০৮:৪৩ এম
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ১৬ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বাল্যবিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতির কারণে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারকে (কাজী) কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এই সাজা প্রদান করে এবং একইসঙ্গে বাল্যবিবাহটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ন মাদবরকান্দী গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে পুলিশ এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ‘চলি মানবতার সাথে’ শিরোনামে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মেলন সান্তাহারে
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচাই-বাচাই করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। এসময় উপস্থিত নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মো. জাকির হোসেন বাল্যবিবাহ সম্পাদনের প্রস্তুতির মধ্যে ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণার পাশাপাশি ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একটি খসড়া রেজিস্ট্রার খাতা জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় বর, তার বাবা-মা এবং বিয়ের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান মন্তব্য করেন, বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই ধরনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই ধরনের কার্যক্রমে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের মনে হচ্ছে, বাল্যবিবাহ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে এই ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
আরও পড়ুন: মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: হেমায়েত হোসেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন