প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়। এ লক্ষ্য পূরণে প্রথমবারের মতো কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বস্ত্র ও পোশাক প্রদর্শনী ‘অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সিবিশন মালয়েশিয়া’ (আটেক্স মালয়েশিয়া ২০২৬)-এ বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে। এই প্রদর্শনী নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং রফতানি বৃদ্ধি ঘটিয়ে, দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।
কাইজার এক্সিবিশনস অ্যান্ড কনফারেন্সেসের আয়োজনে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীটি ২৫ জুন থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে। বিশ্বের ৬টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায়, মেলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নামিরাহ অ্যাপারেলস, বিকেএমইএ, স্টিচ (বিডি) নিটওয়্যার এবং সামার ফ্যাশন লিমিটেডসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় বাংলাদেশী বুথগুলোতে দেশের তৈরি বিশ্বমানের নিটওয়্যার, তৈরি পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পণ্য ও উৎপাদন সক্ষমতা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
গত ২৫ জুন প্রদর্শনীর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হার রয়্যাল হাইনেস ইয়াং আমাত মুলিয়া হাজাহ শরিফাহ খাতরিনা নুরানিয়াহ জামালুল্লাহিল, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং মেট্রেডের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এস. জয় শংকর সুপায়াহসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশের বুথসমূহ পরিদর্শন করেন, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়।
মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও বৃহত্তর আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি বৃদ্ধি, নতুন বাজার সম্প্রসারণ, এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব জোরদারে ‘আটেক্স মালয়েশিয়া ২০২৬’-এর মতো বড় মাপের বিটুবি সোর্সিং মেলায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চলমান পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বস্ত্র খাতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।
প্রদর্শনীতে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানান, প্রতিযোগিতামূলক গুণগত মান, সাশ্রয়ী উৎপাদন খরচ, এবং আঞ্চলিক ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং অংশীদার। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সোর্সিং প্রবাহ তৈরি ও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে বাংলাদেশ লক্ষ্যভিত্তিক ক্রেতা মিশন, বিটুবি ম্যাচমেকিং এবং কুয়ালালামপুরে একটি ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া টেক্সটাইল ফোরাম’ গঠনে পূর্ণ সমর্থনের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের এই পুনর্গঠনের সময়ে মালয়েশিয়া নিজেকে পোশাক সোর্সিং এবং টেক্সটাইল উদ্ভাবনের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন