০৬:১০ পি.এম
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো মূল্য দিয়ে চুক্তি করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি বা কর আরোপের পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মার্কো রুবিও বলেন, 'আমরা একটি চুক্তি চাই, তবে তা যেকোনো মূল্য দিয়ে নয়। আমরা এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই যে, এমন কোনো চুক্তি হবে না যা উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করবে।'
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যার লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ওই সমঝোতার আওতায় জার্মানির পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনসহ নানা জটিল বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এতে অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা, এটি এখনো স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: রাত পোহালেই ভোট, বিএনপি না জামায়াত হাসবে?
বাহরাইনের বৈঠক শেষে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়গুলোতে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালিতে ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এর ওপর কোনো রাষ্ট্র এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ফি আরোপ করতে পারে না। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো একক রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় এবং এই বৈশ্বিক নীতি ভেঙে গেলে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। জিসিসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাদের যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিঃশর্ত ও বাধাহীন মুক্ত নৌচলাচলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
অবশ্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির জন্য যা নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তাতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ট্রানজিট ফি আরোপের বিষয় নেই। যদিও এর আগে ওমান এবং ইরান যৌথভাবে জানিয়েছিল, প্রণালিতে প্রদত্ত বিভিন্ন সেবার জন্য সম্ভাব্য নতুন চার্জ নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।
গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আগামী ৬০ দিন সম্পূর্ণ বিনা খরচে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুনির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সেখানে কী ধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনো জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন