০৬:০৬ পি.এম
মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য ইরানের অবমুক্ত করা তহবিল ব্যয় হবে— যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রত্যাখ্যান করেছেন। গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে মার্কিন নেতারা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি একটি পোস্ট করেছেন যেখানে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাভাবে দাবি করছে যে আমাদের অবমুক্ত সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষিপণ্য কেনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন একমাত্র যে ফসলটি ঘরে তুলছি, তা আপনাদেরই রোপণ করা—কয়েক দশকের অবিশ্বাস। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত এবং আমাদের নিজেদেরই মাটিতে ফলানো। অথচ যুক্তরাষ্ট্র কেবল জিএমও সয়াবিন, ভঙ্গ করা প্রতিশ্রুতি আর কটূক্তিই রফতানি করে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের জন্য প্রাথমিক আর্থিক ছাড়ের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গম ও সয়াবিন কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, এই অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না; বরং তা মার্কিন কৃষকদের কাছে যাবে এবং ইরানের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ব্যয় হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি সিএনবিসি-কে বলেছেন, কাতারে অবস্থানরত ট্রেজারি কর্মকর্তারা তহবিলের ব্যবহার তদারকি করবেন এবং এর ‘বড় অংশ’ মার্কিন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কেনায় ব্যয় হবে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের অবমুক্ত সম্পদ শেষ পর্যন্ত মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধ করবে এবং ইরানের জনগণের খাদ্য সরবরাহে ব্যবহৃত হবে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
মার্কিন কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধের কয়েক মাস পরও দেশে খাদ্য সরবরাহে কোনো বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়নি।
ইরানের কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নৌরি গেজেলজেহ সম্প্রতি জানান, দেশটি বর্তমানে খাদ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এর ফলে দেশটিতে কৃষি উৎপাদন ইসলামি বিপ্লবের আগের ২৮ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৩৯ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা গত ১৭ জুনের চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিকৃত ভাষ্য’ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি বলেছেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরানের ‘আমেরিকা থেকে কৃষি উপকরণ কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই’।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, অবমুক্ত অর্থ ইরানের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো দেশ থেকে পণ্য কেনার জন্য স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা হবে। কৃষিপণ্য কেনা হলে তা মূল্য ও মানের ভিত্তিতেই হবে, ওয়াশিংটনের শর্তে নয়।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
তিনি বলেন, যে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করা এবং দেশটিকে অস্থিতিশীল করা, সেটিই এখন কীভাবে মার্কিন কৃষকদের সমৃদ্ধ করার প্রকল্পে পরিণত হলো, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
সূত্র: প্রেস টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন