবিধান।” তাঁর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা তাকে করতালিতে সমর্থন জানায় এবং প্রশ্নকর্তা সভা ছেড়ে চলে যান।
মিশিগানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রতিনিধি মাইক রজার্স এবং আব্দুল এল-সায়েদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করে তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর নাম ভুল উচ্চারণ করেন।
রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সিএনএন-এর সাথে সাক্ষাৎকারে জানান যে তিনি এল-সায়েদকে সরাসরি সন্ত্রাসী বলেননি, তবে তাঁর কট্টর আদর্শ এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে তাঁর পরিবারের কিছু অতীত যোগাযোগের বিষয়টিকে বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ও রিপাবলিকানদের দাবি, এল-সায়েদের পরিবারের কিছু সদস্য অতীতে এই ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সংযোগের প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
উল্লেখ্য, মিসরে প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন, যা ঐতিহাসিকভাবে সহিংসতা পরিহারের কথা বললেও এর বিভিন্ন শাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা চলছে। বর্তমান নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এই ইস্যুটি মিশিগানের ভোটারদের মেরুকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সূত্র: সিএনএন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ