প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্রমমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর যদি আমরা বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কার? জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর জঘন্যতম ও ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড এবং জঘন্যতম স্বৈরাচারকে আমরা দেখেছি। তিনি জানান, যদি আমরা আয়নাঘরে যাই, যেখানে তার ৬১ দিনের অভিজ্ঞতা আছে। সেখানে একটা জানোয়ার ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারে না, কিন্তু তারা সেখানে থেকেছে। তার ভাই মীর কাসেম, তার ছেলে ব্যারিস্টার আরমান এখনো ট্রমাটাইজড। তিনি বললেন, ভাই, কেন ফেরত আসলেন? সে বললেন, আমি যদি না আসি আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফাঁসি তো তার হলো, কিন্তু ছেলেকেও তো ধরে নিয়ে গেল। আমি একটা জীবন্ত ইতিহাস। বাবা এ জন্য ফিরে এসেছিলেন তার সন্তানকে রক্ষা করবেন, কিন্তু সন্তানকে রক্ষা করতে পারেননি।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে রকম একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারওই থাকবে না। আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে অনেক জাতি আছে, যারা স্বাধীনতার জন্য শতবর্ষ সংগ্রাম করেছে কিন্তু কোনোদিন মুক্তি পায়নি। মহামতি লেনিন বলেছিলেন, দেয়ার আর ডিকেডস, নাথিং হ্যাপেনস দেয়ার। কিন্তু সেখানে আর দিন এবং সপ্তাহে দশকগুলো হ্যাপেনস দেয়ার। আমরা সেই শতাব্দীকে নিয়ে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, নিউটনের কোনো আপেল নয় আন্দোলন-বিপ্লব-গণঅভ্যুত্থান। সেই আপেলকে পেড়ে নিতে হয়েছে, পাকাতে হয়েছে, আমরা সেই আপেলকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু দলীয়করণ করা যাবে না কোথাও।
জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের জেরে তিনি বলেন, আসুন, একসঙ্গে বসি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনো নাম দেননি। গতকাল প্রথম বৈঠক করেছি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, যখন কোনো আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না, তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলন। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর সেই সোপানগুলো বাদ দিলে জুলাইয়ের ৩৬ দিনে কি নিউটনের আপেল টপকিয়ে পড়েছে? না। বন্ধুদের বুঝতে বলবো, যারা জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে, সেই রাজনীতি করা যাবে না। তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকাতে, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।
শেষে তিনি বলেন, তারা এই চেতনা বিক্রি করতে করতে বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বললে মানুষ ঘৃণা করতো। যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয় সেই রকম রাজনীতি করি। জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের। আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন