০১:১৮ পি.এম
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানাকে কেন্দ্র করে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায়ের আগে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এ প্রসঙ্গে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেছেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেবেন এবং এই রায় সারা দেশের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হবে।
বুধবার রায় ঘোষণার আগে তিনি একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
আইনজীবী ইশরাত হাসান আরো বলেন, বিপক্ষ পক্ষের আইনজীবী আগেভাগেই বলে দিয়েছেন যে তারা খালাস পাবেন। তবে আমরা বিশ্বাস রাখি যে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার করবেন। ইশরাত হাসান বললেন, এই ন্যায়বিচার সারাদেশের মানুষের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচারের উদাহরণ হয়ে থাকবে— এই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা আদালতের কাছে যাচ্ছি।
তিনি জানান, পাঁচ বছর চার মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা মামলাটি পরিচালনা করছেন শুধুমাত্র ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়। আদালতের সামনে তারা যে সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য ও ঘটনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন, তার ভিত্তিতেই বিচার হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
ইশরাত হাসান বললেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমে আগাম খালাস পাওয়ার কথা বললেও আদালতের রায় আগে থেকে বলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই তারা আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই রায়ের অপেক্ষা করছেন।
মামলার পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, বাদী রাকিব হোসেন কখনোই তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া বা কাউকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আদালতের দ্বারস্থ হননি। তার অভিযোগ ছিল, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিবাহবিচ্ছেদ দেখানো হয়েছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন নথি তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
তিনি আরো বলেন, যিনি যার সঙ্গে থাকবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু ডিভোর্স না দিয়ে বিয়ে করা, জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করা এবং সবকিছু জেনেশুনে একটি সন্তানের মাকে অন্য সম্পর্কে নিয়ে যাওয়া— এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তানরা।
ইশরাত হাসান বলেন, মামলাটি পরিচালনার সময় বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেসব উপেক্ষা করেই তারা বিচারিক প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছেন। তারা প্রত্যাশা করেছেন একদিন এই ধরনের অপরাধের বিচার হবে। সেই বিচার দেখে অন্যরাও শিক্ষা নেবে যে সঠিকভাবে ডিভোর্স সম্পন্ন করতে হয়। একসঙ্গে একাধিক সংসার পরিচালনা করা কিংবা ডিভোর্স ও নথিপত্রে জালিয়াতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানাকে ঘিরে আলোচিত এই মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন