০৮:৪৮ এম
একসময় ঢাকা-বরিশাল-ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে যাত্রীসেবার অন্যতম নির্ভরতার নাম ছিল ঈগল পরিবহন। আরামদায়ক যাত্রা, সময়নিষ্ঠ সেবা এবং নিয়মিত ট্রিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন খাতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের যাত্রীদের কাছে ঈগল পরিবহন ছিল আস্থার আরেক নাম।
দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের আগেও এবং পরবর্তীতেও ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঈগল পরিবহনের বাস ব্যবহার করতেন। ফলে পরিবহন খাতে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সময়ের পরিক্রমায় ঈগল পরিবহনের সেই সুনাম ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করে। যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, শেষদিকে সার্ভিসের মান আগের মতো থাকেনি। অনিয়মিত ট্রিপ পরিচালনা, বাসের রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি, যাত্রীসেবার মান কমে যাওয়া এবং ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি যাত্রীদের আস্থাকে নড়বড়ে করে তোলে।
আরও পড়ুন: আটঘরিয়ায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস খেলোয়াড় বাছাই পর্বের উদ্বোধন
একাধিক সূত্রের মতে, এসব সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একই সময়ে নতুন নতুন পরিবহন কোম্পানি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করায় প্রতিযোগিতাও বেড়ে যায়। ফলে একসময় দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে দাপটের সঙ্গে চলা ঈগল পরিবহন ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে ঘটতে এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন সড়কে ঈগল পরিবহনের বাস না দেখায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো এই পরিবহন আর কখনও ফিরে আসবে না।
কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর বিরতির পর নতুন পরিকল্পনা, নতুন ব্যবস্থাপনা এবং নতুন উদ্যম নিয়ে আবারও যাত্রীসেবায় ফিরেছে ঈগল পরিবহন। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকটি বাস দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচল শুরু করেছে বলে জানা গেছে। আর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যাত্রীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
অনেক যাত্রীর মতে, দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতে ঈগল পরিবহনের ফিরে আসা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু নাম কিংবা অতীতের সুনাম নয়, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত সেবা, সময়নিষ্ঠতা, নিরাপদ যাত্রা এবং যাত্রীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করাই হবে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বর্তমানে যাত্রীদের প্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেক বেশি। আধুনিক ও আরামদায়ক বাস, দক্ষ চালক, নিরাপদ যাত্রা, ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এবং উন্নত গ্রাহকসেবা ছাড়া বাজারে টিকে থাকা কঠিন। তাই ঈগল পরিবহনকে পুরনো সুনাম ফিরিয়ে আনতে হলে এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের এখন একটাই প্রশ্ন—ঈগল পরিবহন কি আবারও আগের সেই জনপ্রিয়তা ও আস্থা ফিরে পাবে? নাকি এটি শুধুই একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে থাকবে?
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের হাত ধরেই। তবে দীর্ঘ বিরতির পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে ঈগল পরিবহনের প্রত্যাবর্তন যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন নজর থাকবে তাদের সেবার মান, ধারাবাহিকতা এবং যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতার দিকে।
ঈগল পরিবহনের নতুন যাত্রা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন