মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)
০৪:৫১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগস্ট মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করেছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ ১৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫২৮ টাকা।
রোববার (২ আগস্ট) নতুন এই দাম ঘোষণা করে সংস্থাটি বিইআরসি।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
PKG ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলের মানুষের জীবন রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক আশ্রয়ণকেন্দ্র। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উদ্বোধনও করেন সেগুলোর। কিন্তু উদ্বোধনের চার বছর পার হলেও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ১২টি আশ্রয়ণকেন্দ্র এখনো পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনগুলোতে নেই বিদ্যুৎ, ফ্যান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এমনকি কিছু ভবনে ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে এসেও ফিরে যেতে হয় মানুষকে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে রাঙ্গাবালী উপজেলায় নির্মাণ করা হয় ১২টি বহুমুখী আশ্রয়ণকেন্দ্র বা মুজিব কেল্লা। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এসব আশ্রয়ণকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
কিন্তু উদ্বোধনের চার বছর পার হলেও অধিকাংশ আশ্রয়ণকেন্দ্র এখনো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর চাবি বুঝিয়ে দেয়নি। ফলে ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের সময় আশ্রয় নিতে এসে অনেক মানুষ ফিরে যেতে বাধ্য হন।
শুধু তাই নয়, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। কোথাও নেই বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম। এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপনের জন্য আনা কিছু মালামাল ও সোলার ব্যাটারি ঠিকাদার সরিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
(স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য)
আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবন বুঝিয়ে দিলে তখনই চাবি গ্রহণ ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি আশ্রয়কেন্দ্রের সোলার ব্যাটারিও ঠিকাদার নিয়ে গেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ভবনের দেয়ালে ফাটলের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এটি নকশাগত ত্রুটির কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(অজিৎ চন্দ্র দেবনাথ,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার রাঙ্গাবালী,পটুয়াখালী।
"দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যেই নির্মাণ করা হয়েছিল এসব আশ্রয়ণকেন্দ্র। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক বছর পরও সেগুলো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় উপকূলের হাজারো মানুষ প্রয়োজনের সময় নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ত্রুটি সংস্কার করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি আগস্ট মাসে দেশব্যাপী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্পর্কে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)।
শনিবার (১ আগস্ট) বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি) তাদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখিত তথ্যগুলো জানিয়েছে।
ওই দিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, সিলেট ও ময়মনসিংহে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বন্যার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তবে এই মাসে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। যদিও বৃষ্টির বিরতির সময়ে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে (১–৮ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে এ সময় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে।
দ্বিতীয় সপ্তাহে (৯–১৬ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করা হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে (১৭–২৪ আগস্ট) দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে ভারী বর্ষণের ফলে কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মাসের শেষ সপ্তাহে (২৫–৩১ আগস্ট) দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানাচ্ছে, চলতি মাসে ১২ আগস্ট পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ২৮ আগস্ট চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হলেও এই দুটি গ্রহণের কোনওটিই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে বর্ষায় খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর ভাঙনে ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে টানা বন্যার ফলে বান্দরবান সদর উপজেলার খোয়ালিয়া খোলা এলাকায় বসতি এবং ফসলি জমি, খেত-খামারসহ বিশাল area ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
নদী ভাঙনের কারণে কৃষি নির্ভরশীল মানুষগুলোর স্বপ্নের ফসলের জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নদীতীরে রয়েছে অনেক পরিবার, যারা এখনও আত্মীয়-স্বজন বা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও, হেডম্যানপাড়া খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, গোয়ালিয়া খোলা নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বান্দরবানের অন্যতম শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গোয়ালিয়াখোলা এলাকা ফসলি জমি, খেত-খামার ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষিভিত্তিক এ অঞ্চলের মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তাদের মতে, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় খেত-খামার ও বসতবাড়ি ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। তারা বাপদাদার সম্পত্তিগুলো হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছে। নদীভাঙনে গৃহহীন এবং ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার মানুষ। এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবারের শেষ ঠাঁই মেলে আত্মীয়-স্বজন বা অন্যের আশ্রয়ে। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু নদীর ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় ২৫০ মিটারের মতো এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে আপদকালীন কাজ জরুরি শুরু করা হবে।
এছাড়া, নদী ভাঙন এলাকাগুলো নিয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে গোয়ালিয়া খোলা এলাকায় ১ কিলোমিটার বাঁধের কাজ ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে কাজটি শুরু করা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সম্প্রতি সময়ের বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক নদী ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় বিভাগীয় প্রধানকে বলা হয়েছে, তালিকাও করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করবেন। নদী ভাঙনটা রোধ করা না গেলে আরও বেশি ভাঙন সৃষ্টি হবে এবং বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ ও পদক্ষেপ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মেরামত ও নদীতীর রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনপ্রবণ এ জেলাকে বিশেষ হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নদী সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রবাহ বাড়াতে খাল খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদী ভাঙন রোধে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের কাজের একটি তালিকা করা হচ্ছে, বলে জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ