ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে : ইরানি প্রেসিডেন্ট


শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে : ইরানি প্রেসিডেন্ট

ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শুক্রবার মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শেষ করার এখনই সঠিক সময় এসেছে। কারণ, বর্তমানে তেহরান সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ওয়াশিংটনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে দুই শত্রুর মধ্যে আলোচনা থমকে রয়েছে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক শুরু হওয়া যুদ্ধটি এখন অচল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে আংশিকভাবে অবরুদ্ধ রেখেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। দেশটির চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, ‘আমরা যেহেতু এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি, তাই, যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সময় এখনই।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘সারাবিশ্ব আমাদের জয় স্বীকার করছে এবং তারা জোর দিয়ে বলছে যে, আমেরিকা আইন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে এবং তারা বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে ঘৃণিত।’ জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ শেষের লক্ষ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, পেজেশকিয়ান সেখানেও যুক্তি দিয়েছেন যে, এটি তেহরানের জন্য কোনো পরাজয়ের বার্তা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘তারা এই চুক্তিতে একটি অনুচ্ছেদও খুঁজে পাবে না যা আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। চুক্তির সকল প্রতিশ্রুতি অপর পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) ওপর রয়েছে।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘কিছু ভিন্ন মত’ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ শেষ করতে এই চুক্তির অনুমোদন দেওয়ার কথা জানানোর কিছুদিন পর প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এসেছে। ইরানের পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতারা সরকারকে এই চুক্তির জন্য কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকারের অভিযোগ তুলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে গোপনে ট্যাঙ্কার ট্রানজিট পরিচালনা এবং সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সেখান দিয়ে দৈনিক ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পরেই তেহরানের পক্ষ থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকার এই দাবি করা হয়েছে। মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের’ জন্য অভিযুক্ত এবং যোগ করেছে যে, ‘এই নিষেধাজ্ঞার উস্কানিদাতারা বিচার ও শাস্তির যোগ্য।’ মার্কিন অর্থমন্ত্রী (ট্রেজারি সেক্রেটারি) স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার অঙ্গীকার করেছেন যে, নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রচারণার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ‘ধ্বংস’ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অপ্রিয় যুদ্ধটি ছয় মাসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন যে তেহরানের ওপর সামরিক চাপের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক চাপে জোর দিচ্ছে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়েছে। নজিরবিহীন সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অবরোধ ও যুদ্ধের হুমকি অথবা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’: ইরানের অর্থনীতিকে একঘরে করার প্রচেষ্টায় অন্যান্য দেশের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে, চীনও ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘চীন সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।’ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হোয়াইট হাউস সফরের কথা রয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের গত মে মাসের বেইজিং সফরের মতো এবারও ইরান ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসবে। বেসেন্ট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর অর্থ হলো ওয়াশিংটনকে নতুন করে বড় সামরিক অভিযানে নামতে হবে না। তবে তিনি আগামী সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানান। তবে অন্যান্য উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ মূলত আমেরিকান সংকটের—অনিয়ন্ত্রিত ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের খরচের—থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল মাত্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যে দাবি করেছে, এটি ‘ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অধীনে ইরানি শাসনব্যবস্থার স্বার্থের জন্য’ কার্যকর। তেহরান সমর্থিত ও অর্থায়িত হিজবুল্লাহ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং একঘরে করে রাখার মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধের পথ থেকে সরানো সম্ভব নয়।’ যুক্তরাষ্ট্র যখন সরাসরি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা করছে, তখন এই নতুন নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মূল যুদ্ধ শুরুর পর হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর পর এই সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ কেন ‘জেন-জি’ সেজে রিল বানাচ্ছেন মোদি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


হঠাৎ কেন ‘জেন-জি’ সেজে রিল বানাচ্ছেন মোদি?

ভারতের জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হয়তো খুব একটা ‘বন্ধুসুলভ’ চরিত্র নয়। কিন্তু তিনি বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী এই নেতা তরুণদের কাছে পৌঁছাতে বন্ধুর মতো করে কথা বলার চেষ্টা করছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে মোদি শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নেতার পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তিনি পরিকল্পিত বক্তৃতা, আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাজানো জনসমক্ষে উপস্থিতির মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে তিনি পরিচিত ধারা থেকে কিছুটা সরে এসে ইনস্টাগ্রামে অপেক্ষাকৃত স্বতঃস্ফূর্ত ও অনানুষ্ঠানিক কনটেন্ট প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় এই ছবি ও ভিডিওভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এখন 'ক্যান্ডিড' বা স্বাভাবিক মুহূর্তের ভিডিও, সেলফি-ধাঁচের বক্তব্য ও তরুণদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা প্রচার করছেন।

মোদি প্রায়ই তরুণদের উদ্দেশে ‘বন্ধুরা’ সম্বোধন ব্যবহার করেন। এমনকি দিল্লিতে এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি জেন-জির মধ্যে জনপ্রিয় একটি বাক্যবন্ধের আদলেই বলেন, “আমার রক্তের ধারায় প্রথমবার রকেট, চিপ ও ড্রোন তৈরি হচ্ছে।”

ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ৬০ লাখের বেশি অনুসারী নিয়ে মোদি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা রাজনৈতিক নেতাদের একজন। তবে এতদিন এই প্ল্যাটফর্মে তার যোগাযোগের ধরনকে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি। এখন সেই চিত্র বদলানোর সূচনা হয়েছে।

ভারতে চলতি বছরের যুব আন্দোলনের পর মোদি ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশলে পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনটি প্রথমে নিছক রসিকতা ও অনলাইন ঠাট্টা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। কিন্তু মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এই অনলাইন আন্দোলন এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, এর রাজনৈতিক চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিজেপিকে কিছুটা অপ্রস্তুত করে দেয়। লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার অনুরাগ মাইনাস ভার্মা বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক পেজ ও এক্স অ্যাকাউন্টের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছে।

যুব আন্দোলনের পর প্রজন্মের সমর্থন আদায় করতে তাদের পছন্দের প্ল্যাটফর্মগুলোতে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত, স্বতঃস্ফূর্ত ও তুলনামূলকভাবে ‘আনফিল্টারড’ কনটেন্ট অনেক সময় প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারের চেয়ে বেশি সাড়া পায়। মোদির সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম কনটেন্টে সেই বিষয়টির ছাপই দেখা যাচ্ছে।

তবে প্রথম থেকেই মোদির উদ্যোগ খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। যুব আন্দোলনের সময় মোদি যখন প্রথম সেলফি-ধাঁচের ভিডিও রিল প্রকাশ করেন, তখন তরুণদের বড় একটি অংশ সেটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে নেয়নি। বরং ভিডিওটি দ্রুত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ভিডিওতে মোদি ‘বন্ধুরা’ বলার আগে যে দীর্ঘ বিরতি নিয়েছিলেন, সেটি তরুণদের নজর কাড়ে।

ভিডিওটির নানা সংস্করণ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ ভিডিওটি সম্পাদনা করে হাস্যরসাত্মক রূপ দেন, কেউ মোদির ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ও আলোর ব্যবহার নিয়ে ঠাট্টা করেন।

পরবর্তী ভিডিওগুলোতে মোদির টিমও যেন এসব সমালোচনার প্রতি সাড়া দিতে শুরু করে। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, পেছনের দৃশ্য এবং আলোর ব্যবহারে পরিবর্তন আনা হয়। তবে এতে তরুণদের সন্দেহ পুরোপুরি কাটেনি। ২২ বছর বয়সী গিন্নি মালিয়া বলেন, বিজেপি কেন তার বয়সী তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে, তা তিনি বুঝতে পারেন। তবে ‘হঠাৎ করে যোগাযোগ বাড়ানোর সময়টাই আসলে আমাদের ভেবে দেখা দরকার।’

কেবল মোদি নয়, বিজেপির কনটেন্টও বদলেছে। তরুণদের কাছে পৌঁছাতে বিজেপির বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে মিম, স্ল্যাং এবং পপ-কালচার বা জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা উপাদান ব্যবহার শুরু হয়েছে।

যুব আন্দোলন শেষ হওয়ার কিছুদিন পর বিজেপি একটি জিমকে কেন্দ্র করে একটি রিল প্রকাশ করে। সেখানে কয়েকজন তরুণ ও একজন বয়স্ক প্রশিক্ষককে দেখিয়ে তরুণ ভারতীয়দের আন্দোলন থেকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়া হয়। তবে ভিডিওটির নিচে অনেক ব্যবহারকারী সেটিকে ‘ক্রিঞ্জ’ বা অস্বস্তিকর ও কৃত্রিম বলে মন্তব্য করেন।

আরেকটি ভিডিওতে ১৯৯০-এর দশকের জনপ্রিয় সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-এর টাইটেল গান ব্যবহার করে লেখা হয়- “পিএম মোদি আপনার পাশে আছেন।” সমস্যাটি হলো, ‘ফ্রেন্ডস’ মিলেনিয়ালদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত হলেও জেন-জির বড় অংশের কাছে এর আবেদন তুলনামূলকভাবে কম। মালিয়ার মতে, তার বয়সী তরুণদের অনেকেই এসব ভিডিওকে রাজনৈতিক প্রচার বা তরুণদের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন না। বরং এগুলোকে তারা ‘কমেডি কনটেন্ট’ হিসেবেই গ্রহণ করছেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তরুণদের কাছে পৌঁছানোর সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলো প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না- বিষয়টি বিজেপিও বুঝতে পারছে। যুব আন্দোলনের সময় মোদি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় হতে এবং তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বলেছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পারফরম্যান্সের একটি ‘রিপোর্ট কার্ড’ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এর আগে বিজেপি ২০১৫ সাল থেকে দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অমিত মালব্যকেও সরিয়ে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুব আন্দোলনের সময় অনলাইনে বিজেপির বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া সমালোচনা এবং সেই বয়ান নিয়ন্ত্রণে দলের ব্যর্থতার বিষয়টি এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা কেবল বিজেপির মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও দীর্ঘদিন ধরে ইনস্টাগ্রামে সেলফি-ধাঁচের ভিডিও ও তুলনামূলকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত ছবি প্রকাশ করে আসছেন। যুব আন্দোলনের পর তিনিও ইনস্টাগ্রামে ‘আস্ক মি এনিথিং’ আয়োজন করেন। সেখানে তার কিছু উত্তর ছিল বেশ রসিকতাপূর্ণ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনকি মজা করে জানতে চান, “আপনি কি কখনও আমাকে আর ব্যাটম্যানকে একই ঘরে দেখেছেন?”

তবে ইনস্টাগ্রামে তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এক বিষয়, আর সেই প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বয়ান নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রাজনৈতিক ব্যবহারবিষয়ক শিক্ষক জয়োজিৎ পাল বলেন, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এক্স ও হোয়াটসঅ্যাপে সমর্থকদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের বার্তা ছড়িয়ে রাজনৈতিক বয়ান নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এভাবে কাজ করে না।

এই প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ধরে দেখা, পুনরায় দেখা, শেয়ার ও মন্তব্যের মতো বিষয়গুলো কনটেন্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। জয়োজিৎ পালের মতে, এমনকি ২০০ অনুসারী থাকা একটি অ্যাকাউন্টের কোনও রিলও এক কোটি ভিউ পেতে পারে। আবার লাখ লাখ অনুসারী থাকা অ্যাকাউন্টের কোনো ভিডিও কয়েক হাজার ভিউয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এখানেই বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মোদির ভাইরাল রিলটি এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। ভিডিওটি ৪০ কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে সেটি সফল। কিন্তু ভিডিওটির দ্বিতীয় জীবন শুরু হয় তরুণদের হাতে। অনেক তরুণ সেটি আবার শেয়ার করেন ব্যঙ্গাত্মক সম্পাদনা, মিম ও হাস্যরসাত্মক মন্তব্যসহ। ফলে মোদির টিম যে বার্তা দিতে চেয়েছিল, ভিডিওটি নতুন সংস্করণে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করতে শুরু করে। ভার্মার মতে, এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তিনি বলেন, “ইনস্টাগ্রাম মূলত বিদ্রূপনির্ভর একটি প্ল্যাটফর্ম। রিল আকারে উপস্থাপন করা গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক বার্তাও সেখানে ট্রলের শিকার হতে পারে।” অর্থাৎ কোনও রাজনৈতিক নেতা একটি ভিডিও পোস্ট করার পরে সেটি কীভাবে ব্যবহার হবে, কী ধরনের মিম তৈরি হবে বা ব্যবহারকারীরা কোন অর্থে সেটিকে গ্রহণ করবেন- তা আর পুরোপুরি সেই নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জেন-জিকে আকৃষ্ট করতে বিজেপির ইনস্টাগ্রাম কৌশলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ারও কারণ নেই। ভারতের নির্বাচনে বিজেপির সাফল্য শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট কত ভিউ পেল বা তরুণরা কতটা পছন্দ করল, তার উপর নির্ভর করে না। দলের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, দীর্ঘদিনের সমর্থকগোষ্ঠী এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এখনও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জয়োজিৎ পালের মতে, “নির্বাচনে জয়লাভের সক্ষমতা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বয়ান নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা- দুটিকে আলাদা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন-জির প্রত্যেক সদস্য বিজেপিকে অপছন্দ করলেও দলটি নির্বাচনে বড় জয় পেতে পারে। অর্থাৎ ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া মানেই নির্বাচনী ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া নয়।

তবু ভারতের তরুণ জনগণের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকায় বিজেপির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দলটি এর আগেও রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন মাধ্যম গ্রহণে দ্রুততার পরিচয় দিয়েছে। প্রচারের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিজেপি অন্যতম ছিল। পরে পডকাস্ট, ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার এবং নতুন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্টেও দলটি প্রবেশ করেছে।

জয়োজিৎ পালের মতে, বিজেপি শেষ পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম ও জেন-জির যোগাযোগের ভাষাও আয়ত্ত করতে পারে। তবে এর জন্য সময় লাগবে। কারণ এখন শুধু নতুন প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হওয়াই যথেষ্ট নয়; সেই প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও অলিখিত নিয়মও বুঝতে হবে। ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বিজেপি এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো নিয়মে সফল হয়েছে। কিন্তু জেন-জি এবং ইনস্টাগ্রামের যুগে সেই কৌশলই যে একইভাবে কাজ করবে, তার নিশ্চয়তা নেই। আর সেই কারণেই বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা মোদির ‘শক্তিশালী নেতা’ ভাবমূর্তির পাশে এখন নতুন এক চরিত্র দেখা যাচ্ছে- তরুণদের সঙ্গে সেলফি তোলা, রিল বানানো এবং ‘বন্ধুরা’ বলে সম্বোধন করা এক প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন হলো, এই নতুন মোদি কি সত্যিই জেন-জির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারবেন, নাকি তার ‘জেন-জি রিল’ শেষ পর্যন্ত আরও এক দফা মিম ও বিদ্রূপের উপকরণ হয়ে থাকবে? সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে তিনি ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মর্যাদা ও জনগণের প্রত্যাশাকে ধারণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তিনি যে দায়িত্বশীল, সফল ও মর্যাদাপূর্ণ পথচলার জন্য আছেন সে জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলাবতে ৫৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ এমাদ মিয়া:-নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


বেলাবতে ৫৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

নরসিংদীর বেলাবতে অভিযান চালিয়ে ৫৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ২৩ হাজার ৮৯০ টাকাসহ মো. সুমন মিয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বেলাব থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বেলাব থানাধীন নারায়ণপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দি এলাকায় গ্ৰেফতার কৃত আসামির নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সুমন মিয়া মরিচাকান্দা এলাকার মৃত আলকাছ মিয়ার ছেলে। অভিযানে তার কাছ থেকে ৫৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ২৩ হাজার ৮৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বনাথে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


বিশ্বনাথে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেপ্তার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আবদুল কাইয়ুম (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আবদুল কাইয়ুম, যিনি অলংকারী ইউনিয়নের অলংকারী গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে, বর্তমানে বিশ্বনাথ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পরিচিত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া আসামির পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতেই বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ইরন মিয়া।

নতুন এই মামলায় বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বর্তমান সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, ত্রাস সৃষ্টি, এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ও রয়েছে। অভিযানে অংশ নিয়ে রাতে গ্রেফতার করা হয় আবদুল কাইয়ুমকে, বর্তমানে তিনি পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। পরে আজ দুপুরে তাকে সোর্পোদ করা হয় সিলেট আদালতে।

এই বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় আবদুল কাইয়ুম নামে একজনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%