ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গণভোটের রায় কার্যকর না করাই দেশের সংকটের কারণ: মামুনুল হক


গণভোটের রায় কার্যকর না করাই দেশের সংকটের কারণ: মামুনুল হক

বাংলাদেশের বর্তমান সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মূল কারণ হিসেবে মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন যে, সংবিধান সংস্কার না করা এবং গণভোটের রায় কার্যকর না করা।

তিনি উল্লেখ করেন, "গণভোটের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করেই জুলাই বিপ্লবের ফসল ঘরে তোলা হবে।"

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মামুনুল হক বলেন, "আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জুলাই বিপ্লবের প্রতি যেভাবে আমাদের কমিটমেন্ট বারবার ব্যক্ত করছি, পুনর্ব্যক্ত করছি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত যে গণভোট ছিল, সেই গণভোটের যে গণরায়, সেই গণরায় কার্যকর করার নিয়মতান্ত্রিক দাবি আমরা বারবার তুলে ধরছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই জনতার এই রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে প্রস্তুত নয়। তারা নানা ধরনের অহেতুক কথাবার্তার মাধ্যমে শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত নয়, বরং জনগণের এই রায়কে বারবার অসম্মান করে যাচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একটি ছিল সরকার গঠনের নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন। আরেকটি ছিল রাষ্ট্র মেরামতের নির্বাচন, গণভোটের নির্বাচন। সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে বর্তমান সরকার বিজয়ী হয়েছে। যদিও সেখানে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিজমের অভিযোগ রয়েছে এবং প্রমাণ রয়েছে। পক্ষান্তরে ৭০ শতাংশ ভোট নিয়ে রাষ্ট্র মেরামতের গণভোটের নির্বাচন জয়যুক্ত হয়েছে।"

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, "কথা ছিল রাষ্ট্র মেরামতের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর করে সংবিধান সংস্কার করে রাষ্ট্রকে মেরামত করার যে ঐতিহাসিক অভিপ্রায় ছিল জুলাই বিপ্লবের, সেই অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করার কথা।"

তিনি বলেন, "সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের মুখপাত্র জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী এই অভিপ্রায় বাস্তবায়নের গণভোটকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন। আমরা বারবার বলেছি, একই মায়ের পেটে জন্মগ্রহণকারী দুই যমজ সন্তানের মধ্যে একটি যদি অবৈধ হয়, দ্বিতীয় সন্তান কোনোদিন বৈধ হতে পারে না। যদি কোনোটি অবৈধ হয়, একই নির্বাচনী তফসিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বৈধ হতে পারে না, সরকার অবৈধ হতে পারে না।"

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও মার্কিন বিমান বাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ ‘এক্সারসাইজ কোপ সাউথ-২০২৬’ শুরু

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, "আজকে বাংলাদেশের যে সংকট, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের যে চরম ঊর্ধ্বগতি, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জনগণের যে অধিকার, সেই অধিকার আজ তাদের হাতের নাগালের বাইরে। সারাদেশ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে ছেয়ে গিয়েছে। সরকার প্রশাসন নির্লজ্জ দলীয়করণ করেছে। এই সবকিছুর মূল সমস্যা হলো সংবিধান সংস্কার না করা, গণভোটের রায় কার্যকর না করা।"

১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আজ ১১ দল গণভোটের রায় কার্যকর করার যে আন্দোলন, যে সংগ্রাম নিয়ে মাঠে নেমেছে, দ্বিতীয় দফায় আজকে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের দক্ষিণ জনপদে যে ঐতিহাসিক লংমার্চের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, ইনশাআল্লাহ গোটা বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে গণভোটের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করেই জুলাই বিপ্লবের ফসল আমরা ঘরে তুলব ইনশাআল্লাহ।"

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

আরও পড়ুন: মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের মাঠে ফেরানোর আহ্বান এমপি জিন্নাহ কবিরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় সতর্ক আশাবাদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় সতর্ক আশাবাদী

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী মন্তব্য করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ধারাবাহিক তেহরান সফর আলোচনা বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত প্রদান করছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি চলতি মাসে দুবার তেহরান সফর করেছেন। সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর সউদী আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে ইরান সফর করেন তিনি।

আসিম মুনিরের পরপর দুইবার তেহরান সফর ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ বলেন, "ইতিবাচক কিছু না থাকলে ফিল্ড মার্শাল দুবার সেখানে যেতেন কেন? সুতরাং হ্যাঁ, অবশ্যই।" তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তান সব সময়ই এ বিষয়ে ‘সতর্ক আশাবাদী’ অবস্থান নিয়েছে।

আহমেদ শরিফ আরও জানান, কিছু শক্তিশালী পক্ষ ও বিরোধী গোষ্ঠী এখনও মনে করে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তাদের স্বার্থ পূরণ হবে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তেহরান সফরে কী আলোচনা হয়েছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।

সর্বশেষ সফরে আসিম মুনিরের সঙ্গে ছিলেন সউদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। ২৬ অক্টোবর তেহরানে ইরান, পাকিস্তান, সউদী আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে। তাঁর ভাষ্য, চার দেশই মনে করে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা সম্ভব। আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর আশাও প্রকাশ করেন।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে আট মাস আগে শুরু হওয়া সংঘাত পরে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অগ্রগতির প্রতিফলন। সর্বশেষ উদ্যোগে সউদী আরব ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি সউদী আরব ও তুরস্কের অংশগ্রহণে সংঘাত প্রশমনে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুনে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

মরদেহগুলো শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁয় এবং বাকি দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায়।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় মোট ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বাকি সাতজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এবার তাদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হলো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়েছে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন; আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী। এছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।

প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার পর এবার শেষবারের মতো একনজর দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার মৃত শাহিনের স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশত থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’

মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন স্বজনরা।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জমান জানিয়েছেন, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মরদেহ দাফন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ এম


যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা মোকাবিলায় সহায়ক হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জানায়, উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিক্রির জন্য ২১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। এই অর্থের পুরোটা ইউরোপের মিত্র দেশ ও কানাডা বহন করবে।

জেলেনস্কি শুক্রবার রাতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্রুত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিয়েভ রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য প্যাট্রিয়টের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। এ নিয়ে ইউক্রেন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

ট্রাম্প একপর্যায়ে মন্তব্য করেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করার জন্য ইউক্রেনের নতুন নেতা প্রয়োজন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের কিছু এলাকা দখল করে নেয় মস্কো।

তবে গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।

শুক্রবারের বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণেও সহায়ক হবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের মাধ্যমে ইউক্রেন এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য অর্থ জোগাবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণের আওতায় জাতীয় তহবিল থেকেও অর্থ দেওয়া হবে। এ অর্থায়ন করা হবে জাম্পস্টার্ট কর্মসূচির মাধ্যমে।

মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন থাকবে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাকডোনাল্ডসের আবেদন নাকচ, আদালত মামলা চালানোর নির্দেশ দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


ম্যাকডোনাল্ডসের আবেদন নাকচ, আদালত মামলা চালানোর নির্দেশ দিল

ম্যাকডোনাল্ডসের বিখ্যাত ‘ম্যাকরিব’ স্যান্ডউইচের সাথে ভোক্তাদের প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক ফেডারেল বিচারক ম্যাকডোনাল্ডসের মামলাটি বাতিলের জন্য করা আবেদন নাকচ করে দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, ম্যাকডোনাল্ডস ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাকরিব প্যাটিগুলোকে শূকরের পাঁজরের মাংসের মতো আকৃতিতে তৈরি করে, যাতে ক্রেতারা মনে করেন এতে দামি ও সুস্বাদু পাঁজরের মাংস রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, কোম্পানিটি পাঁজরের মাংসের পরিবর্তে শূকরের কাঁধের অংশ, হৃৎপিণ্ড বা ভুঁড়ির মতো তুলনামূলক কম দামি উপাদান ব্যবহার করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছে।

ম্যাকডোনাল্ডসের দাবি ছিল যে, মাত্র ৭ ডলারের স্যান্ডউইচে কেউ আসল পাঁজরের মাংস আশা করতে পারে না। তবে শিকাগোর মার্কিন জেলা জজ এপ্রিল পেরি এই যুক্তি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, স্যান্ডউইচ কেনার আগে ক্রেতাদের গবেষণা করার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া, মাংসের পাঁজরের মতো আকৃতি দিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করা প্রতারণার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

অন্যদিকে, ম্যাকডোনাল্ডস এই অভিযোগ অস্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা স্যান্ডউইচে হৃৎপিণ্ড বা ভুঁড়ি ব্যবহার করে না এবং উপাদান সম্পর্কে তারা সবসময় স্বচ্ছ। প্রতিষ্ঠানটি মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও তথ্য বিকৃতকারী বলেও দাবি করেছে। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই প্রতারণামূলক বিপণনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, ছবি বা বিজ্ঞাপনের সাথে বাস্তবের পণ্যের আকৃতি ও উপাদানের মিল না থাকার অভিযোগে এর আগে ম্যাকডোনাল্ডস, বার্গার কিং এবং ওয়েন্ডিসের মতো বড় ফাস্ট-ফুড ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%