বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ এম
জার্মানির নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে ২০২২ সালে বাল্টিক সাগরের তলদেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন জার্মানির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। এই বহুল আলোচিত নাশকতার ঘটনায় এটিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে।
অভিযোগে অভিযুক্তের পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি, কারণ এটি জার্মানির ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলতে হয়। অভিযোগপত্রে তাকে 'সেরহি কে.' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে হামলা পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ে। তবে অভিযুক্ত সেরহি কে. এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান 'মেনাকার বার্লিন' জানিয়েছে, বুধবার তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে জার্মানির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও বার্তা সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন যে, নর্ড স্ট্রিম বিস্ফোরণের ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ডিডাব্লিউ দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই অভিযুক্ত ব্যক্তি চারটি নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের মধ্যে তিনটিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযানে সাত সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা, বিস্ফোরণ ঘটানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত গ্রীষ্মে ইতালিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে গত নভেম্বরে তাকে জার্মানির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাল্টিক সাগরের নিচে থাকা নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে, ফলে চারটি পাইপলাইনের মধ্যে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিস্ফোরণের কারণে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস বাল্টিক সাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত নর্ড স্ট্রিম অবকাঠামো কার্যত অচল হয়ে যায়। নর্ড স্ট্রিম–২ পাইপলাইন কখনো চালু না হলেও নর্ড স্ট্রিম–১-এর দুটি পাইপলাইন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করত। এই পাইপলাইনটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল যা বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে রাশিয়ার উপকূল থেকে জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর আগে নর্ড স্ট্রিম–২ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে জার্মানি। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি 'গ্যাজপ্রম' ছিল এই পাইপলাইনের শতভাগ মালিক। এর কয়েক মাস পর প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে রাশিয়া নর্ড স্ট্রিম–১-এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পরে সেপ্টেম্বরে একাধিক পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।
এখন পর্যন্ত এই নাশকতার জন্য কেউ দায় স্বীকার করেনি। ইউক্রেন সরকারও অভিযোগ করেছে তারা এই হামলায় সম্পৃক্ত নয়। তবে এই মামলার বিচার জার্মানি এবং ইউক্রেনের সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে কারণ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা প্রদান করে। বিস্ফোরণের ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার দিকে আঙুল তোলে, অন্যদিকে মস্কো যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যকে দায়ী করে। তবে তদন্তে সরাসরি জড়িত থাকা রাষ্ট্রের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউক্রেনের অনেক মানুষের মধ্যে নর্ড স্ট্রিম ধ্বংসের ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। তাদের মতানুসারে, এর ফলে রাশিয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের একটি উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই জার্মানির এই মামলার বিচার নিয়ে ইউক্রেনে আলোচনা সমালোচনা চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ পর্যায়ে সরকার একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্থাটির মহাপরিচালক পদে রদবদল করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে প্রেষণে (ডেপুটেশন) নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে জারি করা অপর এক আদেশে দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের ভৈরব নদী খননে পৌনে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখনও ন্যূনতম সুফল মেলেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, বিভিন্ন সংস্থার অপরিকল্পিত সেতু ও কালভার্টের কারণে নদীতে জোয়ার-ভাটা ফেরেনি। বরং নৌযান চলছে না। উল্টো কচুরিপানা ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে নদী। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে বারবার তাগিদ দিয়েও মিলছে না কোনো প্রতিকার।
জানা যায়, গঙ্গা থেকে উৎপত্তি হয়ে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে ঐতিহাসিক ভৈরব নদ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বাঁধ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি অবৈধ দখলে নদী একসময় নাব্যতা হারিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবির মুখে, মৃতপ্রায় ভৈরব নদীতে জোয়ার-ভাটা ফেরাতে খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি যশোরের চৌগাছা থেকে অভয়নগরের আফরাঘাট পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার নদী খননের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২৭৯ কোটি ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিপুল এই ব্যয়ের পর নদীজুড়ে এখন কেবল কচুরিপানা আর ময়লার ভাগাড় দেখা যাচ্ছে।
কেবল ময়লা-আবর্জনা নয়, খননের পরও এই নদীকে ঘিরে রয়েছে বাঁধ, অপরিকল্পিত কালভার্ট ও ব্রিজ। কিন্তু খননের আগে নদীতে জোয়ার-ভাটা ফেরানোর এবং নৌযান চলাচলের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। অথচ তার কোনো কিছুই বাস্তবে ঘটেনি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবের কারণে পুরো উদ্যোগটি ভেস্তে গেছে।
যশোর সদর উপজেলার নূরপুর এলাকার বাসিন্দা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, 'তিন-চার বছর হয়েছে আমাদের এই নদী খনন হয়েছে। কিন্তু জোয়ার-ভাটা আসে না। এমনকি পানিও সরে না। বিশেষ করে ছোট ছোট কালভার্টের কারণে নদী কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। এই জায়গায় একটি ব্রিজ হওয়ার কথা, কিন্তু সে ব্রিজটাও হচ্ছে না। সরকারি লোকজন কোনো কাজই করছে না।'
নওদাগাঁ গ্রামের এস এম সোহেল জানান, 'আমাদেরকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, এ নদীতে জোয়ার-ভাটার একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে—কিন্তু আমরা বাস্তবে তার কোনো কিছু দেখতে পারলাম না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের। সরকারি দফতরগুলো সমন্বয় করে কাজ না করায় রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা গচ্চা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা দেখছি যে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, উপজেলা পরিষদসহ যে সব সরকারি দফতর সমন্বয় করে এই নদী খননের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দূর করবে, সে সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করেনি। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে একটি বাঁধ দেয়া হয়েছে। বাঁধটা কিন্তু কয়েকটি জায়গায় একটি মাত্র নয়, নদীর অসংখ্য জায়গায় এ ধরনের বাঁধ দৃশ্যমান। এখানে দুটো ছোট কালভার্ট রয়েছে। এখান থেকে পানি সঠিকভাবে প্রবাহিতও হচ্ছে না। ইতোমধ্যে একটি কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। জনসাধারণ এখানে চলাফেরা করতে গিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি চাই সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করুক। তাহলে এই নদী খননের সঠিক সুফল পাওয়া যাবে।'
ভৈরব বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য তসলিমুর রহমান জানিয়েছেন, 'দীর্ঘকাল ধরে যশোরবাসীর আন্দোলনের পর ভৈরব নদ খনন হয়েছে। কিন্তু খননের মূল দাবি, উজানে নদীর সংযোগ, তা এখনও পূরণ হয়নি। খননের সময় এই ভৈরবের ওপরে চিহ্নিত ৫৩টি সংকীর্ণ সেতু অপসারণ করা হয়নি। যেমন আমাদের দড়াটানা, কাঠেরপুল ব্রিজ। এর ফলে ৮টি সেতু নির্মাণের কারণে মামলা হয়েছে এবং জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেছেন, 'খননের সময় নদীর তীর উদ্ধার ও দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। সবমিলিয়ে ভৈরবের যে পরিপূর্ণ সুফল পাওয়া উচিত, তা আমরা এখনো উপভোগ করছি না। এই সুফল পেতে হলে উজানে নদী সংযোগ দিতে হবে, সংকীর্ণ সেতুগুলি উৎখাত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে নির্মিত হবে তাও নদীমারা সেতু যাতে না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে। তাহলেই ভৈরব নদ পুনরুদ্ধার হবে।'
ভৈরব বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু জানিয়েছেন, 'যশোরবাসীর দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভৈরব নদ খনন জন্য ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সে টাকার অনেকটাই হরিলুট হয়েছে। খননের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে নদীর দুই পার খনন হয়েছে, মাঝখানে বুক উঁচু। আরও বড় সমস্যা হল স্থানান্তরের জন্য উজানে নদী সংযোগ করা হয়নি, ফলে খনন কার্যকর হচ্ছে না।'
তিনি বলেছেন, 'একটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় নেই। সংকীর্ণ কালভার্ট এবং সেতুর কারণে খনন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এর পরেও খনন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ফলে আমাদের নদীর যে খরস্রোতা আইন, সেটি পালন করা হয়নি। স্বাভাবিক কারণে খননের তেমন কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা মনে করি যে নদীর খরস্রোতা আইন মেনে নদীকে রক্ষা করতে উজানের মাথাভাঙ্গার সঙ্গে নদী সংযোগ করে জোয়ার-ভাটা তৈরি করার প্রয়োজন। তাহলেই ভৈরব নদীর গুরুত্ব দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ছোট ছোট খাল এবং পুরো সুন্দরবনে থাকবে। এটি কারণ ভৈরব নদী এই অঞ্চলের প্রধান নদী। এজন্য উজানের মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযোগ এবং খরস্রোতা আইন বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি এবং এ মুহূর্তেই দরকার।'
এই বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেছেন, 'আমরা স্বীকার করছি নদীর ওপর যে অপরিকল্পিত কিছু ব্রিজ ও কালভার্ট রয়েছে, সেগুলোর কারণে নদী আবার ভরাট হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে বারবার তাগাদা দিচ্ছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছি না। ভৈরবের ওপর সবচেয়ে বেশি স্থাপনা এলজিইডির। তারা কিছু উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে তা থমকে আছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি দ্রুত এসব স্থাপনাগুলো অপসারণ করা না হয়, তাহলে যশোর শহরের দড়াটানা থেকে চৌগাছার তাহেরপুর পর্যন্ত ৫৭ কিলোমিটার নদী তার সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।'
এ বিষয়ে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, 'ভৈরব নদীর ওপর এলজিইডি, সড়ক ও জনপথসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের অনেকগুলো স্ট্রাকচার আছে। এলজিইডির স্ট্রাকচারের মধ্যে আমাদের বর্তমানে বসুন্দিয়া ব্রিজ নির্মাণ জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডারে চলে গেছি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি। আর বাকি স্ট্রাকচারগুলো পুনরায় সার্ভে করে সঠিক ডিজাইন এবং ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রেখে ডিজাইন করার প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।'
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ভৈরব নদীর ওপর মোট ৫৪টি অপরিকল্পিত কালভার্ট ও ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে এলজিইডি'র ২৬টি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৪টি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের ১৯টি, রেলওয়ের একটি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের একটি এবং বিএডিসির তিনটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আজ বাড়বে নাকি কমবে, তা জানা যাবে আজ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টায় চলতি মাসের জন্য নতুন এই দাম ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত জুলাই (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, চলতি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঘোষণা করা হবে।
আজকের দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহীদ প্রকৌশলী ভবনের (৬ষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দর ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া এলপিজির নতুন দর ঘোষণা সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, ২ জুন দিন ছিল, যখন বিইআরসির পরিবর্তন অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সেই সাথে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজ দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, এমনটি জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস। এই সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা হয়ে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
দিনে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে এই তথ্য। পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ